No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    টিফিনের পয়সা জমিয়ে কিনেছিলেন জার্মান ক্যামেরা, তিনিই এখন সকলের প্রিয় ‘সুপার টিচার’ 

    টিফিনের পয়সা জমিয়ে কিনেছিলেন জার্মান ক্যামেরা, তিনিই এখন সকলের প্রিয় ‘সুপার টিচার’ 

    Story image

    ছোটোবেলায় টিফিনের পয়সা জমিয়ে কিনেছিলেন একটি জার্মান ক্যামেরা। ছবির নেশায় পাড়ার স্টুডিওতে গিয়ে এমনিই বসে থাকতেন। কীভাবে ছবি তোলা হয়, ফ্রেম ঠিক কীরকম হবে, ফ্রেমে থাকা চরিত্রদের রং কীভাবে হিউম্যান টাচে আসবে — বসে বসে ভাবতেন। ছবি তোলার রহস্য আসলে কী? সেই নেশা আজও এই ষাট বছর পেরিয়ে যাওয়া বয়সেও ছাড়তে পারেননি। আর কৈশোরের সেই ফটোগ্রাফির নেশা আজ তাঁকে ফটোগ্রাফির একজন নামী শিক্ষকে পরিণত করেছে। আমেরিকা থেকেও এসেছে তাঁর স্বীকৃতি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে তাঁর ফটোগ্রাফির চর্চা ছড়িয়ে পড়েছে ক্রমশ। 

    ফটোগ্রাফার-শিক্ষক তীর্থ দাশগুপ্ত। বাস শিলিগুড়ির শক্তিগড়ে। শক্তিগড়ের ফ্ল্যাটে ফটোগ্রাফি শেখান। প্রকৃতপক্ষে তাঁর জন্ম শিলংয়ে। পরে চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতাতে পড়াশোনা। তবে কর্মসূত্রে জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন দিল্লিতে। সরকারি ফটোগ্রাফার হিসাবে চাকরি করলেও ফটোগ্রাফি শিক্ষা দানের স্কুলও আছে তাঁর। 

    তীর্থ দাশগুপ্তের ফটোগ্রাফি - ১

    ফটোগ্রাফির ওপর করেছেন পি এইচ ডি। ফটোগ্রাফি মানেই ঝটপট বোতাম টিপে ছবি তুলে ফেললাম বা সেলফি তুলে নিলাম, বিষয়টি ঠিক তা নয়। তাঁর কাছে ফটোগ্রাফি মানে শিল্প বা আর্টকে উপলব্ধি করা, ফটোগ্রাফি মানে বিজ্ঞানটাকে জানা। যেখানে ভিস্যুয়াল আর্ট আর ফটোগ্রাফি একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবে। ফটোগ্রাফি মানে ক্যামেরার যন্ত্রাংশ সম্পর্কে জানা। ছবি তোলার সময় আলো সম্পর্কে জানতে হবে। জানতে হবে লেন্স ও অপটিক্স ফিজিক্স সম্পর্কে। ডার্ক রুম সম্পর্কে বুঝতে হলে রসায়ন জানতে হবে। শিল্প বা আর্ট নিয়ে ধারণা না থাকলে ছবি নান্দনিক হবে না। আর এজন্য ছবি তোলার ওপর পড়াশোনা প্রয়োজন বলে মনে করেন তীর্থবাবু। তিনি বলেন, ছবি তোলার আগে নিজের চিন্তাভাবনা পরিস্কার, স্বচ্ছ ও যুক্তিসম্মত হলে ভালো ফটোগ্রাফার হওয়া যায়। 

    তীর্থ দাশগুপ্তের ফটোগ্রাফি – ২

    তীর্থ দাশগুপ্তের ফটোগ্রাফি - ৩

    পদ্মশ্রী টি কাশীনাথের সংস্পর্শে এসেছেন ফটোগ্রাফির সূত্রে। প্রাণনাথ মেহেরা, কেজি মহেশ্বরীর সংস্পর্শে এসেছেন। তবে ফটোগ্রাফি শেখেন বেনু সেনের হাত ধরে। কলকাতায় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে সায়েন্টফিক ফটোগ্রাফার হিসাবে তিনি কাজ করেছেন অনেক বছর। নিউ দিল্লিতে আইএআর আইয়ের সেন্ট্রাল ফটো ল্যাবের ফটো অফিসার ইনচার্জ হিসাবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।

    তীর্থ দাশগুপ্তের ফটোগ্রাফি - ৪

    শিলিগুড়ি শহরে তাঁর ফ্ল্যাটের একটি ঘর এখন হয়ে উঠেছে ফটোগ্রাফির সংগ্রহশালা। বহু পুরোনো দিনের ছবি থেকে শুরু করে প্রাচীন অনেক ক্যামেরাও রয়েছে। রয়েছে কাঠের ক্যামেরাও। সেসব নিয়ে তিনি কিছু দিন আগে শিলিগুড়ি দীনবন্ধু মঞ্চে এক প্রদর্শনীতেও যোগ দেন। প্রবীন এই ফটোগ্রাফি শিক্ষক বলেন। ফটোগ্রাফস কথাটি গ্রীক শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ স্কেচিং উইথ লাইট।       

    ফটোগ্রাফিতে প্রথম বাঙালি হিসাবে আমেরিকান ফেলোশিপ পেয়েছেন তীর্থ দাশগুপ্ত

    অনেকেই তীর্থ দাশগুপ্তকে ‘সুপার টিচার’ হিসাবে উল্লেখ করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু পুরস্কার রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। রয়্যাল ফটোগ্রাফি সোসাইটি অফ আমেরিকার ভারতীয় সদস্য হিসেবে   তিনি রয়েছেন সুনামের সঙ্গে। এমনকি দিল্লি ও শিলিগুড়িতে স্কুল অফ ফটোটেকনিকের ডিরেক্টর হিসাবে রয়েছেন। দিনরাত ছবির নেশায় ডুবে থাকা তীর্থবাবু বলছিলেন, ফটোগ্রাফিটা ভালো করে শিখে ছবি তুললে একটা আলাদা আনন্দ পাওয়া যায়। বদলে যায় দেখার দৃষ্টিভঙ্গি। আমাদের চারপাশে থাকা গাছপালা, ঘরবাড়ি সম্পর্কে আলাদা দৃষ্টি নতুনভাবে তৈরি হয় ফটোগ্রাফির বিজ্ঞান ও কলা জানা থাকলে। ফটোগ্রাফি বিভিন্নরকম। কতরকম যে ফটোগ্রাফি রয়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না। তবে অনেকেই আজকাল ইন্টারনেটের মাধ্যমে চটজলদি ফটোগ্রাফি শেখার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে ভালো ফটোগ্রাফি শেখা যায় না। তাঁর এখন স্বপ্ন, এতদিন যা শিখেছেন বা জেনেছেন তা নতুনদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।
     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @