নিজস্ব সংগ্রহ থেকে আস্ত হাট তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন সংযুক্তা বসু

শিলিগুড়ি চার্চ রোডের কাছে ম্যাঙ্গো ট্রি ভিলেজ হাট রীতিমতো জমে উঠেছে। সেই হাটে পাওয়া যাচ্ছে বেতের তৈরি পটারি, রয়েছে ডোকরার অনেক কাজ। পাশাপাশি হ্যান্ডলুমের অনেক হস্ত শিল্পও আছে হাটে। এছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে চিন ও বাংলাদেশের নকশিকাঁথা, মণিপুরের জলে উৎপন্ন ঘাস দিয়ে তৈরি নানারকম হস্তশিল্প, চিনের ইউনান প্রদেশের বাঁশের ছাঁকনি, হাতা, খুন্তি ইত্যাদি। মাটি দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত ব্ল্যাক পটারি, মাটির হাঁড়ি ইত্যাদি। সবই মূলত মহিলাদের হাটে তৈরি। পাহাড়ে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটকও ভিড় জমাচ্ছেন ম্যাঙ্গো ট্রি ভিলেজ হাটে।
এই হাট সোমবার বন্ধ থাকে। সপ্তাহের বাকি ছয়দিন দুপুর দু’টো থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা। শিলিগুড়িতে উত্তরপূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য-সহ নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান, এমনকি চিনের কিছু কিছু হস্ত শিল্পের নমুনা নিয়ে জমে উঠছে হাট। এই হাটের প্রধান কর্ণধার সংযুক্তা বসু জানালেন, “হাট শব্দটি নতুন প্রজন্মের কাছে অপরিচিত হয়ে উঠেছে। এখন সকলের কাছে মল শব্দটি পরিচিত। তাই নতুনদের কাছে হাট শব্দের পরিচিতি ঘটাতেই শুরু হয়েছে আম গাছের নিচে এই ম্যাঙ্গো ট্রি ভিলেজ হাট।”
পূর্ব ভারত থেকে শুরু করে পাকিস্তানের ইরাবতী নদীর ধার পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামের হস্তশিল্প রাখা হয়েছে এই হাটে। রয়েছে বাঁশ, বেত, কাঠ, হোগলা পাতার অনেক কাজ। শোভা পাচ্ছে বাঁশের তৈরি হরেকরকম ঝুড়ি। শুকনো পাতা পুড়িয়ে যে ছাই পাওয়া যায়, তা থেকে একরকম প্রাকৃতিক রং তৈরি হয়। সেই রং মিশিয়ে তৈরি হয়েছে মাটির কিছু পাত্র। সে পাত্রে রান্না করা নাকি বেশ স্বাস্থ্যসন্মত। পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার টাকা দামের হস্তশিল্প আছে শিলিগুড়ির এই ম্যাঙ্গো ট্রি ভিলেজ হাটে। উদ্যোক্তা সংযুক্তাদেবী জানালেন, ছোটো থেকেই তাঁর হস্তশিল্পের প্রতি নেশা। স্কুলে পড়ার সময় খুব ভালোবাসতেন হাতের কাজ। সেই নেশা আজ তাকে অন্য নেশায় নিয়ে গিয়েছে। উদ্বুদ্ধ করেছে মানুষের জন্য কাজ করতে। এই ভাবনা থেকেই এমন একটি হাট তৈরির সিদ্ধান্ত নিলেন। বিভিন্ন রাজ্য ও দেশ ঘুরে তিনি নিজেই এসব সংগ্রহ করে আনছেন। এরপর তাঁর ইচ্ছে আছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন হস্তশিল্পীদের এই হাটে এনে আরও উৎসাহিত করা।