কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মল্লিক ঘাট – ফ্রেমবন্দি করলেন অনুষ্টুপ

বড়োবাজারের মল্লিকবাবুরা এই ঘাটটি নির্মাণ করেন। নয়ান মল্লিকের পুত্র রামমোহনবাবু সাধারণের জন্য এই ঘাট প্রতিষ্ঠা করেন। নয়ান মল্লিক পলাশীর আমলের লোক। নবাব কর্তৃক কলকাতা আক্রমণের পর, কলকাতার নাগরিকদের ক্ষতিপূরণের জন্য যে কমিশন বসে, নয়ান মল্লিক সেই কমিশনে ছিলেন। তিনিও ক্ষতিপূরণবাবদ ৪৩৯২২ টাকা দাবি করেছিলেন। কিন্তু কোম্পানি বাহাদুর ৫৯২২ টাকা মঞ্জুর করেন। এই ইতিহাসের সাক্ষী কলকাতার মল্লিক ঘাট। যার বর্তমান ঠিকানা স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড, বিবাদী বাগ, কলকাতা- ১। প্রতি সকালে এখানকার ফুলের রং আর গন্ধ আপনাকে পাগল করবেই। রক্ত জবা, গোলাপ, সূর্যমুখী, পলাশ, রাধাচূড়া, রংগন-সহ হাজার হাজার ফুল দেওয়া নেওয়া চলছে এখানে। কলকাতা ছাড়াও আশেপাশের এলাকার মানুষ বিয়ে, উৎসব বা পুজোর জন্য ভোরে চলে আসেন এখানে। বঙ্গদর্শনের ছবিমহল-এ আজ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মল্লিক ঘাট। অসামান্য এক একটি ছবি ফ্রেমবদ্ধ করেছেন অনুষ্টুপ রায়। অনুষ্টুপ ছবিপাগল। সময় পেলেই ক্যামেরা কাঁধে বেরিয়ে পড়েন অলিগলিতে। চওড়া রাস্তা দেখার কুর্নিশ তাঁকে পাগল করে। এখনও যাঁরা মল্লিক ঘাট যাননি তাঁরা চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। আর যাঁরা গেছেন তাঁদের কাছেও এইসব ছবি নতুনভাবে ধরা দেবে। অনুষ্টুপকে ধন্যবাদ। আসুন, গ্যালারি ঘুরি...
সাগরের ওই পারে – আরো দূর পারে
কোনো এক মেরুর পাহাড়ে
এইসব পাখি ছিল
বাদামি – সোনালি – শাদা – ফুটফুটে ডানার ভিতরে
রবারের বলের মতন ছোট বুকে
তাদের জীবন ছিল
তার পর চ’লে যায় কোথায় আকাশে?
তাদের ডানার ঘ্রাণ চারিদিকে ভাসে।
আর সেই নীড়,
এই স্বাদ – গভীর – গভীর
তাহার প্রিয়ের সাথে আকাশের পথে যেতে-যেতে
সে কি কথা কয়?
কোথাও রয়েছে প’ড়ে শীত পিছে, আশ্বাসের কাছে
শরীরে এসেছে স্বাদ বসন্তের রাতে,
চোখ আর চায় না ঘুমাতে
আকাশে পাখিরা কথা কয় পরস্পর
কথা ঋণ- জীবনানন্দ দাশ (‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থের ‘পাখিরা’ নামক কবিতা থেকে নেওয়া)