No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    পশ্চিমবঙ্গে মুক্তো চাষে পথপ্রদর্শক অলিনজার গুহ   

    পশ্চিমবঙ্গে মুক্তো চাষে পথপ্রদর্শক অলিনজার গুহ   

    Story image

    ঝিনুক থেকে মুক্তো চাষ। জলপাইগুড়ি জেলার বেলাকোবার গ্রামে এই চাষ শুরু করেছেন তরুণ ইঞ্জিনিয়ার অলিনজার গুহ। টানা তিন-চার বছর ধরে তিনি প্রথমে এবিষয়ে গবেষণা করেন। তারপর নেমে পড়েন কাজে। হরিয়ানার অটল সিং তাঁকে সহযোগিতা করেন। অটল সিংকে বলা যায় গোটা দেশেই মুক্তো চাষে এক পথপ্রদর্শক। 

    মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব প্রভৃতি রাজ্যে ঝিনুক থেকে কিছু কিছু মুক্তো চাষ হয়। কিন্তু এরাজ্যে সেভাবে তা হয় না। বিদেশ থেকে ভারতে বছরে ছয় হাজার কোটি টাকার মুক্তো আমদানি হয়। সেই হিসাবে মুক্তো চাষ বাড়লে ভারতে বিরাট কর্মসংস্থান এবং অনেক আয় হতে পারে। অলিনজার গুহ বলেন, এককভাবে সেল্ফ হেল্প গ্রুপ এবং সমবায়ের ভিত্তিতেও চাষ হতে পারে। 

    কিন্তু কীভাবে চাষ করতে হয়? অলিনজারবাবু জানান, তিনি ১২০ ফুট ও ৯০ ফুটের পুকুরে কাজটি শুরু করেছেন মোট এক বিঘা জমির ওপর। প্রথমে বিভিন্ন স্থান থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। তারপর ঝিনুকগুলোতে সার্জারি বা নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার সার্জারি করা যায়। তারপর সেগুলো চব্বিশ ঘণ্টা অ্যান্টিবায়োটিকে রেখে প্লাস্টিক নেটের সাহায্যে দড়ি বেঁধে পুকুরে নামিয়ে দেওয়া হয়।

    একটি ঝিনুক থেকে দুটো মুক্তো তৈরি সম্ভব

    সাধারণত ঝিনুক থেকে মুক্তো হতে ১৬ থেকে ২৪ মাস সময় লাগে। ২০ হাজার ঝিনুক নিয়ে ১৮ মাস আগে এই প্রকল্প শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে তাঁর হিসাবে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ মুক্তো তৈরি হবে। মূল প্রকল্প শুরু করতে আট লক্ষ, অন্যান্য মিলিয়ে আরও তিন লক্ষ – সব মিলিয়ে এগারো লক্ষ টাকা তাঁর খরচ হয়েছে। একটি ঝিনুক থেকে দুটো মুক্তো তৈরি সম্ভব। সেই হিসাবে  ৫০ শতাংশ ঝিনুক উৎপাদন হলে  ২০ লক্ষ টাকা তাঁর আসবে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই ২৭ তারিখে তিনি মুক্তো তুলবেন পুকুর থেকে। 

    ৩৮ বছর বয়স্ক অলিনজার গুহ ভেলোর থেকে বিটেক পাশ করেছেন। তাঁর জন্মস্থান জামশেদপুর। দিল্লিতে তাঁর আইটি কোম্পানি রয়েছে।  বিয়ের সূত্রে আসেন বেলাকোবায়। বেলাকোবাতে তাঁর শ্বশুর বাড়ি। কিছু একটা আলাদা কাজ করার ভাবনায় এই কাজে তাঁর নামা। এজন্য পড়াশোনা, গবেষণার পাশাপাশি হাতে-কলমে মুক্তো চাষ দেখতে ছুটতে হয়েছে হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের গ্রামে। সব দেখে কাজ শুরু করেন বেলাকোবার গ্রামে। আর এই মুক্তো তিনি দেবেন কোথায়, তার জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে তাঁর চুক্তিও হয়ে গিয়েছে। 

    চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি মুক্তো তুলবেন পুকুর থেকে

    তবে ঝিনুক থেকে মুক্তো চাষের সময় তাঁকে পুকুরের কিছু জিনিস নজরে রাখতে হয়েছে। যেমন জলের পিএইচ মাত্রা ৬.৫ থেকে ৮.৫ আছে কিনা, অক্সিজেন চার এর ওপর আছে কিনা, অ্যামোনিয়ার মাত্রা শূন্য থেকে .২৫ আছে কিনা। পুকুরের পরিবেশও দেখতে হয়। জলের স্তর আট থেকে দশ ফুট আছে কিনা। 

    এমনিতে দিল্লিতে থাকলেও করোনা লকডাউনের সময় থেকে বেলাকোবার গ্রামেই আছেন অলিনজারবাবু। ফলে মুক্তোর এই চাষ প্রক্রিয়ায় বেশি করে নজর দিতে পেরেছেন।  তবে এই পুকুরে রুই, কাতল, মৃগেল মাছ চাষ হলেও অন্য ক্যাট ফিস জাতীয় মাছ যাতে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে হয়। কেননা সেগুলো এই চাষে বাধা হতে পারে। 

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @