সাহেবদের কলোনিয়াল খাবার আর ভারতীয় মশলার মিশেল কলকাতার এ্যালেন কিচেনে

শোভাবাজার থেকে গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের দিকে যেতে বাঁ হাতে পড়বে ছোট্ট একটি দোকান এ্যালেন’স কিচেন। প্রায় ১৩০ বছরের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই দোকানের সঙ্গে। চিতপুর এলাকায় এ্যালেন সাহেবের হাতে গড়া এই ফিউশন রেস্ট্রুরেন্ট। সাহেবদের কলোনিয়াল খাবার এবং ভারতীয় মশলা- এই দুই-এর মিশেল হল ফিউশন ফুড। এ্যালেন সাহেবের দোকানে কর্মচারী ছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। স্বাধীনতাকালে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় অ্যালেন সাহেব সম্পূর্ণ দোকানটি উপহার দেন জীবনকৃষ্ণকে। সেই সময়ের এ্যালেন কিচেন চিতপুর থেকে উঠে চলে আসে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের উপর। সেই থেকেই জীবনকৃষ্ণ সাহার বংশধরেরা এই দোকান চালিয়ে যাচ্ছেন।
কোন সাল থেকে এই দোকানের পথচলা শুরু হয়েছে, তা কেউ বলতে পারেন না। তবে মোটামুটিভাবে অনুমান করা যায় এ্যালেন’স-এর বয়স প্রায় ১৩০ ছুঁইছুঁই। ঠিকানা- ৪০/১, যতীন্দ্র মোহন অ্যাভিনিউ, কলকাতা- ৬। শোভাবাজার মেট্রো আর ছাতুবাবু বাজারের মধ্যিখানে একটি অনাড়ম্বরপূর্ণ খাবারের দোকান। যা প্রচারের বাইরে। খাস কলকাতার বহু লোকেই এর নাম শোনেননি প্রায়। কিন্তু যাঁরা নাম শুনেছেন, তাঁরা জানেন এখানকার খাবারের মোহ। দোকানের ভিতরে বসে খাবারের ব্যবস্থা আছে। তাও মোটে চারটে টেবিল আর দশটা চেয়ার। এসি নেই। তাতে কী! শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা বারোমাস এই দোকানের ভিড় দেখলে আপনি চমকে যেতে বাধ্য হবেন। খাদ্য-রসিকদের মুখে ভালো খাবার গেলে টেবিল, চেয়ার, এসি মাথায় আসে না। এটাই তো স্বাভাবিক। এ্যালেন’স কিচেনে আপনি কী কী পাবেন? আসুন, দেখে নেওয়া যাক।
• স্টেক্ (চিকেন/মাটন)
• কবিরাজি (প্রণ/চিকেন/মাটন)
• চিকেন ব্রেস্ট কাটলেট
• এগ ডেভিল (মাছ দিয়ে/মাটন দিয়ে)
• চপ (ফিশ/চিকেন/মাটন)
সমস্ত খাবারই অমৃত। দোকানের জিনিস এবং খাবার বাড়ছে। তাই কর্তৃপক্ষের ইচ্ছা আছে উত্তর কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণেও একটি শাখা যাতে খোলা যায়। আজও রোজ সন্ধেবেলা প্রবীণ-নবীনদের আড্ডা বসে সাহেবি এ্যালেনে। উপচে পড়ে ভিড়। দোকানের দেওয়াল কখনও কথা বলে ওঠে। সেকথা একশোর্দ্ধ বছরের ইতিহাসের। আপনারা যাঁরা এখনও যাননি, টুক করে চলে যান একটিবার। ইচ্ছে হবে বারবার যেতে। কারণ কলকাতার কিছু ইতিহাস আমাদের তাড়া করে বেড়ায় সর্বক্ষণ।