No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    কলকাতার সবথেকে ব্যস্ত রেল স্টেশনের গল্প 

    কলকাতার সবথেকে ব্যস্ত রেল স্টেশনের গল্প 

    Story image

    শিয়ালদহ স্টেশন বলতেই আম-বাঙালির মনে ভেসে ওঠে দম বন্ধ করা ভিড়। গাদাগাদি ভিড়ের সমার্থক হয়ে উঠেছে শিয়ালদহ উত্তর টার্মিনালের বনগাঁ লোকাল। আর অফিস টাইম হলে তো কথাই নেই। স্টেশন চত্বরে ওই সময়ে কীভাবে ধাক্কা খেতে খেতে এগোতে হয়, তা সব ভুক্তভোগীই জানেন। কলকাতার সবথেকে ব্যস্ত স্টেশন তো বটেই, সারা ভারতের ব্যস্ততম এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলির মধ্যে আমাদের শিয়ালদহের নাম একেবারে সামনের দিকেই রয়েছে। এই স্টেশনে যাতায়াত করেন প্রতিদিন গড়ে ১.৮ মিলিয়ন যাত্রী। তিনটে স্টেশন টার্মিনাল রয়েছে এখানে। শিয়ালদহ উত্তর , শিয়ালদহ মেইন এবং শিয়ালদহ দক্ষিণ। আবার ভারতীয় রেলওয়ের পূর্ব রেল অঞ্চলের চারটি বিভাগের একটি হল শিয়ালদহ বিভাগ। সেই রেল বিভাগের দপ্তর রয়েছে এখানেই। 

    আরও পড়ুন
    এক যে আছে রাজভবন

    শিয়ালদহকে কথ্য ভাষায় মানুষ বলেন ‘শেয়ালদা’। পলাশির যুদ্ধ মিটে গেলে ১৭৫৮ সালে বাংলার নবাব মির জাফরের থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফোর্ট উইলিয়ামের পাশে অনেকগুলি গ্রাম কিনে নিয়েছিলেন। সেই ৫৫ খানা গ্রামকে একসঙ্গে বলা হত ডিহি পঞ্চান্নগ্রাম। এদের মধ্যে ডিহি শিয়ালদহের অন্তর্ভুক্ত ছিল শিয়ালদহ আর বেলেঘাটা, এই দুটি গ্রাম। গবেষকরা বলে থাকেন, আগে শিয়ালদহের নাম ছিল ‘শৃগালদ্বীপ’। ব্রিটিশদের অধীনে যাওয়ার আগে জায়গাটা ছিল জঙ্গলে ভর্তি। শেয়ালের ডাক শোনা যেত সন্ধে নামলেই। তার থেকেই এই ধরনের নামকরণ। 

    কলকাতা শহরের সঙ্গে তার আশেপাশের অঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের যোগাযোগকে সহজ করার জন্য ১৮৫৭ সালে তৈরি হয়েছিল ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে। ব্রিটিশ ভারতের রাজধানীতে রেল স্টেশন তৈরি করতে গেলে এমন একটা জায়গা বেছে নিতে হত, যেখান থেকে কলকাতার সব অঞ্চলের যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধে হয়। ইস্টার্ন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে শিয়ালদহের অবস্থানই ছিল সবথেকে সুবিধেজনক। তখন অবশ্য শিয়ালদহ অঞ্চল ছিল কাদা আর খানাখন্দের ভরা জলাভূমি। সেটা ভরাট করে রেললাইন পাতার জন্য দমদম পর্যন্ত গর্ত খুঁড়ে শক্ত ভিত বানানো হল। তার ওপর রেললাইন পাতার কাজ করেছিল ক্যালকাটা অ্যান্ড সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে কোম্পানি। 

    তারপর শিয়ালদহ রেলস্টেশন চালু হল ১৮৬২ সালে। তখন সেখানে ছিল কাঁচা ছাউনির চারটে প্ল্যাটফর্ম। পরে স্টেশনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকায় ১৮৬৯ সালে প্রযুক্তিবিদ ওয়াল্টার গ্র্যানভিলের নকশায় শিয়ালদহ মেইন বিভাগের পাকা স্টেশন বানানো হয়। শিয়ালদহ সাউথ স্টেশন বানানো হয় তার পরে। আস্তে আস্তে ক্যানিং, রানাঘাট, বনগাঁ, ডায়মন্ড হারবার, নৈহাটি, বজবজ -সহ বিভিন্ন অঞলের সঙ্গে শিয়ালদহর রেললাইনে যোগাযোগ গড়ে উঠতে থাকে। দেশভাগে ঠিক পরে শিয়ালদহ  স্টেশন হয়ে উঠেছিল পূর্ববঙ্গ থেকে আসা শরণার্থীদের এক প্রধান আশ্রয়স্থল। এবছর বাংলা নববর্ষের দিনে শিয়ালদহ স্টেশনে একটি ঝাঁ চকচকে এগজিকিউটিভ লাউঞ্জ চালু হয়েছে। কাচের দেওয়ালে মোড়া বাতানুকূল লাউঞ্জে আরামদায়ক সোফা, আধুনিক শৌচাগার, এলসিডি টিভি, ওয়াইফাই, মৃদু বাজনা তো সেখানে আছেই, পাশাপাশি রয়েছে পছন্দসই খাদ্য এবং পানীয় বেছে নেওয়ার সুযোগ।
     

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @