No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    জগৎ শেঠদের প্রাসাদ এক সময় ছিল বাংলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক  

    জগৎ শেঠদের প্রাসাদ এক সময় ছিল বাংলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক  

    Story image

    বাংলা তথা ভারতের ইতিহাস চিরকালের জন্য পালটে দিয়েছিল পলাশীর যুদ্ধ। অনেকেই জানেন, এই যুদ্ধে অর্থের জোগান দিয়েছিলেন জগৎ শেঠ। তবে ‘জগৎ শেঠ’ কোনো ব্যক্তির নাম নয়, একটি পরিবারের উপাধি।  যার অর্থ ‘বিশ্বের সওদাগর’।  পলাশীর যুদ্ধে ব্রিটিশদের যিনি অর্থসাহায্য করেন, তাঁর নাম মহতাব রাই। 

    জগৎ শেঠদের প্রাসাদ 

    ‘জগৎ শেঠ’ উপাধির উৎস খুঁজতে হলে আমাদের শুরু করতে হবে হীরানন্দ সাহুর থেকে। স্বর্ণকার থেকে তিনি মহাজন হয়ে উঠেছিলেন। রাজস্থানের নাগৌর শহর ছেড়ে এসে ১৬৫০ সাল নাগাদ পাটনায় বসবাস শুরু করেন। পাটনা তখন এক সমৃদ্ধ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। হীরানন্দ ব্যাংকিং এবং মহাজনি কারবার জমিয়ে তোলেন সেখানে। সম্ভবত এভাবেই ভারতের বাণিজ্যে মারোয়াড়িদের উত্থান শুরু হয়। ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে  হীরানন্দ তাঁর ছেলেদের বিভিন্ন শহরে পাঠাতেন। তাঁদের একজন মানিক চাঁদ জাঁকিয়ে বসেন সুবা বাংলার রাজধানী ঢাকায়। ক্রমেই তাঁর অর্থভাণ্ডার বাড়তে থাকে।  ঢাকায় তখন ছিলেন বাংলা দেওয়ান মুর্শিদকুলি খাঁ।  যাঁকে নিয়োগ করেছিলেন মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব।  মানিক চাঁদ খুব শীঘ্রই মুর্শিদকুলির প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। 

    তারপর রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। ১৭০৪ সালে ঢাকা থেকে মুখসুদাবাদে রাজধানী সরিয়ে আনেন মুর্শিদকুলি খাঁ। নিজের নাম অনুসারে শহরটির নাম দেন মুর্শিদাবাদ। অবশেষে নিজেকে বাংলার নবাব ঘোষণা করেন। মানিক চাঁদও মুর্শিদাবাদে এসে মহিমাপুরে নিজের প্রাসাদ গড়ে তোলেন। রাজস্ব সংগ্রহের দায়িত্ব পান। হয়ে ওঠেন নবাবের কোষাধ্যক্ষ। তাঁর ধনসম্পত্তি এমন বাড়তে থাকে যে জগৎশেঠদের বাড়িকে তুলনা করা হত ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের সঙ্গে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলির অন্যতম ছিলেন তাঁরা। ‘Plassey: The Battle that Changed the Course of Indian History’ বইতে সুদীপ চক্রবর্তী লিখেছেন, “For several decades, the Seths displayed a particular knack to back the winning horse. Even create the winning horse.”।

    মানিক চাঁদের দত্তক নেওয়া ছেলে ফতেহ চাঁদের আমলে সম্পত্তি আরও অনেক গুণ বেড়ে যায়। মুঘল সম্রাট মাহমুদ শাহ তাঁকে উপাধি দেন ‘জগৎ শেঠ’। টাঁকশাল, রাজস্ব সংগ্রহ এবং প্রেরণ, সোনা কেনা-বেচা, বিদেশি বণিকদের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিময় মূল্য নির্ধারণ, জমিদার ও নবাবকে টাকা ধার দেওয়া – সবেতেই জগৎশেঠ সিদ্ধহস্ত। কোনোভাবেই তাঁদের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ে কম ছিল না।

    নবাবের সিংহাসনে সিরাজউদদৌলা বসলে শুরু হয় সমস্যা। তিনি সহজেই উত্তেজিত হয়ে পড়তেন। ঔদ্ধত্যে যত ছিল, সেই তুলনায় বুদ্ধি ছিল কম। জগৎ শেঠদের সঙ্গে তিনি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। শতাব্দীপ্রাচীন সম্পর্কে ভাটা শুরু হয়। তখনকার বাংলায় ফরাসি কুঠির প্রধান ছিলেন জাঁ ল। সিরাজউদদৌলার তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁর লেখার উদ্ধৃতি নিজের বইতে দিয়েছেন সুদীপ চক্রবর্তী। জগৎ শেঠ সম্পর্কে ল লিখেছেন, “They are, I can say, the movers of the revolution. Without them the English would never have carried out what they have.”। 

    তবে পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয় জগৎ শেঠদের পতন ডেকে আনে। বাংলার অর্থবাজারে জগৎশেঠ পরিবারের দাপট আর থাকে না। নবাব মিরকাশিমের নির্দেশে মহতাব রাইকে হত্যা করা হয়। কলকাতায় ব্রিটিশরা টাঁকশাল খোলেন, জগৎশেঠদের ওপর তাঁদের নির্ভরতা কমে আসে। বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস মুর্শিদাবাদ থেকে রাজকোষ সরিয়ে আনেন কলকাতায়। 

    সংগ্রহশালা 

    জগৎ শেঠদের প্রাসাদ আজও বহন করছে অতীতের সমৃদ্ধি এবং প্রতিপত্তির স্মৃতি। হাজারদুয়ারি থেকে নসিপুর রাজবাড়ির দিকে গেলে পথেই পাবেন সেই অট্টালিকা। এখন তা জাদুঘর। দেখতে পাবেন টাঁকশালের ভগ্নাবশেষ, নানা সময়ের মুদ্রা, নথিপত্র, জগৎ শেঠ পরিবারের ব্যবহৃত সামগ্রী। মসলিন এবং অন্যান্য বিলাসবহুল পোশাক, সোনা-রুপোর সুতো দিয়ে অলংকৃত বেনারসি শাড়ি এবং আরও নানা ঐতিহাসিক জিনিসপত্র। মুর্শিদাবাদে যখন ঘুরতে যাবেন, এই জাদুঘর দেখতে ভুলবেন না। সুন্দরভাবে সাজানো-গোছানো এবং রহস্যে মোড়া গোটা বাড়ি। দেখতে পাবেন এক গোপন সুড়ঙ্গ, যা অবাক করবে যে কোনো পর্যটককে। জগৎ শেঠ পরিবারের আরেক সদস্য হরেক চাঁদের প্রাসাদ রয়েছে কাঠগোলায়। সেটিও ঘুরে আসুন। 

    বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি, বহরমপুর 

    নবাবদের শহর মুর্শিদাবাদে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে আরও অনেক আকর্ষণ। বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি (পূর্বতন বহরমপুর ট্যুরিস্ট লজ)-এ কয়েকদিন থেকে মনের আনন্দে ইতিহাসের স্বাদ উপভোগ করুন। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের এই প্রপার্টি যেমন নিরাপদ, তেমনি আরামদায়ক। 

    কলকাতা থেকে আপনি সড়কপথেই যেতে পারেন মুর্শিদাবাদ। ৬-৭ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ভাগীরথী এক্সপ্রেস, কলকাতা স্টেশন থেকে হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস, কলকাতা-লালগোলা এক্সপ্রেস যায় মুর্শিদাবাদ। সময় লাগে ৪ ঘণ্টার মতো। 

    ট্যুরিজম প্রপার্টির বুকিং ও মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন – 
    West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
    DG Block, Sector-II, Salt Lake
    Kolkata 700091
    Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
    Website: https://www.wbtdcl.com/
    Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @