No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    রানি ভিক্টোরিয়ার চিঠি-সহ নানান ঐতিহাসিক দ্রব্যে সমৃদ্ধ বড়শুলের জমিদার বাড়ির সংগ্রহশালা 

    রানি ভিক্টোরিয়ার চিঠি-সহ নানান ঐতিহাসিক দ্রব্যে সমৃদ্ধ বড়শুলের জমিদার বাড়ির সংগ্রহশালা 

    Story image

    পূর্বরেলের বর্ধমান-হাওড়া মেইন ও কর্ড লাইনের জংশন শক্তিগড় স্টেশন। এখান থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার পথ বড়শুল গ্রাম। সেখানেই এক সময়কার বিখ্যাত জমিদার দে পরিবারের বাড়িতে গড়ে উঠেছে ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা। এই জমিদারির পত্তন হয়েছিল নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ’র আমলে। এই জমিদার বাড়ি্র শেষ জমিদার ছিলেন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের সদস্য রায় সাহেব গোপেন্দ্রকৃষ্ণ দে। এই দে বাড়িরই বংশধর হিমাদ্রী শংকর দে। এলাকায় টুটুল নামেই পরিচিত। পেশায় ছোটোখাটো ব্যবসায়ী। তবে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আকর্ষণে একক প্রচেষ্টায় হিমাদ্রীবাবু এই সংগ্রহশালা তৈরী করেছেন। তাঁর বাবার স্মৃতিতে নাম দিয়েছেন ‘শুভেন্দু মোহন দে ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা’।


    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় থেকে ষষ্ঠ জর্জের আমলের বহু মূল্যবান দলিলপত্র ওই সংগ্রহশালায় রয়েছে। আছে দুষ্প্রাপ্য দ্রব্য সম্ভার। সংগ্রহশালার অনেক জিনিস তাঁদের জমিদার পরিবারের হলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কোনও অংশে কম নয়। হিমাদ্রী শংকর দে সেগুলি সযত্নে রেখেছেন বলেই কৌতুহলী মানুষ অজানাকে জানতে পারছেন। পাশাপাশি, গবেষণার রসদ খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই। সংগ্রহশালার ভিতরে ঢুকলে ঐতিহাসিক সামগ্রী দেখে বিস্ময় জাগে। ইংল্যান্ডে ছাপা এক ইঞ্চি বাই এক ইঞ্চি সাইজের অভিধান। ম্যাগনিফাইন গ্লাস দিয়ে প্রত্যেকটি অক্ষর স্পষ্টভাবে পড়া যায়। এই শব্দকোষটি বর্ধমান রাজপরিবারের সদস্য এস এস নন্দে দান করেছেন। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে রায় সাহেব গোপেন্দ্রকৃষ্ণ দে উপহার পেয়েছিলেন অনেক কিছুই। তার মধ্যে আশ্চর্যের জিনিস হ’ল একটি চাল। যার উপর ১০২টি অক্ষর লেখা আছে। মুঘল আমল থেকে আধুনিক সময়ের বহু মুদ্রার সংগ্রহ রয়েছে হিমাদ্রীবাবুর সংগ্রহশালায়। ভালো লাগবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় থেকে ব্রিটেনের রাজা ষষ্ঠ জর্জের সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পোস্ট কার্ড। 


    ডাক টিকিটের বিশাল সংগ্রহ চোখে পড়ার মতো। সংগ্রহশালায় রয়েছে তালপাতার ও তুলোট কাগজের অত্যন্ত প্রাচীন পুঁথি। বর্ধমান মহারাজের আমলের একটি টাইপ মেশিন, সিগারেটের অদ্ভুত বাক্স, পিরিদানি, যুক্তবাটখাড়া, বিরাট আকৃতির তালাচাবি, প্রাচীন ঘড়ি, হরিণের সিং, বহনযোগ্য কলের গান, ডোকরা শিল্পের নিদর্শন, জ্যোতির্বিদ্যার কিছু জিনিষপত্র, হ্যারিকেন, টানা পাখার হাতল-সহ আরো কত কি। এবং পত্রপত্রিকার সংগ্রহও দেখার মতো। ১৯০৩ সালের দাশরথি রায়-এর পাঁচালী, কবিকঙ্কন মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গল, শতবর্ষপ্রাচীন মহিলাদের দ্বারা প্রকাশিত পত্রিকা ‘অন্তঃপুর’, রানি ভিক্টোরিয়ার ব্যক্তিগত চিঠি, তাদের জমিদার বাড়িতে পাঠানো বর্ধমানের মহারাজ উদয়চাঁদ ও বিজয়চাঁদ মহতাবের স্বাক্ষরিত চিঠি। দুই আলমারি ভর্তি মূল্যবান গ্রন্থের সম্ভার, হিজ মাস্টার্স ভয়েজের ১৯৩২ সালের বাংলা গানের তালিকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পরের দিনে প্রকাশিত বাংলা প্রথম শ্রেণির দৈনিক পত্রিকা। 

    রয়েছে ১৯৩৫ সালে মাছের আঁশ দিয়ে তৈরী একটি ফুলদানি, হিমাদ্রীবাবুর ঠাকুরমা নির্মলা সুন্দরী দেবীর হাতে তৈরী এই শিল্প সামগ্রী বর্ধমান ইন্ডাসট্রিয়াল অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সিবিশনে প্রদর্শিত হয়ে ফার্স্ট ক্লাস সার্টিফিকেট পায়। সেই সার্টিফিকেট সংগ্রহালয়ে বাঁধানো রয়েছে। ইতিমধ্যেই গান্ধি মিউজিয়ামের অধিকর্তা, এশিয়াটিক সোসাইটির কর্তাব্যক্তি, রাজ্যের মন্ত্রী-আমলা অনেকেই এই সংগ্রহশালা পরিদর্শন করে সুখ্যাতি করেছেন। এই অবস্থায় হিমাদ্রীবাবুর তৈরী সংগ্রহশালা রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে স্থান পেতেই পারে।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @