No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    নবাবি আমলের কাঠগোলা বাগানবাড়ি  

    নবাবি আমলের কাঠগোলা বাগানবাড়ি  

    Story image

    বাংলার নবাবদের রাজধানী মুর্শিদাবাদ। ঢাকা থেকে সুবাহ বাংলার রাজধানী এখানে সরিয়ে আনেন মুর্শিদকুলি খাঁ। এক সময়ে তিনি নবাব হয়ে উঠলেন। বাংলার সিংহাসনে তারপর বসেছিলেন সরফরাজ খাঁ, সুজাউদ্দিন, আলিবর্দি খাঁ, সিরাজউদদৌলা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করার পর মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক গুরুত্ব কমতে শুরু করে, আর ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে কলকাতা। মুর্শিদাবাদের মায়াবী আকর্ষণ কিন্তু তাতে নষ্ট হয়নি। আজও তার অলি-গলি-রাস্তায় ইতিহাস কথা বলে। পর্যটক আর গবেষকরা এক অমোঘ টানে নবাবদের শহরে ছুটে যান।

    বাগানে ঘেরা বিশাল স্থাপত্য আর জমকালো সব ভাস্কর্য মুগ্ধ করবে আপনাকে 

    মুর্শিদাবাদের সবথেকে জনপ্রিয় দ্রষ্টব্য হাজারদুয়ারি প্রাসাদ থেকে মোটামুটি ৪ কিলোমিটার উত্তরে আছে কাঠগোলা বাগানবাড়ি। বাগানে ঘেরা বিশাল স্থাপত্য আর জমকালো সব ভাস্কর্য মুগ্ধ করার মতোই। জায়গাটার নাম কেন ‘কাঠগোলা’ হল, তা নিয়ে দু’টি মত প্রচলিত। বাগানে ঢোকার মুখে দেখা যায় একটা বড়ো নহবত গেট, তার সামনে পূর্ব-পশ্চিমে রাস্তা চলে গিয়েছে। লোকে বলেন, এই রাস্তার দু’পাশে ছিল কাঠের গোলা। সেখান থেকে এই নামটা এসেছে বলে মনে করেন অনেকে। এই বাগানবাড়ি ফুলের জন্যও বিখ্যাত ছিল। বাগানের নানা ফুলের মধ্যে গোলাপের নাম ছড়িয়ে পড়েছিল দিকে দিকে। অনেকের বিশ্বাস, কাঠগোলাপের থেকেই বাগানবাড়ির নাম হয়েছে কাঠগোলা।

    এক সময়ে এই বাগানবাড়িতে নিয়মিত জলসা হত 

    নবাব এবং অভিজাতদের যাওয়া আসা ছিল এখানে 

    এই জায়গাটি কিনে বাগানবাড়ি তৈরি করিয়েছিলেন জিয়াগঞ্জের রাজা লক্ষ্মীপৎ সিং দুগর। লক্ষ্মীপৎ, জগপৎ, মহীপৎ এবং ধনপৎ - এই চার ভাই এখানে থাকতেন। এখনও বাগানে ঢুকলে দেখা যায় এই চার ভাইয়ের ঘোড়ায় চড়া মূর্তি। তাঁদের আমলেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল আদিনাথের মন্দির। এই জৈন মন্দির কাঠগোলা বাগানবাড়ির অন্যতম প্রধান দ্রষ্টব্য। স্থানীয় মানুষরা বলে থাকেন, বাগানের পুব দিকে পুরোনো মসজিদ আর কবরস্থানের পাশে একটি ইঁদারা থেকে প্রচুর গুপ্তধন পেয়েছিলেন তাঁরা। তার সাহায্যেই বাগান এবং মন্দির গড়ে তোলা হয়। অনেকে বলেন, এই চার ভাই ছিলেন দস্যু লুটেরা। আবার কেউ বলেন, তাঁরা আসলে ছিলেন ব্যবসায়ী।


        
    ইংরেজরাও এখানে আসতেন

    এক সময়ে এই বাগানবাড়িতে নিয়মিত জলসা হত। নবাব এবং অভিজাতদের যাওয়া আসা ছিল এখানে। ইংরেজরাও এখানে আসতেন। মুর্শিদাবাদে ব্রিটিশদের ক্ষমতালাভের ষড়যন্ত্রেও এই বাগানবাড়ি জড়িয়ে ছিল। বাগানের ভিতর একটি সুড়ঙ্গপথ আছে, যা ভাগীরথীর সঙ্গে যুক্ত। ওই গোপন পথে জগৎশেঠদের বাড়ি যাওয়া যেত বলে শোনা যায়। এখানকার প্রাসাদ, সংগ্রহশালা, বাগান, আদিনাথ মন্দির, চিড়িয়াখানা, বাঁধানো পুকুর, গোপন সুড়ঙ্গ দেখতে ভিড় করেন প্রচুর মানুষ।

    কাঠগোলা বাগানবাড়ির অবস্থান 

    বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি 
     

    কোথায় কোথায় যাবেন
    মুর্শিদাবাদে গেলে হাজারদুয়ারি অবশ্যই দেখবেন। হাজারদুয়ারির ঠিক বিপরীতে রয়েছে নিজামত ইমামবাড়া। মহরমের দিন এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বাকি দিনগুলি এই স্থাপত্য কেবল বাইরে থেকেই দেখতে পাবেন। হাজারদুয়ারির প্রাঙ্গণেই আছে বিখ্যাত ঘড়ি মিনার। প্রাসাদের সামনেই দেখতে পাবেন বাচ্চাওয়ালি তোপ। কাছাকাছি অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলি হল খোশবাগ, মোতিঝিল, কাটরা মসজিদ, মদিনা মসজিদ, চক মসজিদ, ওয়াসেফ মঞ্জিল, ত্রিপোলিয়া গেট, নসিপুর প্রাসাদ, কাশিমবাজার রাজবাড়ি ইত্যাদি।
    কীভাবে যাবেন
    ট্রেনে যেতে চাইলে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে লালগোলা প্যাসেঞ্জার কিংবা ভাগীরথী এক্সপ্রেস অথবা কলকাতা স্টেশন থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস ধরুন। নামবেন মুর্শিদাবাদ স্টেশনে। এছাড়া এসপ্ল্যানেড থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার বাস পাওয়া যায়।
    কোথায় থাকবেন
    বহরমপুরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি। সেখানে থেকেই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন। বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের দূরত্ব ১১ কিলোমিটারের মতো। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন ৯৭৩২৫১০০৩১ নম্বরে। এছাড়া মুর্শিদাবাদ শহরেও বেশ কিছু হোটেল এবং রিসর্ট আছে।

     

    বহর ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @