No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    “মোবাইলে ফিল্ম বানানো আমার ব্যক্তিগত মজা”

    “মোবাইলে ফিল্ম বানানো আমার ব্যক্তিগত মজা”

    Story image

    প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য দুচোখে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে সিনেমা বানানোর নেশায় বহরমপুর থেকে কলকাতা এসেছিলেন একসময়। মোবাইলে সিনেমা বানানো দিয়ে পথ চলা শুরু হয়। একের পর এক টেলিছবি করেছেন। ২০১৩ সালে তাঁর পরিচালিত ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ সেরা বাংলা ছবি হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পায়। রূপকলা কেন্দ্রের ছবি সম্পাদনা বিভাগে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও শর্ট ফিল্ম, ডকু ফিল্ম, সম্পাদনা বিভিন্ন সময় নিজেকে নানা কাজে ব্যস্ত রেখেছেন। পুরোনোকে ফিরে দেখা এবং আগামী ছবি ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ প্রসঙ্গে নানারকম কথা বললেন বঙ্গদর্শনের প্রতিনিধি সুমন সাধু’র সঙ্গে। 

    • ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’, ‘গোয়েন-দা’, ‘ঢেউ’, তারপর ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’- মাঝে এতটা গ্যাপ কেন?

    এটাকে ঠিক গ্যাপ বলে মনে করি না। একটা ছবি থেকে আরেকটা ছবি করতে সময় তো লাগবেই। আর গ্যাপ বলতে ছবির গ্যাপ, আমার কাজের কোনো গ্যাপ নেই। শর্ট ফিল্ম, ডকু ফিল্ম করেছি, এডিট করেছি। একটা ছবি নিজের মতো করে ঠিকঠাক বানাতে গেলে একটু সময় দিতে হবে। সেই সময়টাই দিয়েছি।

    • আপনার পুরোনো টেলিছবি থেকেই দেখে আসছি প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের ছবি মানেই ঋত্বিক চক্রবর্তী থাকবেনই। আপনি কি ঋত্বিককে শুরু থেকে ভেবেই স্ক্রিপ্ট বা চরিত্র লেখেন?

    কিছু কিছু তাই-ই লিখি। তাছাড়া শুধু ঋত্বিক নয়, অপরাজিতা থাকে, অমিত সাহা থাকে, কৌশিক থাকে, আমাদের বহরমপুরের দু-একজন থাকেন...এটা একেবারে প্রথম থেকেই। পরিচিতদের নিয়ে কাজ করতে মজাই লাগে।

    • এটা কি একটা কমফর্টেবল জোন তৈরি করা?

    হ্যাঁ সেটা তো অবশ্যই। তাছাড়া স্ক্রিপ্ট লেখা থেকে এডিটিং সবেতেই তারা থাকে। আমাদের আলোচনা হয়, নানারকম ভাবনা পাওয়া যায়। তো এটাই ব্যাপার।

    • আপনার ছবি বানানোর শুরুটা মোবাইল থেকে হয়েছিল। এখনও মাঝে মাঝে ফোন থেকে নানারকম শট তোলেন। তো এখনও কি মোবাইলে সিনেমা বানানোর ভালবাসাটা রয়ে গেছে?

    হ্যাঁ, তুমি হয়ত দেখেছ মাঝেমাঝেই ইউটিউবে নানারকম শট তুলে আপলোড করি। এটার মধ্যে তো ভালবাসা রয়েই গেছে। কারণ এখানে সবটাই আমি একা করি। ক্যামেরা হোক বা সাউন্ড, এডিটিং- কোনো কাজেই কারোর প্রতি নির্ভর করতে হয় না। একটা ওয়ান ম্যান ইউনিট। এটা গল্প লেখা বা কবিতা লেখার মতো। আর বড় ফিল্ম মেকিং-এ কাস্ট, ক্রিউ, প্রোডিউসার সবাইকে হ্যান্ডেল করে ছবি বানাতে হয়। সেটাও এক ধরনের মজা। মোবাইলে ফিল্ম বানানো আমার ব্যক্তিগত মজা। যখন যেরকম চোখের সামনে দেখি, শট নিয়ে নিই মোবাইলে।

    • ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ ২০১৩ সালে মুক্তি পাবার পর তেমন কোনো হল পায়নি। কিন্তু এখন অনেক নতুন পরিচালকরা এসেছেন, ছবি বানাচ্ছেন এবং কেউ কেউ দর্শকদের হাততালিও কুড়োচ্ছেন। অনেক পরে ইউটিউবের মাধ্যমে ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু এত দেরি কেন? আলাদা করে আপনার কোনো ক্ষোভ আছে?

    ক্ষোভ নয়, তখন একটা দুঃখ ছিল। এখন আর নেই। এখন অনেক মানুষ ছবিটা দেখে নিয়েছেন। এবার একটা ছবি বড় স্ক্রিনে দেখলে তো অন্যরকম দেখতে লাগে, সেটা এক্ষেত্রে হয়নি। এই দুঃখটা রয়ে গেছে। ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’ বেশিরভাগ মানুষ মোবাইল কিংবা ল্যাপটপে দেখেছেন। যাঁরা সেইসময় বড় স্ক্রিনে দেখেছিলেন, আমার মনে হয় তাঁদের ছবিটা অন্যরকম লেগেছিল। 

    • হঠাৎ করে শ্রীকান্ত নিয়ে ছবি বানানোর কথা মাথায় এল কেন, যেখানে ভারতীয় ছবিতে ইতিমধ্যেই অনেকগুলো কাজ হয়ে গেছে? নতুন কিছু বলতে চাইছেন?

    না হঠাৎ করে নয়। এটা বাকিটা ব্যক্তিগতরও আগের কথা। আমার একটা ডায়েরি আছে, তাতে অনেক কনসেপ্ট একলাইন করে লেখা আছে। তার পাশে পাশে লেখা থাকত কোনটা ডিজিটাল হবে, কোনটা টেলি হবে, কোনটা শর্ট, কোনটা ডকু। প্রায় একুশ বাইশটার মতো নাম্বারিং করা আছে। তার মধ্যে শ্রীকান্ত ছিল। মাধ্যমিকের মধ্যেই উপন্যাসের পুরোটা পড়ে ফেলেছিলাম। তখন থেকেই খুব প্রিয় ছিল। তো এখন ভাবলাম আমার মতো করেই তৈরি করা যাক। আর নতুন কিছু বলতে এখানে শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত খানিকটা আছে, তারপর আমি আমার মতো করে তৈরি করেছি। এই সময়ের শ্রীকান্ত। আর দু-একটা চরিত্র নতুন সংযোজিত হয়েছে। প্রত্যেকে এখনকার চরিত্র। আবার কিছু ওইসময়কার ফিল রাখারও চেষ্টা করেছি।

    • এই ছবির শুভমুক্তি কবে?

    জানুয়ারির শেষ করে হয়ত।

    • আমি আমার ছোটোবেলাতে প্রচুর টেলিছবি দেখতাম। আপনারও প্রচুর কাজ দেখেছি সেসময়। কিন্তু এখন টেলিছবি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল কেন? শুধুমাত্র সিরিয়ালের জন্য?

    সিরিয়াল তো একটা বড় কারণ। তখনও মেগা হত, কিন্তু টেলিফিল্মে মানুষ অন্য একটা স্বাদ পেতেন। প্রতি সপ্তাহে ফ্রেশ একটা করে কাজ দেখছেন, নতুন নতুন গল্প দেখছেন নিয়ম করে। এবার এখন টিভিতেই সমস্ত সিনেমা তুমি দেখে নিতে পারছ এবং খুব তাড়াতাড়ি। ফলত আলাদা করে টেলিফিল্ম করার জন্য বা দেখার জন্য কেউ বসে নেই। আর কোনো প্ল্যাটফর্ম বা চ্যানেলও নেই এখন। আর মানুষ এখন কেচ্ছা কেলেঙ্কারি দেখতে ভালোবাসছেন। জোর করে দুঃখ দেওয়া। টেলিভিশন মানে আর কিছু থাকুক না থাকুক, কান্না দিতেই হবে। সিনেমার পক্ষে সেটা সম্ভব না। তাছাড়া এখন ওয়েব চ্যানেল চলে আসার ফলে নতুন একটা মিডিয়াম তৈরি হয়েছে। সেখানে বেশকিছু এক্সপেরিমেন্টাল কাজ দেখতে পারো, যা হয়ত টেলিফিল্মেও পাবে না। 

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @