No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    কাকলি দাস কাপাসের বাটিকশিল্পে উঠে এল ভ্যান গঘের ‘স্টারি নাইট’

    কাকলি দাস কাপাসের বাটিকশিল্পে উঠে এল ভ্যান গঘের ‘স্টারি নাইট’

    Story image

    কাকলি দাস কাপাসের বুটিক ‘স্বাতী’র শাড়ি

    শাড়ি, দোপাট্টা, শার্ট বা পাঞ্জাবি – যেকোনও অঙ্গসাজ কিংবা গৃহসজ্জা বাটিকশিল্পে অন্যমাত্রা পায়। বহু শতাব্দী পেরিয়ে, সমস্ত প্রজন্মের মধ্যে এই শিল্পকর্মটি যেকোনও রুচিশীল মানুষের কাছেই পছন্দের তালিকায় থেকে গেছে। সাধারণত সিল্ক এবং সুতির কাপড়ের ঊপর বাটিকের কারুকাজ হয়। শিল্পীরা এক বা একাধিক উদ্ভিজ্জ রং ব্যবহার করেন। একটি পরিপূর্ণ বাটিকের কাজ সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাটিক হল মোম-প্রতিরোধী রঞ্জনবিদ্যার একটি কৌশল, যা পুরো কাপড়ে প্রয়োগ করা হয়। ডাইং, ওয়াক্সিং এবং ডি-ওয়াক্সিং, বাটিক পেইন্টিংয়ের জন্য শিল্পীরা মূলত এই তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করেন।

    বাটিক শব্দটি ইন্দোনেশিয়ান ভাষা থেকে এসেছে। এই শব্দটি বাংলা করলে দাঁড়ায় একটি বিন্দু বা একটি ফোঁটা। বিন্দু বিন্দু মোমের সাহায্যেই বাটিক করা হতো। সুদূর অতীতে যখন কাপড় ছাপানোর যন্ত্র ছিল না, তখন মানুষ হাতেই নানাভাবে কাপড় প্রিন্ট করত। যেমন ব্লক, বাটিক, টাইডাই ইত্যাদি। সেই প্রাচীনকাল থেকে আজ অবধি এসব কাপড় ছাপানোর পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। কাপড়ের কিছু অংশে নকশা এঁকে তারপর নকশাটি মোম দিয়ে ঢেকে সেটা রঙে ডুবিয়ে যে পদ্ধতিতে কাপড় রং করা হয়, তাকেই বাটিক প্রিন্ট বলে। এক্ষেত্রে মোম লাগানো অংশে রং ভাল ভাবে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে তা অনবদ্য রূপ পায়। ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং নাইজেরিয়া সহ বিভিন্ন দেশে বাটিক তৈরির ঐতিহ্য আছে; তবে ইন্দোনেশিয়ার বাটিক সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

    মেয়ের সঙ্গে কাকলি দাস কাপাস

    কাকলি দাস কাপাস একজন অভিজ্ঞ বাটিক ডিজাইনার, তাঁর কাজ জেলা এবং রাজ্য, উভয় স্তরেই স্বীকৃত। তাঁর প্রধান দক্ষতা বাটিক তৈরি এবং সূচিকর্ম। তিনি গত ২০ বছর ধরে বাটিকের কাজ করছেন। সম্প্রতি, প্রখ্যাত ডাচ শিল্পী ভ্যান গঘের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছবি ‘স্টারি নাইট’ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, নিজের বাটিকশিল্পে তা ফুটিয়ে তুলেছেন কাকলি। তাঁর কথায়: “আমি বরাবর সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। বাটিক আমার দক্ষতার জায়গা বলে সারাক্ষণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা  চালিয়ে যাচ্ছি। মাথায় নতুন নতুন আইডিয়া আসলেই আমি শাড়ি এবং দোপাট্টায় তা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী যামিনী রায়ের চিত্রকর্ম নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করেছিলাম এবং সেটা সফল হওয়ায় এরকম আরও কিছু ডিজাইন  শুরু করি।” 

     

    তাঁর মেয়ে যুবসনা কাপাসের অন্যতম প্রিয় পেইন্টিং ভ্যান গঘের স্টারি নাইট। বর্তমান প্রজন্ম বিশেষত তরুণদের মধ্যে ‘স্টারি নাইট’ খুবই জনপ্রিয়। কাকলি জানিয়েছেন, মেয়ের অনুপ্রেরণাতেই বাটিকে চিত্রকর্মটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। “এই কাজটার জন্য আমার মেয়ে খুবই উৎসাহী ছিল। ও চেয়েছিল আমি বাটিকের মধ্যে দিয়ে চিত্রকর্মটি তুলে ধরি। আমার  প্রোডাকশন ইউনিটের জন্য কাজটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কাজটা শক্ত ছিল তাই, পুরোপুরি নিঁখুত করতে পেরেছি, বলবো না। তবে, তৈরি হওয়ার পর দারুণ দেখতে লাগছে, তাছাড়া নতুনত্বের দিক থেকেও এই কাজ বেশ নজর কাড়বে বলে আমার ধারণা।” বলেন কাকলি।

    বাটিকে ভ্যান গঘের স্টারি নাইট

    বেশিরভাগ শিল্পীই চান যে তাদের শিল্প নিখুঁত হোক, কারণ শিল্পী তাঁর সৃষ্টিকর্মে সমস্ত ভাবনা-দক্ষতা উজাড় করে দেন। এক্ষেত্রে কাকলিও ব্যতিক্রমী নন। ক্যানভাসের বদলে কাপড়ের উপর স্টারি নাইটের মতো চিত্রকর্ম ফুটিয়ে তোলা মোটেই সহজ কথা ছিল না। শ্রমসাধ্য এই কাজটি সম্পন্ন করতে পেরে আনন্দিত কাকলি দাস কাপাস। বাটিক ছাড়াও বেশ কিছু ব্লক ডিজাইন করেছেন, শুধু যামিনী রায় নয়, তিনি মকবুল ফিদা হোসেনের চিত্রকর্ম নিয়েও কাজ করেছেন। এছাড়া নিজের ডিজাইন তো আছেই। কাকলি দাস কাপাস জানিয়েছেন, তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ—বাটিকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘মোনালিসা’।

    কাকলি দাস কাপাসের প্রধান কার্যালয়, ‘স্বাতী’র ঠিকানা- ৭০, শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রীট, ভবানীপুর কলকাতা ৭০০০২৫। কাকলি নিজেই শাড়ি এবং দুপাট্টা এমব্রয়ডার করেন, ১৫ থেকে ২০ জন তাঁকে সাহায্য করেন।
     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @