প্রথমবারের জন্য জৈব কৃষিপণ্য বিক্রির উদ্যোগ শিলিগুড়িতে

জৈব কৃষিপণ্যের বিক্রির উদ্যোগ শুরু হল শিলিগুড়িতে। এই সাপ্তাহিক হাটে জৈব কৃষিপণ্য ছাড়া আর কোনো কিছুর প্রবেশাধিকার থাকবে না। জৈব কৃষিপণ্য উৎপাদনে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদি কোন কিছুরই ব্যবহার করা হয় না। গোবর সার, ভার্মি কম্পোস্ট, নিম বা সরষের খোল ইত্যাদির ব্যবহার হয় সার হিসাবে।
নিধি সিং তৈরি করছেন একরকমের পানীয়। আদা, পুদিনা পাতা আর লেবু দিয়ে তৈরি হচ্ছে সেই পানীয়। নিধি সিং-এর কথায়, শরীরকে দূষণ থেকে মুক্ত রাখতে এই পানীয় বেশ কার্যকরী। প্রতিদিন সকালে চায়ের বদলে এই পানীয় পান করলে মিলবে দারুণ ফল।
রাসায়নিক সার দিয়ে তৈরি শাকসবজি বাজারে এখন রমরমিয়ে চলছে। আর তা খেয়ে মানুষের রোগব্যাধি বাড়ছে ক্রমশ। তাই একদল মানুষ ঝুঁকে পড়েছেন জৈব আন্দোলনে। বহু মানুষ জৈব পদ্ধতিতে তৈরি শাকসবজি পছন্দ করলেও তা নিয়মিত কোথায় পাবেন, বুঝে উঠতে পারেন না। এই অবস্থায় শিলিগুড়ি চার্চ রোডে শুরু হয়েছে জৈব হাট। প্রতি রোববার সকাল দশটা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত বসছে এই হাট। স্টল রয়েছে ২১ থেকে ২২টি। জৈব কৃষির শাকসবজি ছাড়াও এখানে থাকছে আচার, তেল, হস্ত শিল্প। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ‘সেন্টার অব ফ্লোরিকালচার অ্যান্ড এগ্রিম্যানেজমেন্ট’ (কোফাম) এবং হিমালয়ান অর্গানিক অ্যান্ড ন্যাচারাল নেটওয়ার্কের কয়েক হাজার চাষি এই হাটের উদ্যোক্তা। কেনাকেটার সঙ্গে জৈব হাট গবেষণা ও পর্যটন সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে দেবে বলে দাবি করা হচ্ছে। আয়োজকদের মধ্যে বিশিষ্ট ভ্রমণ গবেষক রাজ বসু জানাচ্ছেন, সিকিম বা দার্জিলিং পাহাড়ে অনেক হোম স্টে রয়েছে। সেইসব গ্রামে জৈব চাষবাস হয়। যখন হোম স্টে-তে পর্যটক কম হয়, তখন তারা শিলিগুড়ির এই হাটে চলে আসছেন কৃষি পণ্য নিয়ে। উত্তরবঙ্গে এরকম হাট এই প্রথম।
সংযুক্তা বসু জানালেন, এই হাটে বিদেশি পর্যটকরাও আসা শুরু করেছেন। পরিবার নিয়ে আসছেন অনেক চিকিৎসক। জৈব চাষী মজিদ আলির কথায়, তাঁরা জৈব চাষ করলেও বাজার না থাকায় সঠিক মূল্য পান না। সেদিক থেকে এই হাট অদ্বিতীয়। জলপাইগুড়ির মান্তাদারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ললিতাবাড়ি গ্রাম থেকে এসেছিলেন কৃষক প্রদীপ রায়। তিনি জানালেন, গোবর সার বা কেঁচো সার দিয়ে তৈরি শাক-সবজি গ্রাম থেকে শিলিগুড়ি শহরে এনে তাঁরা বিক্রি করছেন। জলপাইগুড়ি দশদরগার মজিদ আলি জানালেন, জৈব পদ্ধতিতে তৈরি আলু, ক্যাপসিকাম, সাদা বেগুন তিনি এই জৈব হাটে নিয়ে আসছেন। বাজার থেকে দাম একটু বেশি। এখানে রয়েছে সবুজ ফুলকপি, পাহাড়ি লঙ্কা, পাহাড়ি কুমড়ো থেকে শুরু করে কালো চাল, নানা ধরনের ডাল, হলুদ, এলাচ, মধু, আচার, এমনকি, সরষের তেলও।
কীটনাশক আর রাসায়নিক সার নিয়ে বিশ্ব জুড়ে উৎকণ্ঠার কারণে জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে অনেকেই বিকল্পের সন্ধান করছেন। সমগ্র দেশই এখন জৈব উৎপাদনে আগ্রহী। যাঁরা জৈব চাষ করেন, তাঁরা ক্রেতা খুঁজে পান না। এই হাট দুইয়েরই মিলন ঘটাবে। আর এই ধরনের হাট জনপ্রিয় হলে কৃষক সম্প্রদায়ও উপকৃত হবেন।