পুজোর আগে বঙ্গদর্শন.কম-এর কুমোরটুলি Walk
কাশী মিত্র ঘাট থেকে ১০ নম্বর কুমোরটুলি স্ট্রিট – এখান থেকেই শুরু হল কুমোরটুলি Walk। পেশাদারি হোক বা ব্যক্তিগত শখ, দুর্গাপুজোর আগে মূলত আলোকচিত্রী ও ললনাদের কাছে কলকাতার সাবেকি কুমোরপাড়াটি হয়ে ওঠে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তা সে বাঙালি হোক বা অবাঙালি। পুজো যত কাছে আসে, কুমোরটুলি স্ট্রিটের এঁদো অলিগলিতে কাঁচা রং আর কাদামাটির তীব্র সোঁদা গন্ধ উপেক্ষা করেই গাঢ় হতে থাকে ভিড়। তবে সেসব নিয়ে ভাববার ফুরসৎ নেই মৃৎশিল্পী-কারিগরদের। সময় ক্রমশ কমছে, তাই দুপুরে দু-দণ্ড বিশ্রাম নিয়ে অথবা না নিয়ে, প্রতিমার কাজ সম্পন্ন করতে দিনরাত এক করে দিচ্ছেন তাঁরা। কেউ অতি তৎপর হয়ে প্রতিমায় রং শুরু করেছেন, কেউ আঁকছেন চোখ, কেউ বা গড়ছেন হাতের আঙুল-পায়ের পাতা। অনেকে আবার শেষকালে বরাত পাওয়ার দরুন খড়ের বাঁধনির উপর সবে মাটি লেপার কাজ শুরু করেছেন। কাজের মাঝে ক্যামেরার ক্লিক বা ভিড়ের আতিশয্যে কারো মুখে এক চিলতে হাসি, কারোর মুখ বেজার। পুজোর প্রাক্কালে এভাবেই সরগরম হয়ে থাকে শম্ভুচরণ পাল অ্যান্ড সন্স, রুদ্রজিৎ পাল, ধনঞ্জয় রুদ্র পাল অ্যান্ড সন্স, সাধন কুমার পাল, যতীন্দ্র নাথ পাল অ্যান্ড সন্স, অসীম পাল, নারায়ণ পালদের স্টুডিও চত্বর। শুধুই কি প্রতিমা? প্রতিমা গড়ার বাইরে, এ পাড়ায় এই সময় নিপুণ হাতে বানানো হয় শোলা, তবক বা বুলেনের সাজ। ঝলমলে রঙিন শাড়ি, চাঁদমালা, রকমারি কদম তো আছেই। সব মিলিয়ে কুমোরটুলিতে এখন সাজো সাজো রব, জোরকদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
_____
পরিকল্পনা, সম্পাদনা, ভাষ্য: সুমন সাধু
চিত্রনাট্য: মৌনী মণ্ডল