No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    রাইফেল শুটিং-এ পিছিয়ে নেই বাংলা, বোঝালেন হুগলির মেহুলি ঘোষ

    রাইফেল শুটিং-এ পিছিয়ে নেই বাংলা, বোঝালেন হুগলির মেহুলি ঘোষ

    Story image

    ৩ জুলাই সোনা জিতেছিলেন। ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ, ১৪ জুলাই পেলেন রুপো। দক্ষিণ কোরিয়া চ্যাংওনে শুটিং বিশ্বকাপে সোনা-রুপো জিতে নিয়ে এখন বাংলার ক্রীড়া জগতে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে মেহুলি ঘোষ (Mehuli Ghosh)। হুগলির শ্রীরামপুরে বড়ো হওয়া মেহুলি এখন থাকেন হায়দরাবাদে। শুটিং প্রশিক্ষণ নিয়েছেন ছোটো বয়স থেকেই। হায়দরাবাদে গগন নারাং শুটিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণে নেন। সিনিয়র পর্যায়ে এর আগে ২০১৯ সালের সাউথ এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিলেন মেহুলি। দেশের হয়ে জেতা এটি তাঁর দ্বিতীয় সোনা।

    বিশ্বকাপে সোনা জয়ের পর স্বাভাবিক ভাবেই খুশির হাওয়া তাঁর বাড়িতে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড ইভেন্টে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে দেশকে সোনা এনে দিয়েছেন। শাহু তুষার মানের সঙ্গে জুটি বেঁধে বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার চ্যাঙওয়ানে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল মিক্সড টিম বিভাগে সোনা জিতেছেন মেহুলি। হাঙ্গেরির এজটার মেসজারোস এবং ইস্তভান পেন জুটিকে ১৭-১৩ পয়েন্টে হারান মেহুলি এবং তুষার। হুগলির বৈদ্যবাটির বাসিন্দা মেহুলি। ক্যাবিনেটে প্রচুর ট্রফি, শংসাপত্র, স্মারক। নানা প্রতোযোগিতায় জেতা পদক বের করে দেখালেন মেহুলির মা মিতালি ঘোষ। পদক সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়বে সন্দেহ নেই। তবে আসল লক্ষ্য যে অলিম্পিক পদক, জানাতে ভুললেন না মিতালি ঘোষ।

    বিশ্বকাপে সোনা জেতার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মেহুলি একটি সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকারে বলেন, “মুখে নিজের অভিজ্ঞতা বোঝাতে পারছি না। অসাধারণ একটা মুহূর্তের সাক্ষী থাকলাম আমি। নিজের জন্য ভীষণ ভালো লাগছে। কারণ যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবেই খেলেছি।”

    আগে সেইসব সিনেমা পছন্দ করতেন যেখানে বন্দুক, পিস্তল দেখানো হত। সিআইডি-ও ভীষণ ভালোবাসতেন। ভাবতেন, “যদি আমার হাতেও একটা বন্দুক থাকত।” তারপর অভিনব বিন্দ্রাকে অলিম্পিকে সোনা জিততে দেখে উপলব্ধি করেন, খেলা হিসাবে ‘শুটিং’ বেছে নেওয়ার কথা। তারপরে ভর্তি হন জয়দীপ কর্মকারের শুটিং একাডেমিতে। এভাবেই শুটিং যাত্রার শুরু। বর্তমানে বিবশ্বন গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে ট্রেনিং করছেন মেহুলি। মেহুলির সাফল্যের মন্ত্র আত্মত্যাগ এবং অনুশীলনে।

    রাইফেল শুটিং পুরুষদের খেলা, প্রথাগত ভাবনা নসাৎ করেছেন ‘সোনার মেয়ে’ মেহুলি। যদি রেকর্ডের দিকে তাকানো যায়, দেখা যাবে পুরুষদের থেকে মহিলাদের রেকর্ডের সংখ্যা অনেক বেশি।

    ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশনের (WBRA)-এর সেক্রেটারি-জেনারেল দেবকুমার সামন্ত বলছেন, “একটা সময় ছিল যখন রাইফেল শুটিংয়ের ক্ষেত্রে ভারতে বাংলার একচেটিয়া অধিকার ছিল। বাকিদের পিস্তল গুলি করে খুশি থাকতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর, অলিম্পিকের প্রথম ভারতীয় দলে শুটার ডঃ হরিহর ব্যানার্জির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু সোমা দত্তের পরে, বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকে, বাকি বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে শুটিং যেভাবে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলা তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি।”

    তিনি আরও বলেন, “শুটিং-এর জন্য আর্থিক সংগতি থাকা প্রয়োজন। যদি কেউ জাতীয় দলে জায়গা না পায়, তাহলে রাইফেল, আনুষাঙ্গিক, ভ্রমণ, খাবার, থাকার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ সহ সমস্ত খরচ নিজের পকেট থেকে বের করতে হয়। জাতীয় পর্যায়ে, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI) ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ, গোলাবারুদ ইত্যাদির ব্যয়ভার নেয়।”

    তবে আনন্দের বিষয় যে, মেহুলির এই জয় বাংলায় রাইফেল শুটিংয়ের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। “শুটিং শেখাতে আগ্রহী অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রচুর ফোন পাচ্ছি” বলেন সামন্তবাবু।

    মেহুলিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটে লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য মেহুলি ঘোষকে হার্দিক শুভেচ্ছা। তোমার পারফরম্যান্স গোটা দেশকে গর্বিত করেছে এবং গোটা বিশ্বকে আরও এক বার দেখিয়ে দিয়েছে যে বাংলার মেয়েদের কাছে আকাশই সর্বোচ্চ সীমা।’

    মুখ্যমন্ত্রীর এই কথাই মনেপ্রাণে গেঁথে নিয়ে পরবর্তী সাফল্যের দিকে লক্ষ্যস্থির করছেন বাংলার ‘সোনার মেয়ে’। টোকিও অলিম্পিকে ভারতীয় শুটিং দলের কাছে ব্যপক প্রত্যাশা ছিল। পূরণ হয়নি। পরবর্তী অলিম্পিক ২০২৪’এ। ধারাবাহিক ভালো পারফর্ম করতে পারলে প্যারিস অলিম্পিকে সুযোগ পেতে পারেন মেহুলি। মেহুলির মা মিতালি ঘোষের কথায়, ‘আপাতত অলিম্পিক নিয়েই চিন্তাভাবনা রয়েছে। আগের বার মিস হয়েছে। পরবর্তী অলিম্পিকের জন্য বেশি চিন্তাভাবনা করছে, আরও বেশি ফোকাসড রয়েছে মেহুলি।’

    কৃতজ্ঞতাঃ

    গেট বেঙ্গল, যাজ্ঞসেনী চক্রবর্তী

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা

     

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @