No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    চলছে শতবর্ষ, বইমেলায় কচিকাঁচাদের মুখে হাসি ফোটালো ‘আবোল তাবোল’

    চলছে শতবর্ষ, বইমেলায় কচিকাঁচাদের মুখে হাসি ফোটালো ‘আবোল তাবোল’

    Story image

    হাড় হিম করা মাঘের শীতেই জ্বরটা বাঁধিয়েছিলেন সুকুমার রায় (Sukumar Ray)। কালাজ্বর। ১৯২১ সালে সেই যে অসুস্থ হলেন, ১৯২৩ সাল পর্যন্ত তার যন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন। দু’বছরব্যাপী যন্ত্রণার ভিতর তিনি যা যা লিখে গিয়েছিলেন, প্রায় সবই এমন হাস্যকর যে স্রেফ্ হেসে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ১৯২১-এ কালাজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর ওই বছরই মে মাসের শেষ দিকে দার্জিলিঙে লুইস জুবিলি স্যানিটোরিয়ামে ছিলেন কিছু দিন, চিকিৎসার্থে। তার কিছু দিন আগেই, ২ মে তাঁর ‘খোকা’র জন্ম হয়েছে। আর দু’বছরব্যাপী যন্ত্রণার ভিতর তিনি জন্ম দিয়েছিলেন ‘আবোল তাবোল’, ‘হ য ব র ল’ আরও অনেক গল্প, নাটক, কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ। হিসেব মতো ২০২৩-এ শতবর্ষ পূর্ণ করলো ‘আবোল তাবোল’। সেই উপলক্ষে অভিনব উদ্যোগ নিল পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড (Publishers & Booksellers Guild)। কলকাতা বইমেলায় (International Kolkata Book Fair 2023) এদিন পালন করা হল ‘আবোল তাবোল’ দিবস ওরফে শিশু দিবস। রবিবার বইমেলা প্রাঙ্গণে গিল্ড হাউজের সামনে অসংখ্য বাচ্চাদের ‘আবোল তাবোল’ উপহার দিল গিল্ড। উপস্থিত ছিলেন গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় সহ গিল্ডের অন্যান্য সদস্যরা।

    ট্যাঁশ গরু গরু নয়, আসলেতে পাখি সে ;

    যার খুশি দেখে এস হারুদের আফিসে ।

    চোখ দুটি ঢুলু ঢুলু, মুখখানা মস্ত,

    ফিট্ফাট্ কালোচুলে টেরিকাটা চোস্ত ।

    ‘আবোল তাবোল’-এর ‘ট্যাঁশ গরু’। যে ‘আবোল তাবোল’ ছেপে বেরনোর ৯ দিন আগে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে চলে যান সুকুমার। সুকুমার রায় ব্যক্তিটি কি নেহাৎই ‘ননসেন্স’ ছিলেন, না হলে মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে কেনই বা খামোখা একের পর এক পরাবাস্তব কৌতুক কাহিনি রচনা করতে যাবেন! এ শুধু পরাবাস্তবই নয়, স্যাটায়ারেরও ঊর্দ্ধে। আট থেকে আশি- সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ বয়স, প্রজন্ম, সময়ের সীমারেখার মধ্যে আটকে নেই। চিরকালীন প্রাসঙ্গিক। বিশেষত, শিশুমনে চেতনা জাগ্রত করতে এই গ্রন্থখানির ভূমিকা অনস্বীকার্য। ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “বাচ্চারাই আসল ভবিষ্যৎ। তাদের হাতে বই তুলে দিলে আখেরে উন্নতি হবে বাংলা সাহিত্যের। ‘আবোল তাবোল’-এর ১০০ বছরে এর থেকে ভাল কিছু হতে পারে না।”

    ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় ও গিল্ডের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ছোটোরা

    কলকাতার বেথুন কলেজিয়েট স্কুল-এর চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীদের নিয়ে আসা হয়েছিল এদিন। এসেছিল ১৮৯ জন ছাত্রী। তাঁদের বইমেলা ঘুরিয়ে দেখান শিক্ষিকারা। প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘আবোল তাবোল’। বাংলা সাহিত্যের উপর থেকে ছোটোদের আকর্ষণ চলে যাচ্ছে, এরকম আলোচনা যখন সর্বত্র, সে জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘আবোল তাবোল’ বিতরণের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরী বলে মনে হয়? “এবার আমাদের বিদ্যালয়ের ১৭৫ বছর পূর্তি আর আবোল তাবোল-এর ১০০ বছর। দুটো মিলিয়ে অত্যন্ত গর্বের বিষয় বাঙালির কাছে। বেথুন বরাবর নারীশিক্ষার ওপর জোর দিয়ে এসেছে। আর গিল্ডের এই পদক্ষেপ বাচ্চাদের বাংলা সাহিত্যের প্রতি টান আরও বাড়িয়ে দেবে।” বলেন বিদ্যালয়ের বেথুন-এর প্রধান শিক্ষিকা শবরী ভট্টাচার্য।

    যে সব বাচ্চারা বইমেলায় ঘুরতে এসেছিল বাবা মায়ের সঙ্গে, অনেকের হাতেই আবোল তাবোল তুলে দেন ত্রিদিববাবু। বই হাতে পেয়ে বাচ্চারা যে কতটা আনন্দ পেয়েছে, তা তাদের চেহারাতেই প্রকাশ পাচ্ছিল। বেথুন কলেজিয়েট স্কুলের পাশাপাশি শিশু দিবস উপলক্ষে ‘আবোল তাবোল’ বিতরণ করা হয় মানিকতলা খালপাড় ভাষা চেতনার দুঃস্থ শিশুদেরও। বোধ প্রয়োগ করলেই বোঝা যাবে সুকুমার রায় ব্যক্তিটি ‘ননসেন্স’ শব্দটির বিকল্প মানে তৈরি করেছিলেন। যেকারণে কবীর সুমন তাঁর গান ‘সুকুমার রায়’-এ বারবার বলে যান, “আমাকে ভাবায় সুকুমার রায় / আমাকে ভাবায় সুকুমার রায়।”

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @