No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    আদিম অরণ্যের কাঁকড়াঝোর

    আদিম অরণ্যের কাঁকড়াঝোর

    Story image

    বন্য আদিমতা, প্রাচীন মন্দির এবং ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির জন্য ঝাড়গ্রাম প্রিয় হয়ে উঠেছে পর্যটকদের। সেই জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে এক ছোট্ট গ্রাম কাঁকড়াঝোর। যাঁরা নির্জনতা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য আদর্শ পর্যটনস্থল। বিশাল ঘন বন, চারদিকে সবুজের সমারোহ। স্থানীয় ভাষায় ‘কাঁকড়া’ মানে ‘পাহাড়’, আর ‘ঝোর’ মানে ‘অরণ্য’ বা ‘জঙ্গল’। সত্যজিৎ রায় এসেছিলেন এই কাঁকড়াঝোড়ে। এছাড়া, টেনিদাকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘চারমূর্তি’-র কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল এখানে।

    ছবির মতো সুন্দর গ্রাম 

    উদার প্রকৃতি এখানে মানুষকে এক পরাবাস্তব অনুভূতির স্পর্শ দিতে সর্বদাই প্রস্তুত। অরণ্যের পরিশ্রুত বাতাস আপনার ফুসফুসকে সতেজ করে তুলবে। ছবির মতো সুন্দর এবং নিরিবিলি এই গ্রামে দিন দু’য়েক কাটিয়ে আসলে আপনার শরীর ও মনের যাবতীয় ক্লান্তি উধাও হয়ে যাবে। নতুন প্রাণশক্তি নিয়ে আবার কর্মজীবনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবেন।
     

    শাল, মহুয়া, আকাশমণি, সেগুন, কেঁদ, নিমের মতো বিশাল বিশাল গাছে ভর্তি গ্রামটি প্রায় ৯,০০০ হেক্টর জায়গা নিয়ে অবস্থান করছে। ময়ূরঝর্না পাহাড়ে আপনি যখন ঘুরে বেড়াবেন, চোখে পড়বে, নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূর, হরিণ, খরগোশ কিংবা ভালুকেরা। আমলাশোলের আমঝর্না জলপ্রপাত মুগ্ধ করে প্রকৃতিপ্রেমীদের। কাছেপিঠের জলাশয়গুলিতে বসন্তকালে জড়ো হয় ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সীমানায় রয়েছে কেটকি ঝর্না। তার নীল জল এবং পাখিদের আনাগোনা দেখেই সারাদিন কাটিয়ে দেওয়া যায়।

     

    যাঁরা নির্জনতা ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য আদর্শ ডেস্টিনেশন

    পূর্ণিমার রাতে কাঁকড়াঝোরের পরিবেশ স্বর্গীয় হয়ে ওঠে। আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে আদিবাসীদের বাজানো মাদলের একটানা আওয়াজ। সন্ধেবেলা চাইলে আদিবাসী নৃত্যও দেখতে পারেন। সাঁওতাল, মুন্ডা, ভূমিজের মতো বেশ কিছু আদিবাসী উপজাতির মানুষেরা বসবাস করেন আশেপাশের প্রায় ২৮টি গ্রামে। কাঁকড়াঝোর এবং ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ভৈরবী নদী। সময় থাকলে আপনি ঝাড়খন্ডে গিয়ে ঘাটশিলা দেখে আসতে পারেন। আর মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরেই বেলপাহাড়ি। সেখানে দু’তিন দিন আরামে কাটিয়ে দেওয়া যায়। শাল, সেগুনে ঘেরা মাটির বাড়িগুলিও অনবদ্য। ঘাগরা জলপ্রপাত এবং এবং তারাফেনি নদী দেখেও আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। অক্টোবর থেকে মার্চে কাঁকড়াঝোরে গিয়ে বেশ আনন্দ পাবেন। আর মার্চ এপ্রিল মাসে বসন্তের সৌন্দর্য আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের জগতে।
     
    দু’রকম পথে কাঁকড়াঝোর পৌঁছনো যায়। একটি ঝাড়গ্রাম হয়ে, আরেকটি ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা স্টেশন দিয়ে। লকডাউনের পর ট্রেন যেহেতু এখনও নিয়মিত চালু হয়নি, ঝাড়খণ্ডের মধ্যে দিয়ে সড়কপথেই যেতে পারেন। কলকাতা থেকে কাঁকড়াঝোরের দূরত্ব প্রায় ১৭০ কিলোমিটার এবং সময় লাগবে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতো। ঝাড়গ্রাম শহর থেকে কাঁকড়াঝোর ৬৫ কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ ৫ নম্বর রাজ্য সড়ক দিয়ে দু’ঘণ্টার মতো যেতে হবে।

    উদার প্রকৃতি এখানে মানুষকে এক পরাবাস্তব অনুভূতির স্পর্শ দেয়  

    কাঁকড়াঝোর অঞ্চলের মানুষেরা তাঁদের এলাকার উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত কয়েক বছরে তাঁরা অনেকগুলি হোম স্টে গড়ে তুলেছেন। কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে আছে খেঁদারানি ড্যাম, ঝিলিমিলি পাহাড়, মুকুটমণিপুর ইত্যাদি।
     
    ঝাড়গ্রাম শহরে কয়েকদিন থেকে অনায়াসে কাঁকড়াঝোর ঘুরে আসতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে থাকতে পারেন স্বচ্ছন্দে। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন –
    West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
    DG Block, Sector-II, Salt Lake
    Kolkata 700091
    Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
    Email: visitwestbengal@yahoo.co.in,
    mdwbtdc@gmail.com,
    dgmrwbtdc@gmail.com

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @