শহরের বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া কিছু মুখের কথা

একা মানুষের কথা। মনে হতে পারে, বাক্যটির মধ্যে খানিক বিষাদের ছোঁয়া। কিন্তু ভাবুন তো এই একা মানুষগুলোর দিকে যখন হাজার মানুষের চোখ থাকে, তখন কি তাদের একা বলা যায়? সেই মুহূর্ত থেকে তারা কোরাস। কোরাসের মধ্যেও কিছুটা আলাদা। কারণ তাদের কিছু বলার আছে। তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মী এবং আলোকচিত্রী অর্ণব মিত্র অবিরাম ফ্রেমবদ্ধ করছেন এইসব মানুষেরই কিস্সা।
অর্ণব মনে করেন ফটোগ্রাফির মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন খণ্ডচিত্র তুলে ধরা যায়। উদাহরণ দিয়ে অর্ণব বলছেন, “ধরা যাক, আপনি রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। রাস্তায় একটি কুকুর বসে আছে। আপনি সেই কুকুরটার ছবি তুললেন। এবার সেই ছবিটার সঙ্গে বাস্তবের ছবিটাকে মেলান। দেখবেন অনেক অমিল। অর্থাৎ, ক্যামেরার একটা নিজস্ব ভাষা আছে। আমরা চোখে যা দেখি, ক্যামেরাও সেই একই জিনিস দেখে, কিন্তু অন্যভাবে প্রকাশ করে।”
আজকের সমাজে দাঁড়িয়ে ফটোগ্রাফির মধ্যে দিয়ে নতুন কিছু বার্তা দেওয়ার প্রচলন ব্যতিক্রম নয়। অর্ণব চান তথাকথিত প্রান্তিক মানুষদের কথা বলতে। যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে তাদের সংস্কৃতি এবং রাজনীতি।
অর্ণব বলেন, “মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্ব আমার ছবিতে প্রকাশ পায়। প্রাত্যহিক জীবনের চিত্রকল্পগুলোই বোধহয় মূল উপজীব্য হয়। মানুষের দিনগত পাপক্ষয় যে একটা ফ্রেমের ‘সাবজেক্ট’ হিসাবে কতখানি প্রভাব ফেলতে পারে, তা আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি।”
এই শহরের বুকে যে মুখেদের কথা আমরা ভুলে যাই। যে মুখ ম্লান। অথচ সে চোখে-মুখে প্রচুর কথা। কে শুনবে সেইসব কাব্যি? অর্ণব মিত্র ফ্রেমে আনলেন শহরের কিছু টুকরো দৃশ্য। আর রইল অজস্র মুখ। আমার। আপনার। ছবিমহলের ৭৯তম পর্বে দেখুন বাছাই করা কিছু ফটোগ্রাফি।
আলোকচিত্রী অর্ণব মিত্র