No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    কলকাতার নিউটাউন এখন দেশের সেরা স্মার্ট শহর, পাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি

    কলকাতার নিউটাউন এখন দেশের সেরা স্মার্ট শহর, পাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি

    Story image

    লকাতার বাসিন্দাদের কাছে অতি পরিচিত নাম- নিউটাউন বা রাজারহাট (Rajarhat)। কলকাতার উপকন্ঠের এই এলাকাটি সারা বাংলার মানুষদের আকর্ষন করেছে প্রথম দিন থেকেই। সেই শহরই এবার স্বীকৃত হলো দেশের সেরা স্মার্ট সিটি (Smart City) হিসাবে। স্মার্ট শহরগুলি গড়ে তোলা হয় মূলত প্রতিষ্ঠানিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন আঙ্গিকে নাগরিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। ভারতের স্মার্ট শহরগুলি গড়ে তোলার উদ্দেশ্য, নাগরিকদের এক সার্বিক স্বাস্থ্যকর এবং উন্নত জীবন উপহার দেওয়া। এই শহরগুলিতে নাগরিক সুযোগসুবিধার প্রতিটি মানদণ্ডের (জল, বিদ্যুৎ, নিকাশি ব্যবস্থা, হাউসিং, ট্রাফিক ব্যবস্থা, সরকারি পরিষেবা, ডিজিটাইজেশন) পরিষেবাই সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। এভাবে যদিও স্মার্ট শহরকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন, কিন্তু সব শহরের ক্ষেত্রেই নাগরিক পরিষেবার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিচার্য বিষয়দুটি হলো স্বাস্থ্য ও শিক্ষা। কাজেই স্মার্ট শহরগুলিতেও এই দুটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্মার্ট শহরের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ই-গভর্নেন্স, বর্জ্য, জল এবং শক্তি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।

    রবিতীর্থ, অ্যাকশন এরিয়া-১, নিঊটাউন

    নিউটাউনে মিশ্র জমির (Mixed Land) ব্যবহার করা হয়েছে। শহরটির সমস্ত পরিকল্পনাই নাগরিক-কেন্দ্রিক। রাজপথের সঙ্গে সঙ্গে সাইকেল চালানো বা হাঁটার জন্য আলাদা জায়গা রাখা রয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে দ্রুতগামী করা এবং দূষণ কমানো। এখানে রয়েছে নাগরিক বিনোদনের জন্য বিভিন্ন স্থান, পার্ক, গ্রিন জোন, খেলার মাঠ। রয়েছে প্রশাসনিক সুব্যবস্থা, যাতে নাগরিকদের বারবার সরকারি অফিসে না যেতে হয়। 

    ডিএলএফ আইটি পার্ক, মেজর আর্টেরিয়াল রোড, নিউটাউন

    শহর কর্তৃপক্ষের রাজারহাটক-নিউটাউনকে উন্নত করে তোলার এবং শহরে সবুজায়ন ঘটানোর এই নিয়মিত প্রচেষ্টাই এবার নিউটাউনকে এনে দিয়েছে, বিল্ট এনভায়রনমেন্ট বিভাগে (Built Environment Category), দেশের স্মার্ট শহরগুলির মধ্যে সেরার স্বীকৃতি। শহরের গতিশীলতা বিভাগেও (Mobility Category) নিউটাউন পেয়েছে প্রথম স্থান। দূষণ কমানোর জন্য এখানে মোটরবিহীন যান (Motorless Vehicle) অর্থাৎ সাইকেলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, যার স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিল্ট এনভায়রনমেন্ট হলো এমন একটি নগর বা এলাকা গঠন করা নাগরিকদের কাজ করার, খেলার, বিনোদনের পর্যাপ্ত জায়গা দেবে। স্থপতিরা শহরের বিভিন্ন ভবন, নাগরিক এলাকা, ল্যান্ডস্কেপ, ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ভবন ও অন্যান্য স্থাপনাগুলি, এইসব কথা মাথায় রেখেই নির্মাণ করেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যবস্থাই একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। প্রতিটি ব্যবস্থাই কাজ করে সম্পূর্ণ শহরটিকে নাগরিকদের কাছে স্বচ্ছন্দ করে তুলতে। বিভিন্ন ধাঁচের বিল্ট এনভায়রনমেন্ট দেখা যায়। যেমন- আবাসিক প্রতিবেশিত্ব (Residential Neighbourhood), বাণিজ্যিক জেলা, শিল্পতালুক, পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিটি বিভাগের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকূলতা এবং প্রয়োজনীয়তা। সেই অনুসারেই করতে হয় সমগ্র পরিকল্পনা এবং নির্মাণকার্য। 

    মাদারস ওয়্যাক্স মিউজিয়াম, অ্যাকশন এরিয়া-২, নিউটাউন

     

    কেন্দ্রীয় প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (Central Press Information Bureau) ঘোষণা করেছে যে, নিউটাউনকে (Newtown) আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর, ইন্দোরে, এই পুরস্কার প্রদান করা হবে। পুরস্কার প্রদান করবেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। পশ্চিমবঙ্গ হাউসিং ইনফ্রাসট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের (WBHIDCO) চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন, এই খবরে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত।

    তবে, নিউটাউনের জন্য এটিই প্রথম স্বীকৃতি নয়। ২০২৩ সালেই, অর্থাৎ এই বছরেই নিউটাউনের ঝুলিতে ইতিমধ্যেই এসেছে তিনটি পুরস্কার- বছরের সেরা স্মার্ট সিটি-র পুরস্কার (মার্চ, ২০২৩), একটি গ্রিন অফিস ভবনের জন্য সেরা গ্রিন বিল্ডিং প্রোজেক্টের পুরস্কার (মার্চ, ২০২৩), অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহারের জন্য স্মার্ট এনার্জি প্রোজেক্ট পুরস্কার (মার্চ, ২০২৩)।

    নিউটাউনের এইসব স্বীকৃতির পিছনে নিশ্চিতভাবেই রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগ ও কর্মপ্রচেষ্টা। রয়েছে হিডকো চেয়ারম্যান দেবাশিস সেনের অবদান। সেই কারণেই নিউটাউন আজ এই জায়গায় এসে পৌঁছাতে পেরেছে এবং তার জন্য অপেক্ষা করে আছে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। 

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @