ঐতিহ্যশালী সাবেক ভোজশালা হিসেবে বিশেষ ফলক শহরের ৩ রেস্তরাঁকে

অবিরাম বর্ষণের মধ্যেই পুরোনো উত্তাপের ছোঁয়া পেল ২০২১-এর কলকাতা—পার্ক স্ট্রিট। ২০১৯-এই মিলেছিল হেরিটেজ তকমা, এ বার শহরের ঐতিহ্যশালী সাবেক ভোজশালা হিসেবে বিশেষ ফলক বসল তিনটি রেস্তরাঁয়।
লন্ডনে পুরোনো বাড়ির গায়ে ‘ব্লু প্লাক’ বা নীল ফলকের কথা অনেকেই জানেন, সেখানকার ঐতিহ্যবাহী গর্বের স্মারক এটি। অনেকটা সেই ধাঁচেই এদিন শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষেত্র হিসেবে ফলক পেল ‘প্যারিস অফ ইস্ট’ অর্থাৎ পার্ক স্ট্রিটের তিন রেস্তরাঁ—ট্রিঙ্কাজ, মোক্যাম্বো এবং কোয়ালিটি। তিনটি রেস্তোরাঁই চালু হয়েছিল পঞ্চাশের দশকে বা তার গা ঘেঁষে। ট্রিঙ্কাজ ছাড়া মোক্যাম্বো, কোয়ালিটির কর্ণধারেরা দেশভাগের সময়ে পাক মুলুক ছেড়ে কলকাতায় এসেছিলেন।
১৯৫৬ থেকেই মোক্যাম্বোর অন্দরসজ্জা এক। জার্মান স্থপতি মেসারসমিড কাজটা করেন। ডেভিল্ড ক্র্যাব, প্রন ককটেলের ধাঁচও বদলায়নি। অন্যদিকে, টি রুম ও কনফেকশনারি হিসেবে এক সুইস দম্পতির হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল পার্ক স্ট্রিট এলাকার বিখ্যাত বার/ রেস্তোরাঁ ট্রিঙ্কাজের। তাঁদের পদবীর নামানুসারেই নাকি এমন নামকরণ। যদিও সেই দম্পতির নাম জানা যায় না। ১৯৫৯ সালে হাত বদল হল। ওম প্রকাশ পুরী ও এলিস জোশুয়া নেন ট্রিঙ্কাজ। তারপর থেকেই ট্রিঙ্কাজের ব্যবসায় রমরমা। রেস্তোরাঁর পাশাপাশি লাইভ মিউজিকেরও আয়োজন করেন তাঁরা। আর এক সাবেক রেস্তোরাঁ কোয়ালিটিরও শেকড় অনেক গভীরে। কোয়ালিটির প্রবীণ কর্তা, ৮৬ বছরের বলদেবকৃষ্ণ ঘাই। তাঁর দাদা প্রেমনাথের হাতে রেস্তরাঁ শুরুর সময়ে তিনি সবে সতেরো। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ বা ইনট্যাকের উদ্যোগে এ শহরের (১৯৬০-এর আগের) ১৪টি পুরনো রেস্তোরাঁ রয়েছে ঐতিহ্য স্বীকৃতির তালিকায়। ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ বা বহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কো আগেই ভোজ ঘরানা বা অশন-সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেমন প্রাচীন মেক্সিকান বা ভূমধ্যসাগরীয় রান্নার ধারাও ঐতিহ্য বলে ধরা হয়। শহরের নামী, অনামী আরও বেশ কিছু খাবারের দোকানকেও স্বীকৃতি দিতে চায় ইনট্যাক। আনন্দের খবর হল, এ দেশে সবার আগে কলকাতাতেই এই কাজটা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: সংস্কারের পথে কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি
জানা যাচ্ছে, ইউ চু, কে সি দাশ, সাবির থেকে আরও উত্তরে ভীম নাগ, প্যারামাউন্ট, কফিহাউস, দিলখুসা, নকুড়, নিরঞ্জন আগার, অ্যালেন কিচেনের মতো ঠিকানাতেও ফলক বসবে। মল্লিকবাজারের সিরাজও আছে তালিকায়। পুরনো রেস্তরাঁগুলির বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ফলকে জন্মসালও লেখা হচ্ছে। তবে বেশ কিছু পুরনো রেস্তরাঁর শুরুর সময়ের নথি পেতে জটিলতাও কম নেই। যেমন ফ্লুরিজ, নাহুম বা চিৎপুরের রয়্যালের থেকে নথি জোগাড়ের কাজ চলছে।