No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    যে উৎসবের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন বিষ্ণুপুরের মানুষ

    যে উৎসবের জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন বিষ্ণুপুরের মানুষ

    Story image

    বিষ্ণুপুর শুধু বাংলা টপ্পা-খেয়ালের আদিভূমিই নয়, তার সঙ্গে টেরাকোটা মন্দিরের শহরও বটে। এহেন অঞ্চলের সবথেকে বড়ো উৎসব ডিসেম্বর মাসের আন্তর্জাতিক বিষ্ণুপুর মেলা। হাজার বছরের পুরোনো দুর্গাপুজোর থেকেও বেশি জনপ্রিয় এই মেলার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের অত্যন্ত ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। ৮০র দশকের শেষের দিকে এই উৎসব প্রথম শুরু হয়েছিল। জেলার হস্তশিল্প আর কুটিরশিল্পের প্রচার এবং বিপণনের উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল মেলার।

    তখন মেলাটা হত বিষ্ণুপুর রাজ দরবারের কাছে মৃন্ময়ী মন্দিরের মাঠ আর জোড়বাংলা এলাকাতে। মৃন্ময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৯৯৭ সালে। সেখানেই হয়ে থাকে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে পুরোনো দুর্গাপুজো। মেলার ভিড় এবং দূষণে যাতে হাজার বছরের মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই দিক মাথায় রেখে এক সময় মেলাটাকে বিষ্ণুপুর বাইপাসে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে মেলাটা যায় তুর্কির ডাঙায়। এখন যেহেতু বিষ্ণুপুর বাসস্ট্যান্ডকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে, তাই বর্তমানে তুর্কির ডাঙাকে ব্যবহার করা হচ্ছে সাময়িক বাসস্ট্যান্ড হিসেবে। মেলাটা এখন হয় বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের মাঠ আর কেজি কলেজের মাঠ জুড়ে। তবে এবারের মেলাতে জায়গার কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। মেলার কিছুটা অংশ বসেছিল হাইস্কুল আর কেজি কলেজের মাঠে, বাকিটা চলে গেছে ছিন্নমস্তা মন্দিরের সামনে নন্দলাল মন্দিরের মাঠে। একটা সময় এই মেলার আয়োজন করত রাজ্য সরকার, তারপর পুরসভা, এবছর কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থসাহায্যে মেলার আয়োজন করেছিল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন অর্থাৎ জেলাশাসকের দপ্তর। প্রত্যেক বছরই মেলার তারিখ থাকে একই, কোনো পরিবর্তন হয় না। এবার ৩১তম বর্ষে মেলা চলেছিল ২৩ ডিসেম্বর রবিবার থেকে ২৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। আর ২৮ তারিখ ছিল ভাঙা মেলা।

    রবিবার উদ্বোধন করেছিলেন বিষ্ণুপুর অঞ্চলের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব চিত্তরঞ্জন দাশগুপ্ত। তিনি বিষ্ণুপুর নিয়ে গবেষণা করেছেন, এবং তাঁর কিছু মূল্যবান বই রয়েছে বিষ্ণুপুর সংক্রান্ত। মেলাতে রকমারি খাবারের দোকান, নাগরদোলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলার পর্যটন দপ্তরের স্টল ছিল। ছিল জেলার হস্তশিল্প ও লোকশিল্পের শতাধিক স্টল। রেশম শিল্পের স্টল, সবজির স্টলও ছিল। আগে মেলাতে যাত্রার আয়োজন থাকত, যেটা এবার ছিল না। তবে স্টল বেড়েছে আগের থেকে। মেলার একটা বড়ো আকর্ষণ ছিল সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছিল পণ্ডিত তন্ময় বোসের ‘তালতন্ত্র’, ছিলেন ‘সহজ মা’, ছিলেন মুম্বাইয়ের প্রখ্যাত গায়ক জাভেদ আলি, আর স্থানীয় কলাকুশলীরাও মুগ্ধ করেছেন আগত মানুষকে। বিষ্ণুপুরের লোকজন সারা বছর তাকিয়ে থাকেন এই মেলাটার দিকে। যারা বাইরে কাজকর্ম করেন, তারাও ছুটি নেন এই মেলায় আসার জন্য। এর ফলে প্রচুর ভিড় উপচে পড়ে এখানে। এবছরও কাতারে কাতারে মানুষ এই মেলায় যোগ দিয়েছিলেন। আশেপাশের যারা মেলায় ঘুরতে এসেছিলেন, সময় করে তারা দেখে নিচ্ছিলেন মল্ল রাজাদের তৈরি মন্দির, দলমাদল কামান কিংবা লালবাঁধ।

    ছবি সূত্র – অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @