পাহাড়ি বাঁক এবং বৃষ্টির রং সায়নী চক্রবর্তীর ছবিতে

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সমস্যাপূরণ’ গল্পে লিখছেন, “বর্ষাকালে নদী পরিপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। কতক নৌকায় এবং কতক ডাঙায় কেনাবেচা চলিতেছে, কলরবের অন্ত নাই। পণ্যদ্রব্যের মধ্যে এই আষাঢ় মাসে কাঁঠালের আমদানিই সবচেয়ে বেশি, ইলিশ মাছও যথেষ্ট। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া রহিয়াছে; অনেক বিক্রেতা বৃষ্টির আশঙ্কায় বাঁশ পুঁতিয়া তাহার ওপর একটা কাপড় খাটাইয়া দিয়াছে।” বর্ষা নিয়ে এরকম বহু কবিতা, উপন্যাস, গান, নাটক। আঁকিয়েরা তাঁদের রঙের জাদুতে তৈরি করেছেন বর্ষার নৈসর্গিক ক্যানভাস। কিংবা আলোকচিত্রীরা রাস্তা থেকে রাস্তা, পাহাড় থেকে পাহাড় ঘুরে বেরিয়েছেন হাতে ক্যামেরা নিয়ে। সেরকমই কিছু ছবি তুলে দেওয়া হল আজকের ছবিমহলের গ্যালারিতে। প্রত্যেকটি ছবি বর্ষাকেন্দ্রিক। আলোকচিত্রী সায়নী চক্রবর্তী। আজ গ্যালারি জুড়ে পাহাড়ি বৃষ্টি হোক।
আরও পড়ুন
আজকের ছবিমহল রং পাক চিরন্তন ভালোবাসার
পাথরপ্রতিমা তাই পাথরে রেখেছে সাদা মুখ/ আর তার চারধারে ঝরে পড়ে বৃষ্টি অবিরল
আমিও ভেঙেছি কিছু, ছোট মাপে/ এই ধরো জলের গেলাস/ বৃষ্টির ভিতরে হেঁটে শ্রাবণের কিছুটা ভেঙেছি
অন্তরের পথঘাট এবার বর্ষায় গেছে ভেঙে/ খোয়া-খল ছড়িয়ে রয়েছে/ হাঁ-খোলা নয়ানজুলি উঠে এসে বসেছে সমূহ বুক জুড়ে
যখন বৃষ্টি পড়ে তখন গাছের নীচে দাঁড়াই একলা/ দূরে মাঠের ওপারে মাঠ শূন্য ঝাপসা/ বৃষ্টি থেকে বৃষ্টি আসে
মাটি ফুঁড়ে গন্ধ উঠছে কৈশোরের। বাংলা টিনটিন,/ শঙ্কুর শনির দশা, কাকাবাবু-সন্তু কিংবা এনিড ব্লাইটন.../ এত তীব্র অসময়ে কী করে বর্ষা এল, বলো!
সে হাতে কোনও দিন গরম চা,/ কখনও নীল পেন, সাদা কাগজ।/ স্কুটার ছুটে যাওয়া তেপান্তর/ ভিজিয়ে দিয়েছিল শ্রাবণমাস
মেঘপিওনের ব্যাগের ভিতর মনকেমনের দিস্তা/ মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়, ব্যাকুল হলে তিস্তা
কিন্তু তুমি নেই বাহিরে, অন্তরে মেঘ করে/ ভারী ব্যাপক বৃষ্টি আমার বুকের মধ্যে ঝরে
শব্দঋণ- শঙ্খ ঘোষ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, পিনাকী ঠাকুর, ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং রাকা দাশগুপ্ত।