No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বাংলার নতুন ক্রিকেট আইকন রিচা ঘোষ

    বাংলার নতুন ক্রিকেট আইকন রিচা ঘোষ

    Story image

    ময়টা ১৯৮৯ সাল, শচীন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) বয়স তখন ১৬। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেক পর্ব। সমগ্র ক্রিকেট মহলে যেন ঝড় উঠেছিল তখন। কিন্তু তারপর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বহুল পরিবর্তন এসেছে। এসেছে অনেক ওঠাপড়া। ছোটো বড়ো নানা ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ক্রিকেটের ইতিহাস। এই সময়ে যখন নিউজিল্যান্ডের (Newzeland) কুইন্সটাউনে একজন ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় মহিলার ব্যাটের দ্রুততম ৫০ রান আসে তখন গর্ব করেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। শুধু ভারতীয় বললে ভুল বলা হয়, এ গর্ব আমাদের বাংলারও। রিচা ঘোষ আমাদের বাংলার মুখ, বাংলার সম্পদ। 

    বাবা মানবেন্দ্রনাথও ছিলেন একজন ক্লাব-স্তরের ক্রিকেটার। বাবার হাত ধরেই তাঁর ক্রিকেটের মাঠে পা রাখা। মানবেন্দ্রনাথবাবুই বাঘাযতীন অ্যাথলেটিক (Baghajatin Atheletic Club) ক্লাবে ভর্তি করেন রিচাকে।

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (International Cricket) টিনএজারদের অংশগ্রহণ এখন আর নতুন কিছু নয়, রিচার কৃতিত্ব তবুও আলাদা করে নজর কাড়ে। সত্যিই যেন এক উপযুক্ত সময়ে এসেছে রিচা, ভারতীয় ক্রিকেটে এসেছে আমূল পরিবর্তন। ‘Espncricinfo’ নামের একটি ক্রিকেট পোর্টালে, ভারতীয় পুরুষ বা মহিলা ক্রিকেটারদের নামের তালিকায় চোখ রাখলে দেখা যাবে প্রথম দশেই রয়েছে মহিলা দলের অধিনায়ক মিতালি রাজ এবং রিচা ঘোষের নাম।

    ২০০৩ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর, শিলিগুড়িতে জন্ম রিচার। উইকেট কিপিং এবং ডানহাতি ব্যাটিং-এর পাশাপাশি ডানহাতি মিডিয়াম বোলিংও করেন তিনি। তাঁর খেলার অসাধারণ দক্ষতায় মাত্র ১১ বছর বয়সেই বেঙ্গল অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা করে নেন রিচা। এর মাত্র এক বছরের মাথায় প্রবেশ করেন অনুর্ধ্ব-২৩ দলেও। তাঁর খেলার অধ্যায়গুলোই চিনিয়ে দেয় রিচার প্রতিভাকে। তাই ২০২০ সালে যখন রিচা টি-টোয়েন্টি (T-20) মহিলা জাতীয় দলে জায়গা করে নেন, তখন যাঁরা তাঁকে ইতিমধ্যেই চিনতেন তাঁরা অবাক হননি। তাঁর মা স্বপ্না ঘোষ বলেন, “রিচা সবসময় মনোযোগ দিয়ে খেলেছে, সবসময় ওর সেরাটা দিয়েছে। তাই এখন ওর স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে।”

    বর্তমানে, রিচা ২০২২ ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও এতে রিচার পরিবার একটুও অবাক হয় না। মাত্র চার বছর বয়সে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছিল মেয়েটি। যত সময় এগিয়েছে ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আবেগও তত বেড়েছে।  বাবা মানবেন্দ্রনাথও ছিলেন একজন ক্লাব-স্তরের ক্রিকেটার। বাবার হাত ধরেই তাঁর ক্রিকেটের মাঠে পা রাখা। মানবেন্দ্রনাথবাবুই বাঘাযতীন অ্যাথলেটিক (Baghajatin Atheletic Club) ক্লাবে ভর্তি করেন রিচাকে। বিভিন্ন ক্রিকেট ম্যাচে তাঁর বাবার সঙ্গে একই ময়দানে খেলেছে ছোট্ট রিচা, তাঁর পরিবারের সদস্যারা আজও স্মৃতিচারণা করেন সেই ফেলে আসা সময়ের।

    সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে আজ রিচার ভক্তের ছড়াছড়ি। অভিনন্দন বার্তায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁরা রিচার বর্তমান কৃতিত্বকে।এমনকি তাঁর খেলাকে অভিনন্দন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের পক্ষ থেকে টুইট করা হয়েছে। টুইট বার্তায় বলা হয়, “মহিলাদের ও.ডি.আই ক্রিকেটের দ্রুততম ৫০ রানটি করেন ভারতীয় ব্যাটার রিচা ঘোষ। মাত্র ২৬ বলেই রিচা ছুঁতে পারে এই মাইলফলক।”

    ২০২১ সালের অক্টোবরে, হোবার্ট হারিকেনসের জন্য সই করেন অস্ট্রেলিয়ায় মহিলাদের বিগ ব্যাশ লিগে (WBBL) । যোগ দেন ভারতীয় খেলোয়াড়দের তালিকায়। ম্যাকেতে রিচার অসাধারণ তিনটি ম্যাচের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই তাঁকে সকলের নজরে এনে দেয়। ও.ডি.আই ম্যাচগুলি তাৎক্ষণিক অনুঘটকের কাজ করেছিল এই প্রস্তাবের।

    বাংলার মেয়ে রিচা ঘোষ (Richa Ghosh)। বয়স মাত্র ১৮ বছর। এখন তো সবে শুরু তাঁর বাইশ গজের জার্নি। ভারতীয় দলে মহিলা ক্রিকেটারের মুখ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় ঝুলন গোস্বামী (Jhulan Goswami) ছাড়া আর কেউ নেই। আর ঠিক এই কারণেই আজ অনেকদিন পর আবার নজর কেড়েছে বাংলার এই তরুণ মুখ। খেলার দুনিয়ায় বাংলার আইকনদের কথা বলার জন্য গড়ে উঠছে রিচা, শীঘ্রই যে ঝুলন গোস্বামী তাঁর সঙ্গ পেতে পারেন, একথা মনে করছেন সকলেই।

     

    প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @