দুই বাঘিনীর স্বয়ম্বর, পাত্র আসছে পাটনা থেকে

দুই বাঘিনীর বিয়ে। না না, ধর্মমতে বা আইনি-মতে নয়। বাঘ-জগতের নিজস্ব গান্ধর্বমতেই বিয়ে। আর সেই জন্য পাত্তর খুঁজতে উঠে পড়ে লেগেছেন আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। মুক্ত বন হলে তারা নিজেরাই পছন্দের পাত্র খুঁজে নিতে পারত। কিন্তু, চিড়িয়াখানার বদ্ধজীবনে সে সুযোগ কই? এদিকে প্রজননের ঋতুও দোরগোড়ায়। অতএব, পায়েল আর রানির জন্য পাত্র জোগারে তৎপর হয়েছেন আলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ।
এমন নয়, পায়েল আর রানি যুবতী। কিংবা, তাদের এটাই প্রথম প্রজনন ঋতু। দুজনেই নয় নয় করে দশটা বছর পার করে ফেলেছে। কিন্তু, এখনো তাদের সন্তানধারণ ক্ষমতা লোপ পায়নি। প্রথমে দুজনের সঙ্গে বিশাল নামের একটি বাঘের মিলন ঘটানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু বিশাল যতই পায়েল কিংবা রানির কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করুক না কেন, দুজনের কেউই তাকে পাত্তা দেয়নি। দুজনের রুচি এমনই। ফলে, বাধ্য হয়েই উত্তরবঙ্গের বেঙ্গল সাফারি পার্ক থেকে নিয়ে আসা হয়েছে স্নেহাশিসকে। স্নেহাশিস আগে অবশ্য ছিল ওড়িশার নন্দনকাননে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে সে যাতে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে, আপাতত সেই ব্যবস্থাই চলছে।
কিন্তু, স্নেহাশিসকেও যদি পছন্দ না হয় পায়েল আর রানির। তার জন্যও বদলি ভেবে ফেলেছেন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। ঠিক হয়েছে পাটনা চিড়িয়াখানা থেকে নিয়ে আসা হবে আরেকটি পুরুষ বাঘ। বয়স পাঁচ বছর। কর্তৃপক্ষের আশা, এহেন স্বয়ম্বর সভা আর মোটে বিফলে যাবে না।
পাটনা থেকে এই বাঘের সঙ্গেই আসছে একজোড়া শম্বর আর একজোড়া ব্ল্যাকবাক হরিণ। আলিপুর থেকে বিনিময়ে তাদের দেওয়া হচ্ছে একটি জেব্রা।
পুরুষ সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাঘিনীরা এমনিতেই খুব খুঁতখুঁতে। অনেকটা সময় নিয়ে যাচাই করে তারা মিলনসঙ্গী বেছে নেয়। ফলে, পায়েল আর রানির মতিগতি নিয়ে একইসঙ্গে চিন্তায় এবং আশায় আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। উত্তরবঙ্গের স্নেহাশিসকে মনে ধরলে ভালো, নাহলে পাটনার পাত্র তো আছেই। আলিপুরে দীর্ঘদিন নতুন বাঘের জন্ম হয়নি। বিশাল জন্মেছিল ২০০৫-এ। সেই শেষ। ফলে, নতুন অতিথির জন্য আকুল হয়ে রয়েছে আলিপুর চিড়িয়াখানা। পায়েল আর রানি এখনো যথেষ্ট সুস্থ-সবল। সন্তানধারণে শারীরিক জটিলতাও হবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
এখন শুধু পাত্র পছন্দ হলে হয়।