অ্যাসিডের বোতল হাতে বাঙালিকে দেখতে চাই না

পৃথিবী যদি না ঘুরত, নতুন বছর আসত না। প্রকৃতি আমাদের পুরোনো হতে দেয় না। ৩৬৫ দিন পর পর নতুন বছর আসে। সেই তো আমাদের হে নূতন....।
বেশ কয়েক বছর আগে এক সাংবাদিক পয়লা জানুয়ারি, সেদিনই যে শিশুরা জন্মেছিল, নানা ধরনের পরিবার থেকে আসা সেই সব মায়েদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তাঁদের সন্তানদের নিয়ে তাঁরা কী স্বপ্ন দেখেন? দেখা গেল, আর্থিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন, চাহিদায় তাঁদের বিস্ময়কর মিল। সবাই চান, তাঁর সন্তান ‘শিক্ষিত’ হবে এবং ‘মানুষ’ হবে। কিন্তু সব স্বপ্ন তো পূরণ হয় না। তাই নতুন বছর নিয়ে আমার এই লেখা স্বপ্ন পূরণের নয় স্বপ্ন দেখার। যে দশটি আবেদন, দাবিও বলা যেতে পারে, আমি রাখব আগামী বছরের কাছে। জানি, তার একটিও পূরণ হবে না। কিন্তু তবু এটাই আমার স্বপ্নের চার্টার অফ ডিমান্ড। যদি এক পা-ও এগোনো যায় মন্দ কী!
১) কেক যেমন ডিম দিয়ে হয় আবার ডিম ছাড়াও হয়, দাম বেশি হোক, তবু খবরের কাগজ হোক বিজ্ঞাপন সহ ও ছাড়া। নতুন বছরে আমি সকাল বেলায় প্রতি দিন বিজ্ঞাপনের ওভারকোটের ভিতর থেকে কাগজর প্রথম পাতার খোঁজে হয়রান হতে চাই না।
২) আমি চাই রাজনৈতিক নেতারা কুকথা বলে পরিবেশ দূষণ বন্ধ করুন। আর দূষণ করলে নেতা পিছু ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে এমন আইন হোক। আর সেই টাকা দিতে হবে নেতার নিজের রোজগারের টাকা থেকে। দলের কোষাগার থেকে দেওয়া চলবে না।
৩) ময়লা শতচ্ছিন্ন সরকারি নীল পলিথিন হাওয়ায় পত পত করে উড়তে থাকবে আর পুরসভার গাড়ি হরির লুটের বাতাসা নকুলদানার মতো জঞ্জাল ছেটাতে ছেটাতে রাস্তা দিয়ে যাবে, নতুন বছরে আমি এটা দেখতে চাই না।
৪)বাড়ির কাছের অনাথ আশ্রম বা হোমে সারা বছরে এক দিনও এক হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে যায়নি, এমন লোকের মুখ আমি দেখতে চাই না ২০১৭ সালে।
৫) মুখের সামনে খৈনিতে চাপড় মাড়া ট্যাক্সি চালক দেখতে চাই না।
৬) দেখতে চাই না বাসে ঝগড়া করে, এমন ভদ্দর লোক।
৭) নানা ধরনের কুযুক্তিতে সরকারি বেসরকারি কোনও ধরনের গাছ কাটা দেখতে চাই না।
৮) ঘুরছে অথচ হাওয়া নেই। রেলের লোকাল ট্রেনের ফ্যান তৈরির কোম্পানিগুলোকে চাই না নতুন বছরেও তারা টিকে থাকুক।
৯) অ্যাসিডের বোতল হাতে বীর বাঙালি যুবক দেখতে চাই না।
১০) নতুন বছরে আমি দেখতে চাই না বস্তা কাঁধে ছোট্ট কাগজ কুড়ুনিকে রাস্তার কুকুর তাড়া করেছে।