No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    কন্যাশ্রী’র টাকায় যক্ষ্মা রোগীদের সাহায্য করে প্রশংসা কুড়োচ্ছেন ঝাড়গ্রামের ছাত্রী

    কন্যাশ্রী’র টাকায় যক্ষ্মা রোগীদের সাহায্য করে প্রশংসা কুড়োচ্ছেন ঝাড়গ্রামের ছাত্রী

    Story image

    ক্ষমাত্রা ২০২৫ সাল। তার আগে ‘যক্ষ্মা মুক্ত’ বাংলা তথা ভারত গড়ার লক্ষ্যে ‘নিক্ষয় মিত্র’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সদ্য চালু হওয়া এই কর্মসূচিতে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষা রোগ নির্মূলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ন্যাশনাল টিউবারকিউলোসিস এলিমিনেশন প্রোগ্রাম (এনটিইপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, ব্যাক্তি বিশেষ, এনজিও, করপোরেট, রাজনৈতিক দল, যে কোনও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সেই ‘নিক্ষয় মিত্র’ কর্মসূচিতেই এবার উল্লেখযোগ্য পদপেক্ষ নিলেন ঝাড়গ্রামের এক ছাত্রী। কন্যাশ্রী’র টাকায় যক্ষা রোগীদের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

    কলকাতার অশোক গেট গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন বিপাশা হাঁসদা। এই বছরেরই কন্যাশ্রী’র পঁচিশ হাজার টাকা হাতে পাওয়ার পরেই এহেন উদ্যোগ। বিপাশা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কন্যাশ্রী’র টাকায় প্রতিমাসে যক্ষা রোগীদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রীর যোগান দেবেন। 

    বিপাশা’র বাবা, ঝাড়গ্রামের মুখ্য শাস্ত্র আধিকারিক ভুবনচন্দ্র হাঁসদা’র কথায়, সচেতনতা মূলক প্রচারের মধ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন তাঁরা। যে সমস্ত ব্যক্তিরা যক্ষা রোগীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইচ্ছুক তাঁরা নিক্ষয় মিত্র প্রকল্পের মাধ্যমে তাদেরকে আর্থিক সাহায্য বা পুষ্টিযুক্ত খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে পারেন।

    বিপাশার আরেকটি পরিচয় তিনি ঝাড়গ্রাম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ভুবন চন্দ্র হাঁসদার কন্যা। মানুষের পাশে থাকার ভাবনা বাবার থেকেই পেয়েছেন তিনি। বাবার কাছ থেকে সে জানতে পেরেছিলেন, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে জেলায় যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরে ‘নিক্ষয় মিত্র’ কর্মসূচির কথাও জানতে পারেন। এক সংবাদমাধ্যমে বিপাশা জানিয়েছেন, কন্যাশ্রীর যে ২৫ হাজার টাকা তিনি স্কলারশিপ পেয়েছেন, সেই টাকা না থাকলেও তিনি আগামী দিনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। তাঁর পরিবার আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল। আর সে কারণেই এই টাকা দিয়ে যক্ষা রোগীদের হাতে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন বিপাশা। তিনি এও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে এই ভাবেই মানুষের পাশে থাকতে চান।

    যক্ষ্মা রোগীর হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন বিপাশা হাঁসদা

     জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলায় বর্তমান সময়ে ১৭৩৩ জন যক্ষায় আক্রান্ত রোগী রয়েছেন । তাদেরকে পুষ্টি সম্পূর্ণ খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়ার জন্য “নিক্ষয় মিত্র” কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। রাজ্য জুড়েই এই কর্মসূচি চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই ৪০০ জন যক্ষা আক্রান্ত রুগী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বাকিদের এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর । নিক্ষয় মিত্র প্রকল্পের মাধ্যমে বিপাশা ৩ জন যক্ষা রোগীর ৬ মাসের খাদ্য সামগ্রীর দায়িত্ব নেন । মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অফিসেই যক্ষা রোগীদের হাতে ডিমের ট্রে, মসুর ডাল, তেল, আটা এছাড়াও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন তিনি । বিপাশা ছাড়াও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মানুষজন এবং চিকিৎসক ও নার্সরাও যক্ষা রোগীদের পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন । বিপাশা’র বাবা, ঝাড়গ্রামের মুখ্য শাস্ত্র আধিকারিক ভুবনচন্দ্র হাঁসদা’র কথায়, সচেতনতা মূলক প্রচারের মধ্য দিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন তাঁরা। যে সমস্ত ব্যক্তিরা যক্ষা রোগীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য ইচ্ছুক তাঁরা নিক্ষয় মিত্র প্রকল্পের মাধ্যমে তাদেরকে আর্থিক সাহায্য বা পুষ্টিযুক্ত খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে পারেন। 

    নিক্ষয় মিত্র কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনগর হাসপাতালে এলাকার যক্ষা রোগীদের দত্তক নেওয়া হয়েছে এবছর এপ্রিলে

     

    প্রসঙ্গত, অন্যদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বছরে প্রায় ২৬ লক্ষ মানুষ ভারতবর্ষে নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছেন। যার মধ্যে আবার ৪ লক্ষ যক্ষ্মা রোগী বছরে মারা যান এদেশে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে দেশ থেকে যক্ষ্মা রোগ নির্মূল করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এই কর্মসূচি কতটা ফলদায়ক হবে তা অবশ্যই দেখার।
     

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @