শতবর্ষ প্রাচীন ‘করোনা’ টাইপ রাইটার আজ গৃহবন্দি দার্জিলিংয়ে!

করোনা ভাইরাসে থরথর গোটা বিশ্ব। বহু বহুদিন পর মানুষ ঘরবন্দি। চলছে লকডাউন। দার্জিলিং-এর পাহাড়ে ঐতিহাসিক রায়ভিলাতে কিন্তু ‘করোনা’ নামেই এক পুরোনো টাইপ রাইটার রয়েছে। কিন্তু এখন সেই করোনাকে দেখতে যাওয়ার কোনও পর্যটক নেই। সমস্ত জায়গা কার্যত বন্ধ এখন। ফলে দর্শকহীন কোলাহলহীন অবস্থাতেই রয়েছে ‘করোনা’।
দার্জিলিংয়ে ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী বাড়ি রায়ভিলা। ১৯১১ সালে দার্জিলিংয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন নিবেদিতা। সেখানে তাঁর সমাধিও হয়। নিবেদিতার স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়িতেই সযত্নে রাখা হয়েছে করোনা টাইপ রাইটার। টাইপ রাইটারটি ১৯২০ সালের। করোনা নামে একটি আমেরিকান কোম্পানির তৈরি বলে টাইপ রাইটারটির এমন নাম। চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী যখন রাজ্যপাল ছিলেন, সেই সময় নিয়মিত তিনি দার্জিলিং আসতেন। পরে অবশ্য ভাইসরয় হয়ে চলে যান অন্যত্র। কিন্তু চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারীর সঙ্গে একজন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক ছিলেন, মেজর জেনারেল পি চ্যাটার্জি। তিনিই দার্জিলিংয়ে থাকার সময় এই টাইপ রাইটারটি ব্যবহার করতেন।
১৯১১ সালে দার্জিলিংয়েই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন নিবেদিতা
‘করোনা’ টাইপ রাইটারের বিশেষত্ব হল এটি ফোল্ড করা যায়। লম্বায় পাঁচ ইঞ্চি, চওড়ায় দশ ইঞ্চি এবং উচ্চতায় আট ইঞ্চি। যুদ্ধে যাওয়ার সময় এই টাইপ রাইটার ব্যবহার করতে বেশ সুবিধা হত। রায়ভিলার শ্রীরামকৃষ্ণ নিবেদিতা শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের সম্পাদক স্বামী নিত্যসত্যানন্দ জানিয়েছেন, “এখন আমরা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। কিন্তু একশো বছর আগে ব্রিটিশ সেনারা যুদ্ধকালীন কাজে কিন্তু এই করোনা টাইপ রাইটারের সাহায্য নিতেন। যেহেতু টাইপ রাইটারটি শতবর্ষ প্রাচীন, সেই কারণে তাঁরা এটিকে রায়ভিলায় নিবেদিতার ঘরের সামনে রেখে দিয়েছেন সযত্নে। দার্জিলিং বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এই টাইপ রাইটারটি একটি দ্রষ্টব্যের বিষয়। পুরোনো হলেও এখনও সচল। যদিও কম্পিউটার চলে আসার পর ‘করোনা’কে আর ব্যবহার করা হয় না। রায় ভিলার সম্পাদক আমাদের জানিয়েছেন, পাহাড়ে এখন পর্যটক আসা যেমন বন্ধ, তেমনই তাঁরা করোনা সতর্কতার জন্য বিভিন্ন সভা, শিক্ষামূলক কর্মসূচিও স্থগিত রেখেছেন। ফলে ‘করোনা’ টাইপ রাইটার দেখার আর লোক নেই এই সময়।
‘করোনা’ টাইপ রাইটারের বিশেষত্ব হল এটিকে ফোল্ড করা যায়
ভাবলেও অবাক লাগে, করোনা আমাদের বাধ্য করেছে গৃহবন্দি হতে। সেই সঙ্গে নিজেকেও! মানুষের জন্যই তাকে দেখতে আসার লোক নেই দার্জিলিং-এ। শতবর্ষ প্রাচীন ‘করোনা’ এই অসময়ে হয়ে ওঠে আরও ঐতিহাসিক।
ছবি- প্রতিবেদক।