হেঁটে দেখতে শিখুন...

শঙ্খ ঘোষ একদা লিখেছিলেন, “সে ছিল একদিন আমাদের যৌবনে কলকাতা!/ বেঁচে ছিলাম ব’লেই সবার কিনেছিলাম মাথা”। এই ‘যৌবনে কলকাতা’টা হয়তো ব্যক্তিবিশেষে পাল্টে যায়। আজ থেকে সত্তর বছর আগের যুবকটির কাছে যা ছিল কলকাতার সংজ্ঞা, আজ একবিংশ শতাব্দীর যুবকটির কাছে কলকাতা নিশ্চয় হুবহু এক নয়। শহরের রং বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে বন্ধুর কাঁধে হাত দেওয়া, বান্ধবীর হাতে হাত রাখার চাহনি কিংবা রাজনীতির স্রোত। অনেকে বলেন, কলকাতা নাকি মনখারাপের শহর, অনেকটা ডিপ্রেশন। কিন্তু ‘সিটি অফ জয়’? আসলে আনন্দ, হুল্লোড় যেখানে আছে, মনখারাপের টুকরো নেশা আছে সেখানেই। তারা ঠিক যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম নতুন নতুন বয়স আসে, দেখার চোখ ভিড় করে, কিন্তু শহরটা আমাদের বেঁচে থাকাকে গ্রাস করে ক্রমশ। একা একা একা একা... আমরা হাঁটি। হাঁটে শহরটাও। শঙ্খবাবু তো বলেইছেন, “এ কলকাতার মধ্যে আছে আরেকটা কলকাতা”। বঙ্গদর্শনে আজকের ছবিমহলে রইল ভালোবাসার শহর কলকাতার কিছু ফ্রেম। ছবিগুলি তুলেছেন কুশল গঙ্গোপাধ্যায়।
আমাকে টান মারে রাত্রি জাগানো দিন
আমাকে টানে গূঢ় অন্ধকার
আমার ঘুম ভেঙ্গে হঠাৎ খুলে যায়
মধ্য রাত্রির বন্ধ দ্বার।
বাতাসে ছেঁড়া মেঘ চাঁদের চারপাশে
সহসা দানা বাঁধে নীল সময়
বাইরে এসে দেখি পৃথিবী শুনশান
রাস্তাগুলি যেন আকাশময়।
এ যেন নিশিডাক মৃতের হাতছানি
এ যেন কুহকের অজানা বীজ
এমন মোহময় কিছুই কিছু নয়
হৃদয় খুঁড়ে তোলা মায়া খনিজ।
যেখানে ব্যাকুলতা ঢেউয়ের তালে দুলে
যেখানে ধ্বনিগুলো স্মৃতিকে খায়।
ছবি- কুশল গঙ্গোপাধ্যায়
ঋণ- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (স্মৃতির শহর ১)