No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    মুঘল যুগের স্মৃতি আজও বয়ে নিয়ে চলেছে বর্ধমানের ‘নবাব বাড়ি’   

    মুঘল যুগের স্মৃতি আজও বয়ে নিয়ে চলেছে বর্ধমানের ‘নবাব বাড়ি’   

    Story image

    কারিগর তার সমস্ত হৃদয় দিয়ে যে সৃষ্টিকে বানালেন, সেটি নিভৃতেই পড়ে রইল। অন্যান্য অনেক কিছুই মানুষের হৃদয়ানুভবের আলো পড়ে চর্চিত হয়। কিন্তু যাকে আবহমানের হাতে ছেড়ে দেওয়া, সেই প্রাচীন শিল্প অনাদরে থেকে যায়। প্রতিদিনের চেনা ছবি অনায়াসে বদলে গেলেও কিছু কিছু সৃষ্টির উপস্থিতি থাকে অতীতের ঐতিহ্য মেখে। 

    বর্ধমান শহরের দক্ষিণ প্রান্তে রয়েছে এমনই এক অপূর্ব শিল্প স্থাপত্য। স্থানীয়জনেরা এই স্থাপত্যটিকে ‘নবাব বাড়ি’ বলেই জানেন। জায়গাটির সাথে মুঘলদের যোগসূত্র রয়েছে। মুঘল রাজত্বে বর্ধমানের নাম ছিল শরিফাবাদ। যেখানে ১৬৫৭ সালে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আদেশ অনুসারে এক হিন্দু পরিবার এই বর্ধমানেই জমিদারি শুরু করেন। প্রাচীন বাংলার স্মৃতিসৌধগুলির মধ্যে অন্যতম এই নবাব বাড়ি। দিল্লির সম্রাট ফারুকশিয়ার এটি নির্মাণ করিয়েছিলেন। ১৭১৭ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে প্রদত্ত ফারুকশিয়ারের ফরমান জারি হয়। এর মাধ্যমে কোম্পানি বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় বাণিজ্যের সুবিধা পেয়েছিল। সৈয়দ খাজা আনোয়ার ছিলেন সম্রাট ফারুকশিয়ারের এক প্রধান সেনা। তিনি বর্ধমানের কাছে এক যুদ্ধে নিহত হন। সম্রাট তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে সমাধিস্থ করবার পর তার ওপর একটি সৌধ নির্মাণ করে দেন। বিশাল পাঁচিল দিয়ে ঘেরা নবাব বাড়িতেই এই স্থাপত্যটি দেখা যায়। 

    মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার 

    অষ্টাদশ শতাব্দীতে তৈরী ইন্দো-সিরীয় পদ্ধতিতে নির্মিত এই স্থাপত্য। এর চারকোণে চারটি মিনার রয়েছে। আর সৌধের দুপাশে বাংলার দোচালা বা জোড়বাংলা রীতির শিল্পের কাজ আছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে এটি তৈরি হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এমন আকর্ষণীয় জোড়বাংলা রীতির সমাধি সৌধ সম্ভবত বাংলায় আর কোথাও নেই। এর পাশেই রয়েছে আর এক মুঘল সেনা সৈয়দ আবুল কাশেমের সমাধি। নবাব বাড়িতে আছে এক বিশাল জলাশয়। আর সেই জলাশয়ের ওপর চোখে পড়ে একটি দালান আকৃতির ঘর। এটিই ছিল সেই সময়ের হাওয়া মহল। মুঘল রীতির আর এক বিশেষ নিদর্শন। জলাশয়ের ধার থেকে হাওয়া মহল যুক্ত রয়েছে বহু খিলানের একটি সেতু দিয়ে। গ্রীষ্মকালীন বিশ্রামস্থল হিসাবে মহলটি ব্যবহৃত হত। জলাশয়টি এখন সম্পূর্ণ জলহীন। চারপাশ ঘাস লতা পাতা দিয়ে ঢেকেছে জলাশয়টি। সর্বত্র জীর্ণতার ছাপ খুব স্পষ্ট। 

    খিলানের দরজায় কয়েকটা পোড়া মাটির ঘোড়া ঝুলছে। আর সেখানে যেন দিগন্তের দিকে আত্মমগ্ন এক সেনা দাড়িয়ে অঙ্গীকার করছে তৃপ্ত মগ্নতায়। হাওয়ার বেগে অশ্বত্থ গাছটি থেকে শুকনো পাতা উড়ে এসে ধুলোতে করছে লুটোপুটি। দূরে আকাশ ধুয়ে যাচ্ছে অপরূপ এক লাল আলোকে।

    তথ্যঋণ - গোলাম মুর্শিদ 
     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @