No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    কলকাতা ডাক-জাদুঘর : হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সামগ্রীর নির্ভরযোগ্য আস্তানা

    কলকাতা ডাক-জাদুঘর : হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান সামগ্রীর নির্ভরযোগ্য আস্তানা

    Story image

    পনিও হয়তো কখনও না কখনও পা রেখেছেন কলকাতার (Kolkata) জেনারেল পোস্ট অফিসে(GPO), কিন্তু ঠাহর করতে পেরেছেন কি, এই আইকনিক বিল্ডিংটি শুধুমাত্র ডাক পরিষেবা, পোস্ট কার্ড, খাম এবং স্ট্যাম্প সংগ্রহের জায়গাই নয়, পাশাপাশি একটি বিশ্ব-বিখ্যাত ডাক জাদুঘর এবং ফিলাটেলিক লাইব্রেরিও রয়েছে এখানে।

    আকারে ‘দ্য ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম’-এর মতো বড়ো না হলেও প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে অবস্থিত এই ভবনটির চারটি কক্ষে রয়েছে অজস্র মূল্যবান প্রাচীন ধনসম্পদ। অভিনব এই সংগ্রহশালাটি ঐতিহ্য প্রেমীদের নজর কাড়তে বাধ্য। জাদুঘর (Museum) ভবনটি প্রাথমিকভাবে ভারতীয় পোস্ট অফিসের ডিরেক্টর ফ্রেডরিক রাসেল হগের অফিসের জন্য নির্মিত হয়েছিল। তিনি ছিলেন স্যার স্টুয়ার্ট সন্ডার্স হগের ছোটো ভাই, যার নামানুসারে বিখ্যাত নিউ মার্কেটের (New Market) নামকরণ করা হয় ‘এসএস হগ মার্কেট’ (Hogg Market)।

    তৃতীয় কক্ষটিতে রয়েছে ডাক বিভাগের ব্যবহার করা কিছু যন্ত্রপাতি। যেমন একটি দুষ্প্রাপ্য টেলিফোন, টেলিগ্রাফ মেশিন, পতাকা তোলার প্রক্রিয়া, বিগল, মৃত চিঠি অফিসের একটি ঘণ্টা, ধাতব স্ট্যাম্প, তালা, ঘড়ি, কাঁচি ইত্যাদি।

    মূল ভবনে চারটি কক্ষ থাকলেও জাদুঘর মানচিত্রে তিনটি কক্ষের উল্লেখ রয়েছে। মানচিত্রে যে কক্ষটি দেখা যায় না সেটি হল প্রবেশদ্বার সংলগ্ন চতুর্থ কক্ষ। এই কক্ষটি কলকাতার বিখ্যাত ব্ল্যাক হোলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শনীতে রয়েছে। এখানে সংগৃহীত রয়েছে হলওয়ে স্ট্যাম্প, পোস্টকার্ড, রাজস্ব স্ট্যাম্প, পুরোনো মানচিত্র, পোস্টাল সেভিং সার্টিফিকেট, ছবি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি। জাদুঘরের সিলিং -এর দিকে তাকালে, চোখে পড়ে একটি মার্বেল ফলক, যাতে এই বিল্ডিংটি তৈরির দিন-ক্ষণ এবং নির্মাণের কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম লেখা।

    ডাকঘর মধ্যস্থ গুপ্তধনগুলি যথেষ্ট আকর্ষণীয়। দক্ষিণী পর্দার ব্রাস লাইনের ব্যতিক্রমী ফটোগ্রাফ থেকে শুরু করে পুরোনো ফোর্ট উইলিয়ামের নথি, সব রয়েছে এখানে। পাশাপাশি এখানে সংরক্ষিত পোস্টাল সার্টিফিকেটে মেলে বিখ্যাত এক ব্যক্তির সাক্ষর। তিনি আর কেউ নন, বিজ্ঞানী সি.ভি. রমন (C.V Raman)। রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর (Rabindranath Tagore) সই করা তাঁরই মালিকানাধীন পোস্টাল সেভিং বই। এছাড়াও পুরোনো কলকাতার মানচিত্র, পুরোনো এয়ার মেল পরিষেবার রুট মানচিত্র সহ ব্রিটিশ ভারতে ডাক পরিষেবার নানা প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায় এখানে। পাশাপাশি তিনটি ভিন্ন সময়ের পোস্টকার্ড – ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ব্রিটিশ ভারত এবং স্বাধীন ভারতের আলাদা আলাদা পোস্ট কার্ডের নিদর্শন মেলে প্রদর্শনীতে। এছাড়াও প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইতালি, প্রশান্ত মহাসাগরীয়, বার্মা, আফ্রিকায় চলা প্রচারাভিযানে ডাক বিভগের প্রাপ্ত পদকগুলিও রয়েছে জাদুঘরে।

    তৃতীয় কক্ষটিতে রয়েছে ডাক বিভাগের ব্যবহার করা কিছু যন্ত্রপাতি। যেমন একটি দুষ্প্রাপ্য টেলিফোন, টেলিগ্রাফ মেশিন, পতাকা তোলার প্রক্রিয়া, বিগল, মৃত চিঠি অফিসের একটি ঘণ্টা, ধাতব স্ট্যাম্প, তালা, ঘড়ি, কাঁচি ইত্যাদি। শুরুর দিনগুলিতে নানা রকম বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে ডাক বিভাগ। ডাকাত এবং রাহাজানিবাজদের আক্রমণ লেগেই থাকতো। কখনও কখনও আবার রাস্তায় বাঘ সহ অন্যান্য হিংস্র জীবজন্তুর সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। তাই ডাক পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত যেসব ‘রানার’রা দৌড়ে দৌড়ে খবর পৌঁছে দিতেন তাঁদের আত্মরক্ষার জন্য তলোয়ার, ছোরা এবং অন্যান্য হালকা অস্ত্র বহন করতে হতো। বর্তমানে জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে সেই সব অস্ত্রও। সর্বপরি কক্ষটিতে পোস্ট অফিস নির্মাণের সময়কালে বেরহামপুরে পাওয়া একটি পুরোনো কামানও রয়েছে।

     

    মূল প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @