নেতাজি সম্পর্কিত ৩০৩টি গোপন ফাইল পড়া যাচ্ছে অনলাইনে

নেতাজি (Netaji) সংক্রান্ত ৩০৪টি ফাইল পাঠানো হয়েছিল জাতীয় মহাফেজখানায়। জানিয়েছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। তার মধ্যে ৩০৩টি ফাইল আপলোড করা হয়েছিল অনলাইনে, ২০১৯-এর ডিসেম্বর মাসে।
বেশ কয়েক বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার নেতাজি সংক্রান্ত ৬৪টি ফাইল (Netaji Files) প্রকাশ করেছিল। সেই ফাইলগুলি মানিকতলায় কলকাতা পুলিশের মিউজিয়ামে গিয়ে যে কেউ দেখতে পারেন। কেন্দ্রীয় সরকারও বেশ কিছু নেতাজি সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশ করে। তবে সব ক’টি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কেন্দ্রীয় সরকার প্রকাশ করেনি। বাকি ফাইলগুলি প্রকাশ্যে আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছিল।
এরই মধ্যে ২০১৯ সালে লোকসভায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, সরকারের কাছে থাকা নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজ সংক্রান্ত ৩০৪টি গোপন ফাইল জাতীয় মহাফেজখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ৩০৩টি ফাইল আপলোড করে দেওয়া হয়েছে নেতাজি ওয়েব পোর্টালে। www.netajipapers.gov.in ওয়েবসাইটে গিয়ে যে কেউ সেগুলি পড়তে পারবেন। যদিও, এই ফাইলগুলিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যেগুলি নেতাজির মৃত্যুরহস্যের ওপর আলোকপাত করতে পারে।
তবে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে জাপান সরকারের কূটনৈতিক স্তরের যে আলোচনা হয়েছে, তাতে রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত চিতাভস্মের প্রসঙ্গ উঠেছে বলে জানা গিয়েছিল। রেনকোজি মন্দিরের চিতাভস্মের ডিএনএ পরীক্ষা করানোর জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনও হয়। জানানো হয়েছিল, সেই চিতাভস্মের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হতে পারে ইংল্যান্ড বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো তৃতীয় কোনো দেশের ল্যাবরেটারিতে। অনেকে মনে করেন, জাপানের রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত অস্থিভস্ম আসলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর। কিন্তু তা ভাবনার পর্যায়েই থেকে গিয়েছে, বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রসঙ্গত, কিছু মাস আগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Subhaschandra Bose) নিয়ে তোলপাড় হয়ে উঠেছিল জাতীয় রাজনীতি। কখনও ট্যাবলো বিতর্ক আবার কখনও হলোগ্রাফিক মূর্তি উধাওকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এমনকি জানা যায়, চিন, রাশিয়া, জাপান, আমেরিকা, ব্রিটেন প্রভৃতি দেশে নেতাজি সম্পর্কিত বহু তথ্য রয়েছে। এছাড়াও, জাপানে থাকা চিতাভষ্ম আদৌও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর কিনা তা নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। এই সমস্ত তথ্য বা ফাইল বিদেশ থেকে ভারতে আনার ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার কেন উদ্যোগ নিচ্ছে না? এ প্রশ্ন আপামর ভারতবাসীর।
(নেতাজি ফাইল সংক্রান্ত প্রথম প্রতিবেদনটি বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত হয়েছিল ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ সালে।)