নতুন ফ্রেমের সন্ধানে ক্যামেরা কাঁধে রাস্তা পার হচ্ছেন তীর্থেন্দু

জীবন যেভাবে ছবিকে দেখায় কিংবা ছবি যেভাবে জীবনকে দেখায়- তীর্থেন্দু এই জীবন আর ছবিকে একটা রেখার মধ্যে ধারণ করে রেখেছেন। নিছক ছবি তুলতে ভালো লাগে বলেই ছবি তোলা নয় বা ক্যামেরা হাতে বেরিয়ে পড়া নয়। কিছু কথা বলার দায়িত্ব নিয়েই ফ্রেমের সন্ধানে রাস্তা পার হন তরুণ আলোকচিত্রী তীর্থেন্দু ব্যানার্জী। যদিও সবাই তাঁকে তীর্থ নামেই চেনে। তীর্থেন্দু মনে করেন দুই ধরনের ছবি হয়। যা আপনাকে একশো শতাংশ কথা বলবে। আরেক ধরনের ছবি হয় যা কিছুটা কথা বলবে, আর কিছু প্রশ্ন করবে। তীর্থেন্দু তাঁর ছবির দর্শককে প্রশ্ন করতে চান এবং তাঁর ছবির মধ্যে দর্শককে অনেক বেশি মাত্রায় সম্পৃক্ত করতে চান। তথাকথিত দেখতে সুন্দর, ঝাঁ চকচকে ছবি এই শিল্পীর জন্য নয়, তা তিনি বারবার স্বীকার করে নেন। তীর্থেন্দু মনে করেন অ্যাবস্ট্রাক্ট থেকেই যে-কোনো ভাবনা গড়ে ওঠে। নিজের মধ্যে একটা বিমূর্ত ধারণা পোষণ করা হয়, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় ফ্রেম। প্রতিটা মানুষেরই আলাদা আলাদা গল্প আছে। তীর্থেন্দু সেই গল্পগুলোই বলতে চান তাঁর ছবির মাধ্যমে। বঙ্গদর্শনের ‘ছবিমহল’ বিভাগে রইল তরুণ আলোকচিত্রী তীর্থেন্দু ব্যানার্জীর বাছাই করা সাতটি ছবি। ছবির পিছনের গল্প এবং সামনের গল্প মিলেমিশে এক হয়ে যাক। আসুন, গ্যালারি ঘুরে দেখি...
“সন্ধেবেলার ডানায় এখন সাদা তিনফোঁটা বৃষ্টিবিন্দু/ সুর নেই, তবু, দুয়েকটা গানে গলা মেলাচ্ছে ছেলেরা মেয়েরা...”
“কখন যে চাঁদ ওঠে, কখন যে মেঘ ঢেকে দিয়ে চলে যায় তোমাকে আমাকে.../ চারিদিকে বালি ওড়ে, তোমার দেহের ছায়া অন্ধকারে আরও দীর্ঘ হয়”
“মানুষ হচ্ছে এমন এক ধরনের গাছ, প্রীতিভাজুনেষু, যারা হাঁটতে পারে।”
“রাস্তার ধারে ধারে আগুন জ্বলছে/ আগুন ঘিরে বসে আছে দুজন। তিনজন। দু-তিনজন মানুষ।”
“এসেছে হাজার সিং... হাজার হাজার চারপাশে.../ তুমি কি আমার জন্যে, নদী, আজ শহরে ঢুকেছ?”
“রেডিও এখন খেলনা বাক্স প্রচার গাড়ির সামনে আসুন/ উড়তে থাকুন দূর মহাকাশে, ভাসতে থাকুন মেঘে মেঘে, একা।”
“আজ এই ডানাহীন চৈত্রের দুপুরে/ তোমার মুখের পাশে মুখহীন এই মুখ রেখে দিয়ে ভাবি/ আবার ঘুমোবে রাতে এই মুখ একদিন/ একদিন আবার গৌরব ফিরে পাবে।”
ঋণ- ভাস্কর চক্রবর্তী