উইকএন্ডে চলুন বাঁকিপুট

ভাবছেন, গরমে দু-একদিনের জন্য কম খরচে কোথায় ঘুরতে যাবেন? চলুন বাঁকিপুট। কলকাতা থেকে গাড়িতে গেলে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে মেচেদা, তার পর হলদিয়া সড়ক ধরে নন্দকুমার, সেখান থেকে দিঘার পথে কাঁথি। এরপর জুনপুট হয়ে বাঘাপুটের পথে। দিঘা থেকেও বেড়িয়ে যেতে পারেন বাঁকিপুট, দূরত্ব ৪৯ কিমি। কলকাতা বা হাওড়া থেকে কাঁথি আসার অজস্র বাস আছে। সবুজ বনরাজির গা ঘেঁষে পরম শান্তিপূর্ণ বাঁকিপুট সমুদ্রতট। জোয়ারের সময় উঠে আসে জল কানায় কানায়। আর ভাটার সময় জল সরে যায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পিছনে।
কীভাবে যাবেন:
কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি কাঁথি হয়ে জুনপুট চলে আসুন। এখান থেকে কিছুটা এগোলেই বাঁকিপুট। দিঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, থেকে গেলে শৌলা মোড় হয়ে শোলা খালকে হাতের বাঁদিকে রেখে ঝাউবন হয়ে ফাঁকা পিচরাস্তার বুক চিরে জুনপুট হয়ে বাঁকিপুট পৌঁছন।
কোথায় থাকবেন:
বাঁকিপুটে থাকার মতো একটাই জায়গা, ঝিনুক রেসিডেন্সি। ভাড়া ১,০০০-১,৬০০ টাকা। ফোন ৯৪৩৩৮১৩৬৭৮/ ৯৯৩২৬৭৭২৫৮। কাঁথি স্টেশন থেকে এদের পিক আপের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া দিঘাতেও থাকতে পারেন।
আরও পড়ুন
ঘুরে এলাম সাতকোশিয়া
কোলাহল ও দূষণমুক্ত সমুদ্রসৈকতগুলির মধ্যে অন্যতম বাঁকিপুট। এখানে সমুদ্র বয়ে চলে নিজের মনে। ভাটার টানে স্রোত চলে যায় দূরে। সমুদ্রসৈকত জুড়ে এলোমেলো ঘুরে বেড়ায় লালকাঁকড়া। সৈকতে ঘোরাঘুরি শেষ হলে বাঁধে দাঁড়িয়ে সমুদ্র দেখুন। সমুদ্রের অশান্ত ঢেউ হৃদয় আন্দোলিত করবে। দূরে দূরে ভেসে যাচ্ছে বিশালদেহী জাহাজ এবং পালতোলা মাছ-ধরা নৌকোগুলির ঘরে ফেরা। যেন সমুদ্রের বুকে রঙের মেলা বসেছে! এরপর একটা ভ্যানরিকশা ভাড়া করে দেখে নিন কপালকুণ্ডলার মন্দির। এই মন্দির ঘিরেই বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস। বঙ্কিমস্মৃতিধন্য হয়ে আছে জায়গাটি। মন্দিরের সামনেই রয়েছে দরিয়াপুর লাইট হাউস। লাইট হাউসে উঠে পাখির চোখে বাঁকিপুট দেখার সুযোগ রয়েছে। এখান থেকে সমুদ্র দেখার আনন্দ চিরস্মরণীয়। একটু এগোলেই পাবেন পেটুয়াঘাট দেশপ্রাণ ফিশিং হারবার। এখান থেকেও চারপাশের দৃশ্য চমৎকার।