একালের টালমাটাল রাজনীতির এক রুদ্ধশ্বাস মঞ্চায়ন

সমাজ এবং রাজনীতির ঘটে চলা বাস্তব থেকে পালিয়ে গিয়ে নয়, বরং সেই বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে তার বিশ্লেষণকেই বেশি দরকারি মনে করেন ‘ভাণ’-এর সদস্যরা। নাটক তাঁদের কাছে যতটা শিল্প, ঠিক ততটাই সমকালের যা কিছু অশুভ, তাকে প্রতিরোধ করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ‘ভাণ’-এর ‘টেলুরাম টেররিস্ট’ যেমন হয়ে উঠেছে নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বিদ্বেষ, ঘৃণা আর অজ্ঞতাকে চিনে নেওয়ার একটা স্বচ্ছ আয়না, তাঁদের আরেকটি সফল প্রযোজনা ‘গো চরিত মানস’ খানিকটা নতুন ভঙ্গিতেই সুলুক সন্ধান করে সমাজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা বোতলবন্দি দৈত্যদের।
গত আড়াই বছর ধরে ‘গো চরিত মানস’ দর্শকদের প্রশংসা লাভ করেছে শুধু তার নান্দনিক গুণের জন্য নয়, বরং আরও বেশি করে এখনকার বাস্তব সমস্যাগুলোকে দর্শকদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার জন্য। তা বলে এটা ভাবলে ভুল হবে, শৈল্পিক দিক থেকে নাটকটির কোনো মনে রাখার মতো অবদান নেই। আসলে নাটকটি দু’ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সার্থক। তবে, ঠিক এই সময়ে প্রযোজনাটির সবথেকে বড়ো গুরুত্ব অবশ্যই চারদিকে ঘটে যাওয়া মেরুকরণের বিরুদ্ধে তার জোরালো প্রতিবাদ। একই সঙ্গে শহুরে সভ্যতা কীভাবে নির্মল অরণ্যকে গ্রাস করে নিচ্ছে ধীরে ধীরে, রয়েছে তার প্রসঙ্গও। সেই কারণেই এটি ইকো-পলিটিক্যাল নাটক।
আগামী ৬ এপ্রিল সন্ধে ৭টায় তপন থিয়েটারে হতে চলেছে ‘গো চরিত মানস’-এর অষ্টম অভিনয়। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন গৌরাঙ্গ দণ্ডপাট। বিভিন্ন চরিত্রে মৌলিকা সাজোয়াল, পল্লব মিশ্র, সুমন সাধু, কৌস্তভ ভৌমিক, হুসনে শবনম, পূর্ণতা নন্দী, পার্থ হালদার, তপন কুমার মণ্ডল, গৌরাঙ্গ দণ্ডপাট এবং অন্যান্যরা ইতিমধ্যেই মঞ্চে তাঁদের সাবলীলতা প্রমাণ করেছেন। আবহে সুপ্রিয় মিত্র, আলোয় বরুণ কর, রূপসজ্জায় বিনয় চিত্রকরের সৃজনশীলতা ও দক্ষতাও বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। সাম্প্রতিক টালমাটাল সমাজ আর পশুচারণের রাজনীতিকে সামনে রেখে এই নাটক চেষ্টা করেছে অভিনব কিছু প্রশ্ন রাখতে, সেগুলোর উত্তর খুঁজে বার করতে এবং নতুন পথের সন্ধান দিতে।