কলকাতার কাছেই ময়ূরের রাজত্ব

সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কেল্লা’ ছবির ময়ূরগুলোকে মনে আছে? জটায়ুর চরিত্রে সন্তোষ দত্তের বিখ্যাত সংলাপ কিংবা নকল ডঃ হাজরার ভয় পাওয়ার অনবদ্য দৃশ্য কেই বা ভুলতে পারে? আপনি কি জানেন, কলকাতা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে ময়ূরের দেখা পেতে পারেন? এই বাংলারই গ্রামের রাস্তায়, মাঠে-ঘাটে, জঙ্গলে মনের আনন্দে তারা ঝাঁকে ঝাঁকে বিচরণ করছে।
প্রাকৃতিক শোভা অসাধারণ
চুঁচুড়া থেকে দিল্লি রোড ধরে ৭-৮ কিলোমিটার এগোলে ছোট্ট গ্রাম রাজহাট। সেখানে খোলা প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ায় ভারতের জাতীয় পাখি। চৌতারা, গান্ধিগ্রাম, সাহেববাগানের মতো আশেপাশের গ্রামেও দেখবেন একই দৃশ্য। হুগলি জেলার এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ময়ূরদের রক্ষা করে চলেছেন চোরাশিকারির হাত থেকে। গ্রামবাসীরা জোট বেঁধে উদ্যোগ নিয়েছেন, পাখিগুলো যাতে সুস্থ আর সবল থাকে। রয়েছে ‘ময়ূর মহল’ নামের এক উদ্যান।
ময়ূর যেন গ্রামবাসীদের পোষা
একবার সেখানে গেলে অবাক হয়ে যাবেন আপনি। ময়ূরগুলো যেন গ্রামবাসীদের পোষা। স্থানীয় মানুষেরা শিষ দিয়ে তাদের ডাকে। শিসের বিভিন্ন সুর রয়েছে। সকালবেলা শিষের শব্দে খেতে চলে আসে ময়ূর। গাছপালার আশেপাশে গ্রামবাসীরা শস্যদানা ছড়িয়ে দেন। আনন্দে পেখম মেলে ধরে কোনো কোনো ময়ূর। মুগ্ধ করে তাদের রাজকীয় ভঙ্গি।
জায়গাটি সহজেই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হয়ে উঠতে পারে
চুঁচুড়ার কাছে এই জায়গায় গড়ে উঠতে পারে ময়ূরদের অভয়ারণ্য। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। জায়গাটির প্রাকৃতিক শোভা অসাধারণ – ছবির মতো সুন্দর। রাজহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের গা-ঘেঁষে রয়েছে কুন্তী নদী। সরস্বতী বইছে দেবানন্দপুরের পাশ দিয়ে। দুই নদীর মাঝখানে চরে বেড়ায় ময়ূরেরা। বেশ কিছু আমবাগান আর বাঁশবনের দেখা মেলে। ময়ূরেরা ফল খেতে ভালোবাসে। এই জায়গা তাই ময়ূরদের জন্য আদর্শ।
গড়ে উঠতে পারে ময়ূরদের অভয়ারণ্য
আরও পড়ুন: তাজপুর – মায়াবী সূর্যাস্ত
জায়গাটি সহজেই জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হয়ে উঠতে পারে। তবে কিছু সমস্যার দিকেও চোখ দেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের বক্তব্য, ময়ূরেরা রাতের দিকে হঠাৎ হঠাৎ কুকুরের শিকার হয়। এই ধরনের পাখিরা উঁচুতে উড়তে পারে না, জোরে দৌড়তেও পারে না। তাই মাংসাশী প্রাণীরা আক্রমণ করলে অসহায় হয়ে পড়ে। অত্যাধিক গরম এবং বৃষ্টির জন্যও মারা যায় কিছু ময়ূর। সবার আগে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগে অভয়ারণ্য গড়ে তোলা। স্থানীয় লোকেদের মতে, বন দপ্তর যদি নিয়মিত সচেতনতা শিবির আয়োজন করে, তাহলেও ময়ূরদের উপকার হবে।