No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে হেঁশেলকে মশলাদার করে রেখেছে জে.কে গুঁড়ো মশলা

    দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে হেঁশেলকে মশলাদার করে রেখেছে জে.কে গুঁড়ো মশলা

    Story image

    হিসেবটা লাখের অঙ্কে নয়, ২০২১ অর্থবর্ষে ৩০০ কোটি টাকার বিক্রিবাট্টা করেছে কোম্পানিটি। আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে কলকাতায় একটি ছোটো ব্যবসা দিয়ে পথ চলা শুরু হয়েছিল তারা। আজ এতগুলো দিন পেরিয়ে এসে জে.কে গুঁড়ো মশলা (JK Masale) হল এমন একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যা সারা ভারতবর্ষ তো বটেই এমনকি ইউরোপ সহ একাধিক বৈশ্বিক বাজারকেও মশলাদার করে তুলেছে। কারও কারও ধারণা রয়েছে যে বাংলায় নাকি ব্যবসা জমে না। যদিও তথাকথিত এই ধারণাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানায় এই সংস্থা। কোম্পানিটির নেপথ্যে রয়েছে এমন একজন ব্যক্তির সাফল্যের গল্প যিনি একদিন কলকাতা শহরে এসেছিলেন নিতান্ত একজন শ্রমিক হিসাবে। তারপর অচিরেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা। জমে ওঠে তাঁর ব্যবসা। বছরের পর বছর ধরে ভারতের ঘরে ঘরে রাজার হালে জাঁকিয়ে বসে জে.কে মশলা।

    ১৯৫৭ সালে নিজস্ব মশলার ব্যবসা চালু করার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পথ চলা শুরু করলেও, অল্পদিনের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠলেন মশলা প্রস্তুতকারক। ইউনিট স্থাপন করলেন কলকাতায়।

    ১৯৫০ সালের গোড়ার দিকে কলকাতায় একজন সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কাজ শুরু করেন ধন্নালাল জৈন (Dhannalal Jain)। প্রথমদিকে ট্রাকে মাল তোলা-নামানোর কাজ করতেন তিনি। কিন্তু মনে মনে স্বপ্ন দেখতেন একদিন আরও বড়ো কিছু করার। সেই ভাবনা থেকেই ঠিক করেন মশলার ব্যাবসা করবেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মশলা কিনে কলকাতার বাজারে বিক্রির কথা ভাবলেন তিনি। কমদিনের মধ্যেই বুঝতে পারেন, মশলার ব্যবসায় প্রচুর লাভের সুযোগ রয়েছে বাংলায়। অবশেষে ১৯৫৭ সালে নিজস্ব মশলার ব্যবসা চালু করার সিদ্ধান্ত নিলেন। প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পথ চলা শুরু করলেও, অল্পদিনের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠলেন মশলা প্রস্তুতকারক। ইউনিট স্থাপন করলেন কলকাতায়। কলকাতায় ব্যবসা খানিকটা জমে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ভারতের অন্যান্য জায়গায় আরও চারটি ইউনিট তৈরি করলেন, যার মধ্যে দুটি ইউনিট ছিল রাজস্থান এবং গুজরাটে।

    প্রাথমিক পর্যায়ে মূলত জিরা (Jeera) সরবরাহের জন্যই কলকাতায় সুনাম অর্জন করেছিলেন ধন্নালাল। জিরা ব্যবসায় রমরমার জন্যই তিনি ‘জিরা কিং’ ওরফে জে.কে উপাধি পান। নিজের উপাধির সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই কোম্পানিটির নাম রাখলেন জে.কে মশলা। ধন্নালালের পরে, তাঁর সাত ছেলে - ভাগচাঁদ জৈন, জয়কুমার জৈন, শান্তি কুমার জৈন, চন্দ্র কুমার জৈন, রাজেন্দ্র কুমার জৈন, অশোক জৈন, জিতেন্দ্র জৈন - যোগ দেন কোম্পানিতে। নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আধুনিকীকরণ ঘটে ব্যবসায়। যুগের চাহিদা মাথায় রেখে বড়ো প্যাকেটের পাশাপাশি কম ওজনের ছোটো প্যাকেট তাঁরা নিয়ে আসেন স্থানীয় বাজারে। এই আলাদা আলাদা পরিমাণের ছোটো বড়ো প্যাকেটের ধারণা সামগ্রিকভাবে স্থানীয় বাজারে ভালো রকম সাড়া ফেলে দেয়।

    জে.কে কোম্পানির ৫০, ১০০ এবং ২০০ গ্রামের ছোটো প্যাকেটে মশলা চালু হওয়ার পর ছোটো ছোটো পরিবারগুলির ক্ষেত্রেও উপকার হয়েছে। ফলে কমদিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপটি বাজারের একটি বৃহত্তর অংশ দখল করতে সাহায্য করে। মশলার বাজারে আরও পাঁচটা কোম্পানির সঙ্গে কোমর বেঁধে প্রতিযোগিতায় নামে জে.কে কোম্পানি। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে উদ্ভাবনও। বর্তমানে কোম্পানিটি ১৫৫টি স্টক কিপিং ইউনিট (SKU) জুড়ে ৬৫টিরও বেশি পণ্য সরবরাহ করে। এক গ্রাম থেকে শুরু করে এক কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন পরিমাণে আলাদা আলাদা প্যাকিং করা হয় পণ্যগুলি। পরিমাণ এবং ধরন ভেদে দামও হয় পৃথক। মোটামুটি ৫০ টাকা থেকে শুরু ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের বিভিন্ন মশলা পাওয়া যায় এই কোম্পানিতে।

    বছরের পর বছর ধরে, জে.কে মশলা মহাশিয়ান ডি হাট্টি (MDH), সুহানা স্পাইসেস এবং এভারেস্ট স্পাইসেসের মত নামজাদা কোম্পানিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে টিকে থেকেছে। সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে ব্যবসা। ২০০৬ সালে কোম্পানিটি ইউরোপ থেকে সুপার সর্টেক্স মেশিন আমদানি শুরু করে। এই মেশিনগুলির ব্যবহারে বীজের গুণমান বাড়তে শুরু করে। বাঙালির প্রিয় পোস্ত বীজকে বিশুদ্ধকরণ করে ভিন্ন স্বাদ দিতেও সাহায্য করে মেশিনটি। পাশাপাশি এই মেশিনের সাহায্যে মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই বীজের গুণমান শনাক্ত করা যায়।

    কাচ, প্লাস্টিকের জার অথবা বাহারি পাউচ, নানা প্রকারে প্যাকিং করা হয় মশলাগুলি। প্যাকেটের ওপর একাধিক ভাষায় লেখা থাকে মশলার নাম ও পরিমাণ। অঞ্চল নির্দিষ্ট করার জন্যই এরূপ ভিন্ন ভাষার প্রয়োগ করে সংস্থা। দক্ষিণের একাধিক রাজ্যে ভালো রকম ব্যবসা করেছে জে.কে মশলা। পাশাপাশি কলকাতাতেও যথেষ্ট উত্থান ঘটেছে ব্যবসার। ভারতের জে.কে মশলার বৃহত্তম বাজারগুলির মধ্যে অন্যতম বেঙ্গালুরু। কলকাতা থেকে বর্তমানে কোম্পানিটি থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাজ্য এবং ভুটান সহ নয়টিরও বেশি দেশে তাদের মশলা রপ্তানি করে।

    মূল প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @