No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ২০২১-এ কোন পথে কলকাতার ক্রিকেট লিগ? 

    ২০২১-এ কোন পথে কলকাতার ক্রিকেট লিগ? 

    Story image

    সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-এর একটি বিশেষ প্রবন্ধে সুদক্ষ ক্রীড়া-লেখক আয়াজ মেনন লিখেছিলেন, “ভারতীয় ক্রিকেটের আঁতুড়ঘর যদি মুম্বই হয়, তাহলে কলকাতা হলো তার হৃদয়।”

    তবে, ২০২০-র বিপর্যয়ে এখন সেই হৃদয় যে খানিক দুর্বল হয়ে পড়েছে, তা ময়দান চত্বরে একটু হেঁটে বেড়ালেই বোঝা যাবে; বিশেষত যেকোনও ক্রিকেটপ্রেমীর মন খারাপ হওয়ার পক্ষে তা যথেষ্ট। সবুজের মধ্যেও সবকিছু যেন বড্ড ফ্যাকাসে, এদিক-ওদিক ছোটখাটো অনুশীলন ছাড়া তেমন কিছু চোখে পড়ে না। আশেপাশের ক্লাবগুলোও কেমন যেন হতাশ, সবকিছু নতুন করে শুরু করার কোনও চিহ্নই নেই। অথচ, একদিন এই ময়দানেই স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছিল আবেগের ‘কলকাতা ক্রিকেট লিগ’। 

    নতুন বছর কি তবে কোনও আশার আলো দেখাতে পারবে না? ৩০ ডিসেম্বর, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি)-এর বার্ষিক সাধারণ সভায়, লম্বা ফর্ম্যাটের পরিবর্তে ২০২১-এর ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নিয়ে কিছুটা আলোচনা হয়েছিল, যাতে খেলোয়াড়দের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করা যায়। তবে কোনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি এখনও। 

    ঘটনাচক্রে, পর্যাপ্ত সুরক্ষার ঘেরাটোপে এবং দর্শকদের জন্য ‘নো-এন্ট্রি’-র ব্যবস্থা করে, ২০২০ সালের শুরুর দিকে বাংলায় ইতিমধ্যেই একটি সফল ‘টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ’ হয়ে গিয়েছে, পুরোদস্তুর লীগের অনুপস্থিতিতে যা সম্ভবত রাজ্যের ক্রিকেট প্রশাসকদের আবার সেরকমই কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি উৎসাহিত করছে।

    এ ব্যাপারে আশাবাদী ভারতের প্রাক্তন স্পিনার শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়, ভবানীপুরে একটি ক্রিকেট একাডেমি সামলান তিনি। তাঁর কথায়, “আমি যখন দুর্গাপুজোর দু’সপ্তাহ আগে আবার আমার একাডেমি খুললাম, তখন আমি নিশ্চিত ছিলাম যে বাচ্চাদের কেউই আর আসবে না, আমাকে নতুন করে  সব শুরু করতে হবে। কিন্তু, নয় নয় করে ৪৫ জন প্র্যাকটিসে যোগ দেয় এবং তারপরে আরও অনেকেই… একটি অনুশীলনও তারা বাদ দেয়নি এবং আমাদের বিরুদ্ধে কিন্তু কোভিডের কোনও মামলা হয়নি”। 

    সিএবি যদি ফেব্রুয়ারিতে কোনও টুর্নামেন্ট আয়োজন করার পথে যায়, তাহলে ক্লাবগুলোকে তৎপর হয়ে মাঠ প্রস্তুত করার কাজে লেগে পড়তে হবে। অন্যান্য বছর ম্যাচের সময় ঝলমল করত রেঞ্জার্স, বাটা, তালতলা বা ডালহৌসির মতো মাঠগুলো, খুব শীঘ্রই সেগুলোর উজ্জ্বল্য আবার ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ইডেন গার্ডেন, পুলিশ অ্যাথলেটিক ক্লাবের মতো কয়েকটি ব্যাতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ মাঠে এখনও পিচ ঢালার কাজ শুরু হয়নি। পরিচিত-প্রিয় কাঠের স্কোরবোর্ডগুলোয় মোটা ধুলোর আস্তরণ, সাইটস্ক্রিন এক কোণে ফেলে রাখা হয়েছে এবং মাঠ বড় ঘাস আর আগাছায় ভরে গেছে।

    যেহেতু বাংলার ক্রিকেটের সঙ্গে ময়দান ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই শুধুমাত্র ক্রিকেটই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা নয়, ময়দানের সঙ্গে যাঁদের রুটিরুজি জড়িয়ে, সেইসব ছোট ব্যবসায়ী-হকাররা অর্থনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে আশেপাশের ক্যান্টিনগুলোও বন্ধ রয়েছে, ফলে ময়দানকে ঘিরে ‘মিনি-ইকোনমি’র হাল বেহালই বলা চলে।

    তবে, আগের তুলনায় পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিকের দিকেই। ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরা যাকে বলে। ধৈর্য্য ধরা ছাড়া অন্য কোনও উপায় নেই এক্ষেত্রে। আসলে, ধৈর্য এমন একটি গাছ, যার সারা গায়ে কাঁটা কিন্তু, ফলটি অতি সুস্বাদু।

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @