No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য ‘ফ্যাশন শো’ – অভিনব অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকলো কলকাতা

    বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য ‘ফ্যাশন শো’ – অভিনব অভিজ্ঞতার সাক্ষী থাকলো কলকাতা

    Story image

    ৯শে নভেম্বর, ২০২২-এ এক অভিনব অভিজ্ঞতার সাক্ষী হল কলকাতার সাইন্স সিটি অডিটোরিয়াম। এইদিন দিল্লির এ আই এম এস মিডিয়ার উদ্যোগে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল ‘ওয়াক উইথ এ ডিফারেন্স’ (WWAD) ২০২২-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এইদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে এসেছিল একদল প্রতিভাবান ও উৎসাহী মানুষ, যাঁদের হাত ধরে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল ফ্যাশন ও জনকল্যাণ। অনুষ্ঠানটিতে ‘ট্রান্সেন্ডেন্ট নলেজ সোসাইটি’  দ্বারা স্বীকৃত মূল স্লোগানটির বক্তব্য ছিল, “ফ্যাশনকে যেন শুধুমাত্র ‘শারীরিক ও মানসিক ভাবে সক্ষমদের জন্য’ বলে আবদ্ধ করে রাখা না হয়।”

    ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল WWAD-এর পথ চলা। তাঁদের উদ্দেশ্যই ছিল বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের ফ্যাশন, শিল্প, সংগীত, নৃত্য এবং খেলাধুলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাদের খুঁজে বের করা। প্রথম দুটি পর্ব দিল্লি ও বেঙ্গালুরু’তে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, এই প্রথমবার কলকাতায় পা রাখল WWAD। WWAD-এর আয়োজক রাকেশ ধাসমানা জানান, “বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য টেকসই জীবিকা তৈরি করা, তাঁদের জীবনধারণ যাতে খানিকটা সহজ হয়ে ওঠে, সেই চেষ্টাই করি আমি। সাধারণত এ ধরনের মানুষদের জন্য শুধুমাত্র বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে আমাদের এখানে, এটাই আমরা পরিবর্তন করতে চাই।”

    ২০১০ সাল থেকেই এমন একটি সমাজ গঠন করবার চেষ্টা করছে এ আই এম এস মিডিয়া, যাতে বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষরা সহজেই সমাজের অংশ উঠতে পারে। ভারত তথা সমগ্র বিশ্বের শারীরিক ও মানসিক ভাবে অক্ষম মানুষদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শিতা বৃদ্ধির জন্য তারা নিয়ে এসেছে নানান ধরনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে সমাজের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে না পড়ে এরা। বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের বাবা মায়েরা প্রায়ই তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে থাকেন। এই চিন্তা দূর করতেই এ আই এম এস মিডিয়ার পথ চলা শুরু।

    সংবাদমাধ্যমের একটি সাক্ষাৎকারে এ আই এম এস মিডিয়া কলকাতাকে তাঁদের কাজের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসাবে বলেন, “কলকাতায় রয়েছে হাতে বোনা কাপড়ের অফুরন্ত সম্ভার, যা আমাদের ফ্যাশন সংক্রান্ত কাজের পক্ষে খুবই উপযোগী। তাছাড়া বাংলার পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব জেলাগুলির অংশগ্রহণ চেয়েই WWAD-এর তৃতীয় বর্ষ কলকাতায় পালন করবার সিদ্ধান্ত নিই আমরা।”

    ১২ই নভেম্বর দ্য হেরিটেজ স্কুল-এ আয়োজিত WWAD ২০২২-এর অডিশনে অংশ নিতে দেখা যায় হাজারেরও বেশি প্রতিযোগীকে। বিভিন্ন পেশাবলম্বী বিচারকেরা তাদের মধ্যে থেকেই বেছে নেন তিরিশ জনকে, যারা একেবারে পৌঁছে যায় ফাইনাল রাউন্ডে। এই তিরিশজনের মধ্যে কেউ এসেছিল আসাম থেকে, কেউ গুজরাট বা উত্তরাখণ্ড। কেউ দিল্লি বা উত্তর প্রদেশ, তো কেউ পশ্চিমবঙ্গ কিংবা অন্য কোনো রাজ্য।

    দিল্লি এবং কলকাতার পেশাদারদের তত্ত্বাবধানে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগীদের খুব কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। অবশেষে নির্ধারিত দিনে যখন প্রতিযোগীরা এক এক করে র‍্যাম্পে হাঁটে, তখন তাদের হাবভাবে ঝরে পড়া আত্মবিশ্বাস যেন আপনা হতেই ঢেকে দেয় তাদের সমস্ত অক্ষমতা।

    প্রতিযোগীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছিল তাদের পোশাক। বোতামের ঘরের বদলে জামায় লাগানো হয়েছিল ভেলক্রো, যাতে ফাইন মোটর স্কিল না থাকা ব্যক্তিও সহজেই পোশাক পরতে পারে। দৃষ্টিহীন প্রতিযোগীদের জন্য বানানো হয়েছিল এমন পোশাক, যা উল্টে দিলেই তা একেবারে নতুন পোশাক হয়ে যায়; যাতে অনুষ্ঠান চলাকালীন আলাদা করে পোশাক পরিবর্তন না করতে হয় তাদের। তাছাড়া পোশাকগুলি তৈরি হয়েছিল এমন কাপড় দিয়ে, যা সংবেদনশীল প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে কোনো অস্বস্তি না সৃষ্টি করতে পারে।   

    গ্র্যান্ড ফিনালে’তে উপস্থিত ছিলেন বেশ কয়েকজন নামী চিত্র পরিচালক, পোশাক পরিকল্পক এবং শিল্প ব্যক্তিত্ব। তাঁরা যে শুধু র‍্যাম্প ওয়াক দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তাই নয়, তাঁরা কথা দিয়েছেন এই বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য ভবিষ্যতে নানান সুযোগের পথ খুলে দেওয়ার।

    শুধু ফ্যাশন নয়, WWAD ২০২২ খেলাধুলার ক্ষেত্রেও জায়গা করে দিয়েছে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অক্ষম মানুষদের। এ আই এম এস মিডিয়া ও ‘ইন্ডিয়া খেলো ফুটবল’-এর মিলিত উদ্যোগে শুরু করা হয়েছে ‘ফুটবল ফর অল’, যেখানে এই মানুষেরা সহজেই অংশ নিতে পারবে। WWAD উদ্যোক্তারা মনে করেন, বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য তৈরি ফ্যাশন নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া উচিৎ। এই বিষয় নিয়ে লেখা একটি বই প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বইটির সম্ভাব্য নাম ‘ফ্যাশন ডিসেবিলিটি প্যারাডক্স’। বইটির প্রচ্ছদ প্রকাশ করা হয় এদিনের অনুষ্ঠান চলাকালীন। এছাড়াও, সুরকার-সংগীতকার পণ্ডিত তন্ময় বোস ও প্রখ্যাত নৃত্য পরিচালক সংগ্রাম মুখার্জীর তত্ত্বাবধানে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে বিশ্বমানের ক্রিয়েটিভ আর্ট পারফরমেন্সে, যা তাদের বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়।

    মূল প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে এখানে ক্লিক করুণ।

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @