No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বৈষম্যহীন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেন কবি তৃপ্তি সান্ত্রা 

    বৈষম্যহীন এক সমাজের স্বপ্ন দেখেন কবি তৃপ্তি সান্ত্রা 

    Story image

    তিনি স্বপ্ন দেখেন এক বৈষম্যহীন সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থার। স্বপ্ন দেখেন, শুধু একদল লোকের হাতে সব সম্পদ থাকবে আর একদল মানুষ খেতে না পেয়ে কষ্টে থাকবে তা হতে পারে না। সেই স্বপ্ন থেকেই মালদা নিবাসী কবি তৃপ্তি সান্ত্রা ৬৪ বছর পেরিয়েও লিখে চলেছেন। এ পর্যন্ত কবিতা, অনুবাদরচনা, প্রবন্ধ, গল্প সব মিলিয়ে ১৫টি বই তাঁর প্রকাশিত হয়েছে।

    ছোটোবেলায় যখন মালদার বার্লো গার্লস হাইস্কুলে পড়তেন তখন, ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণি থেকেই স্কুল ম্যাগাজিনে লেখালেখি দিয়ে যাত্রা শুরু। লেখার হাত যে আছে তা স্কুলের অনেকে উৎসাহ দিয়ে তাঁকে বুঝিয়ে দিতে থাকেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতাতে লেখা পাঠালে পুরস্কারও আসতে থাকে। সেই থেকে আর লেখালেখি ছাড়তে পারেননি। লেখালেখি বলা চলে তাঁর জীবনের চলার পথে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। এখনও দিনের অধিকাংশ সময় লেখালেখি আর পড়াশোনা করেই সময় পার করে দেন। কবি জানান, “জীবনটা আসলে একটা খোঁজ। যে যেমনভাবে পারে পার করে। আমার যাপন প্রেক্ষিতে বলতে হয়, ঠাকুর-দেবতার পিছনে আমাকে ছুটতে হয় না। সেসবে সময়ও দিই না। আমার সব কিছু হল বই। বইতেই আমার সব আশ্রয়। বহু কিছু দিতে পারে বই। আর মাটির মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করা তো আছেই।”

    তৃপ্তি সান্ত্রার গ্রন্থসমূহ 

    ১৯৮৮ সালে তৃপ্তি সান্ত্রার প্রথম কবিতার বই 'কত দীর্ঘ হলে মূল' প্রকাশিত হয়। তারপর ১৮ বছর কোনও বই প্রকাশিত হয়নি। সে সময় সংসারে অনেকটা সময় পার হয়। ১৮ বছর পর আবার বই।                          

    এ পর্যন্ত তাঁর গল্পের বইয়ের সংখ্যা চারটি। অষ্টমীটোলা, দশটি গল্প, রাত রোয়াকে বুদবুদ যাপনের ২৫ আখ্যান, অষ্টমীটোলা ও ৫০টি গল্প। দুটি উপন্যাস লিখেছেন চিরকুট, চুড়েইল। কলাম লিখেছেন- ছোপছোপ কাটাকুটি, মেয়েদের চোরাগোপ্তা স্ল্যাং, শরীর ও অন্যান্য আলাপ। দুটি অনুবাদের মধ্যে আছে- এক যে ছিল রাজকইন্যা (আ প্রিন্সেস রিমেমবারস) এবং  উত্তরবঙ্গের রাজবংশী (চারুচন্দ্র সান্যালের দ্য রাজবংশীজ অব নর্থবেঙ্গল)। কবিতার বই বেরিয়েছে চারটি- কত দীর্ঘ হলে মূল, নিষাদ কলম, তৃষার শব্দকোষ, ছোপছোপ কাটাকুটি, অমৃত লোক।

    তৃপ্তি সান্ত্রার অনুবাদের বই

    লেখালেখি তাঁকে অনেক পুরষ্কার, সম্মাননাও দিয়েছে। কবিতা পাক্ষিকের মঞ্জুষ দাশগুপ্ত নামাঙ্কিত পুরষ্কার, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ইলা চন্দ স্মৃতি  পুরস্কার, গল্পমেলা পুরস্কার, হিতেন নাগ স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কার, সান্নিধ্য স্মারক সম্মান, কবি দিলীপ তলোয়ার স্মৃতি সম্মান এবং সর্বশেষ ঐহিক সম্মাননা। এ বছরও বইমেলায় আলপথ থেকে বেরিয়েছে তাঁর গল্পের বই। ২০২০ সালে লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্রর ছোটোগল্প পুরষ্কার পাচ্ছেন তিনি। তবে কোচবিহারের মহারানি গায়ত্রীদেবীর ওপর তাঁর অনুবাদ রচনা 'এক যে ছিল রাজকইন্যা' এবং চারুচন্দ্র সান্যালের ‘রাজবংশীজ অফ নর্থবেঙ্গলের’ অনুবাদ রচনা বিভিন্ন মহলে বেশ সাড়া ফেলে। এখন তিনি ‘হোয়াই আই এম নট এ হিন্দু’র ওপর আরও একটি অনুবাদ রচনা করছেন। তিনি বলেন, আজকের ভারতবর্ষের প্রেক্ষিতে এই রকম একটি অনুবাদ রচনা প্রয়োজন বলে আমি মনে করেছি। 

    মেয়েদের চোরাগোপ্তা স্ল্যাং: শরীর এবং অন্যান্য আলাপ

    নতুন লেখকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলছেন, “নতুন যারা লেখালেখিতে আসছে তারা খুব পরিশ্রমী। আর তারা প্রচণ্ড পড়াশোনাও করে। তবে তাদের অভিজ্ঞতার খামতি রয়েছে। আমরা ছড়িয়ে বড়ো হয়েছি। পাউরুটি ডিম সেদ্ধ খেয়ে ফ্ল্যাটে বড়ো হইনি। নতুন ছেলেমেয়েরা অন্যভাবে বড়ো হচ্ছে। তবে পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই।”

    কলকাতা বইমেলায় সম্পাদক সংগীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কবি তৃপ্তি সান্ত্রা

    বর্তমান করোনা নিয়েও কয়েকটি গদ্য লেখা লিখেছেন তৃপ্তিদেবী। পরিযায়ীদের ওপর লিখেছেন কবিতা— পরিযায়ী একটি বিশেষ্য-বিশেষণ নয়। 

    পুরোনো অ্যালবাম থেকে 

    তবে তিনি বলেন, খ্যাতি- সম্মানের জন্য লেখালেখি করেননি। লেখার তাগিদে লিখেছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে মেয়েদের এরকম লেখার কথা নয়৷ তারপর স্বামী, দুই সন্তান বা সাংসারিক দায়িত্ব এবং স্কুলে  শিক্ষকতার চাকরি সামলে লেখালেখি করতে হয়েছে। মালদার একটি সরকারি স্কুলে তিনি ইংরেজির  শিক্ষিকা ছিলেন। বছর চারেক আগে চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করেন। উত্তরবঙ্গের লোক সংস্কৃতির ওপরও তাঁর কিছু কাজ রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে তাঁর অনেক বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। সেসব নিয়েও তাঁর একটি বই প্রকাশনার ইচ্ছে রয়েছে। 

    তিনি বলেন, “বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখি। সেই ভাবনাতেই লিখি আর মাটির মানুষের সঙ্গে মিশি। সাহিত্য হল সমাজের দর্পন। আমার মতো করে আমি লেখার মাধ্যমে প্রতিবাদ করি। ভাবি, একদিন বিপ্লব হবে। বৈষম্যহীন সমাজ তৈরি না হলে পৃথিবীটা ভালো থাকবে না”।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @