No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    আম দিয়ে যায় চেনা 

    আম দিয়ে যায় চেনা 

    Story image

    রসগোল্লার পর আবার আম-বাঙালির রসনায় টান... আম-আদমির অজান্তেই কবে যেন বাঙালির রসনার ভাঁড়ারে আরও একটা পালক যোগ হয়েছে। হিমসাগর, যার পোশাকি নাম ক্ষীরসাপাতি... আম-মালদাইয়া আদর করে যাকে এই নামেই ডাকে, বছর দশেক আগেই মালদার মুকুটে স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় এই আমের জি আই স্বত্ব এসেছিল। কিন্তু তা হলে কী হয়, রসগোল্লা নিয়ে বঙ্গ আর কলিঙ্গর চাপানউতোর না মিটতেই এবার আমের স্বত্ব নিয়ে ধুন্ধুমার লাগলো বলে এপার বাংলা-ওপার বাংলার আম-বাঙ্গালির মধ্যে। কারণ আর কিছুই না, বাংলাদেশের চাপাই-নবাবগঞ্জের কুমারখাঁ ক্ষীরসাপাতি আম খুব সম্প্রতি জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন দাবি করেছে। কিন্তু মজার কথা হল, জনপ্রিয়তার বিচারে মালদাইয়া ক্ষীরসাপাতি এগিয়ে থাকায় অন্তত ১০ বছর আগে। এই একই আমের জি আই পেয়েছে মালদা। ওয়েস্ট বেঙ্গল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কাউন্সিলের উদ্যোগেই ক্ষীরসাপাতি, ফজলি ও লক্ষ্মণভোগের জি আই এসেছে মালদার মুকুটে। এতবছর এ খবর অজানাই ছিল আম-উৎপাদক থেকে আমের কারবারি সহ আপামর আম-মালদাইয়ার কাছে।

    কিন্তু কাঁটাতারের সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র কিন্তু এবার হাত বাড়িয়েছে ল্যাংড়া আর আশ্বিনার জি আই এর দিকে। আম-মালদাইয়ার সাম্রাজ্যে ভিন দেশের নজর পড়েছে, খবর পেয়েই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন সহ সাধারণ আম-ব্যাবসায়ীও। ইতিহাস বলছে, দেশভাগের আগে চাপাই আর নবাবগঞ্জ মালদার অংশই ছিল। কিন্তু তাই বলে কোনওভাবেই ল্যাংড়া আর আশ্বিনা তাদের আম নয়। আম-অধিকার বাঁচাতে উঠেপড়ে লেগেছে এবার সবাই। মালদা ডিসট্রিক্ট ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা বলেন, “বাংলাদেশের চাপাই-নবাবগঞ্জ কোনওভাবেই প্রমাণ করতে পারবে না যে ল্যাংড়া ও আশ্বিনা তাদের আম। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে চাপাই-নবাবগঞ্জ মালদারই অংশ ছিল। ফলে মালদার ক্ষীরসাপাতির সঙ্গে ওখানকার ক্ষীরসাপাতির গুণগত কোনও ফারাক বাস্তবে নেই। এই নিয়ে আমরা জি-আই দপ্তরে ও প্রশাসনের কাছে আপত্তি জানিয়েছি”।

    মালদার জেলা প্রশাসনও এবার তৎপর বিষয়টা নিয়ে। জি আই রেকর্ড বলছে, লক্ষ্মণভোগ, ক্ষীরসাপাতি ও ফজলি জি আই পেয়েছিল ১১১, ১১২ ও ১১৩ নম্বর আবেদনে যেখানে এই তিন প্রজাতির আমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে মালদার ফল হিসেবেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য একই জিনিসের জন্য দুটো আলাদা জায়গা জি আই দাবি করলেই হয় না, এও প্রমাণসাপেক্ষ যে এক জায়গার জিনিসটি অন্যটির থেকে রুপ-গুণ দুইদিক থেকেই আলাদা। এক্ষেত্রে যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছে মালদা। তাই আবারও আম-বাঙ্গালির রসনার ভাঁড়ারের কৌলিন্য অটুট রইল।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @