পিছিয়ে পড়া মানুষদের স্বনির্ভরতার পাঠ দেবেন চিত্রশিল্পী তাপস কর্মকার

কলকাতার যাদবপুরে তাঁর বড়ো হয়ে ওঠা। পড়াশোনার ফাঁকে সময় পেলেই রংতুলি নিয়ে বসে পড়তেন। এখন এই ৫৯ বছর বয়সে রংতুলি তো আছেই, তার সঙ্গে করোনা লকডাউনের বাড়তি সংযোজন বিভিন্ন স্কাল্পচার বা মূর্তি তৈরি। থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে বিভিন্ন মডেল বাজারে আনা।
করোনাকালীন পরিস্থিতিতে মাস্ক তৈরি করেছেন তাপসবাবু
শিলিগুড়ি আশ্রমপাড়ায় এখন বাস করেন শিল্পী তাপস কর্মকার। মূলত স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিয়ে তিনি কাজ করেন। যুক্ত আছেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে অনেক শিশু ট্রেনে উঠে ভিক্ষা করে। এখন করোনার জেরে স্টেশনে ট্রেন নেই বললেই চলে। ফলে প্ল্যাটফর্ম শিশু ও তাদের অভিভাবকদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তাই এইসব শিশুর অভিভাবকদের আগামী দিনে স্বনির্ভরতার পাঠ দিতে স্কাল্পচার বা মূর্তি তৈরি করার পাঠও দিতে চান বলে জানান তাপসবাবু।
তাপস কর্মকার নির্মিত ভাস্কর্য
ছবি আঁকাটা তাঁর নেশা ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যানথ্রোপলজিতে এম এ পাশ করেছেন। পনেরো বছর ধরে কর্মসূত্রে রয়েছেন শিলিগুড়িতে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মূলস্রোতে ফেরানোর কাজ করছেন অনেকদিন। তবে মার্চ মাসের শেষে লকডাউন শুরু হওয়ার পর করোনা তাঁকে ঘরবন্দি অবস্থায় কার্যত শিখিয়ে দিয়েছে স্কাল্পচার তৈরি, ক্যানভাস আঁকা, থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে মূর্তি তৈরি। পুট্টি বা আর্টিফিশিয়াল ক্লে দিয়ে তৈরি করেন মূর্তি। ইতিমধ্যে এসব মূর্তির অর্ডার তিনি অন্যান্য রাজ্য থেকেও পেয়েছেন অনলাইনে।
বিভিন্ন মূর্তি যেমন হেল বয়, ব্যাটম্যান, আয়রনম্যান, সুপারম্যান তৈরি করেছেন। রয়েছে পঁচিশ রকমের মূর্তি। তাঁর পুত্র পুস্কর কর্মকার এই কাজে সহযোগিতা করছেন।
অভিভাবকরা স্বনির্ভর হলে প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মূল স্রোতে ফেরানোর কাজ সহজ হবে— জানান তাপস কর্মকার
বাইপাস সার্জারি রয়েছে তাপসবাবুর। ফলে এই করোনা পরিস্থিতিতে বাড়ির বাইরে বেরনো একদম নিষেধ। কিন্তু ঘরে বসে কীভাবে পার করবেন অবসর! তাই প্রথমে মাস্ক তৈরি করে বাড়ির বাইরে লোকজন মারফৎ বিলি করেন। এরপর অবসর সময় কাজে লাগাতে শুরু করে দেন অন্যান্য মূর্তি তৈরি ও সৃজনমূলক কাজে। তাপসবাবু বলেন, নিজে ভালোভাবে এই হস্তশিল্পের কাজে পোক্ত হয়ে উঠছি। এখন ভাবছি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম শিশুর অভিভাবকদের টয় ট্রেন, চা বাগানে চা পাতা তৈরির বিভিন্ন মডেল শেখাবো। যাতে আগামীদিনে করোনা বিদায় নিলে এনজেপিতে আসা পর্যটকদের কাছে ওইসব মডেল বিক্রি করে স্বনির্ভর হতে পারে ওই সব শিশুর অভিভাবকরা। আর অভিভাবকরা স্বনির্ভর হলে প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মূল স্রোতে ফেরানোর কাজ আরও সহজ হবে।