স্কুল খুলতেই সরস্বতী পুজো! অভিনব আয়োজন সোনারপুরে

ছবি: প্রতীকী
“ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারে। কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে। বীণা রঞ্জিত পুস্তক হস্তে ভগবতী ভারতী দেবী নমোস্তুতে।” হাত জোড় করে একমনে দেবী সরস্বতীর বন্দনা করে পুষ্পাঞ্জলি দিচ্ছে পড়ুয়ারা। ভাবছেন তো, এখনও ঢের দেরি, এই অকালে আবার কীসের সরস্বতী পুজো? অবাক করার মতো বিষয় হলেও প্রায় দুবছর পর স্কুল খোলার প্রথম দিনই ঠিক এমনটাই ঘটেছে সোনারপুরে, পড়ুয়াদের জন্য অভিনব আয়োজন করেছিল সেখানকার বৈকুন্ঠপুর বালক সংঘ।
আরও পড়ুন: স্কুল চত্বরেই ফলছে সাত রকমের জৈব ধান
পৃথিবীতে এমন কিছু শৌখিন অনুভূতির অস্তিত্ব রয়েছে, যেগুলো বদলায় না, যেগুলোর বয়স বাড়ে না, হাজারো বিবর্তনের পরও যেগুলো একইরকম থেকে যায়। নির্দ্বিধায় বলা যায়, সেই অনুভূতিগুলোর একটা- স্কুলের সরস্বতী পুজো। তবে, ২০২০-র মাঝামাঝি সময় থেকে এবছর অর্থাৎ ২০২১-এ এখনও পর্যন্ত আমরা অনেককিছুই বদলে যেতে দেখলাম। করোনার কারণে প্রায় দু’বছর ভাটা পড়েছিল স্কুলপড়ুয়াদের ‘স্বাধীনতা দিবস’ ওরফে সরস্বতী পুজো উদযাপনে। কিছুটা হলেও সেই অভাব পূরণ করেছে বৈকুন্ঠপুর বালক সংঘ। সারা বছরই সেখানে দেবীর আরাধনা চলে। মঙ্গলবার পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ পুজোর আয়োজন করে তারা। মন্দির কমিটির তরফে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, রাজ্যের মধ্যে প্রথম সরস্বতী মন্দির এখানেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বহুদিন স্কুল, কলেজ বন্ধ থাকার পর এদিন স্কুল খোলার পর ছাত্র–ছাত্রীদের মঙ্গল কামনায় বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়।স্কুল খোলার প্রথম দিনে সরস্বতী পুজোর পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার এমন অভিজ্ঞতায় খুশি পড়ুয়ারা। দীর্ঘদিন স্কুলে আনন্দ করা থেকে বঞ্চিত ছিল যেসব ক্ষুদে, কিশোর-কিশোরীরা, তারা নিশ্চয়ই মনে মনে বিদ্যাদেবীর কাছে নালিশ জানিয়েছে, ‘হে দেবী, প্রতিবছর আমাদের স্কুলে এসো তুমি, শুধু করোনাকে আর এনো না।’