No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ব্রিটিশ কলকাতাতেও ছিল কোয়ারেন্টিন হাসপাতাল 

    ব্রিটিশ কলকাতাতেও ছিল কোয়ারেন্টিন হাসপাতাল 

    Story image

    লকাতার বাণিজ্য কেন্দ্রের খুব কাছেই, চাঁদনিচক, তার ঠিক গা ঘেঁষেই সরু গলি। গলিটির নাম গুমঘর লেন। সার দিয়ে ছোটো ছোটো দোকান, নোংরা প্যাচপ্যাচে এ গলিটি নিয়ে শহরবাসী আজও ধোঁয়াশায়। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় গলিটির একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। সময়টা ১৮৫০ সাল, ‘বেঙ্গল আগ্রা ডিরেক্টরি’তে উল্লেখ করা হয় এই রাস্তার। ইতিহাসবিদ পি. থাঙ্কাপ্পন নায়ারের মতে তাঁর বই ‘হিস্ট্রি অফ ক্যালকাটাস স্ট্রিটস’-এ লিখেছেন, “Goomghur Lane is on the North side of the native hospital, dhurrumtolla.” সেকালের গোমঘর লেন কীভাবে আজকের গুমঘরে পরিণত হল তা অবশ্য এখনও রহস্য। সম্ভবত তৎকালীন সময়ে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের সূত্রেই এরকম নামকরণ হয়েছিল এ রাস্তার। থাঙ্কাপ্পন নায়ার আরও লেখেন, “It was the hospital located in this lane, mentioned in the directory, that gave the lane this name,”

    বর্তমান সময়ে অতি পরিচিত একটি শব্দ 'কোয়ারেন্টাইন', তবে এ শব্দের চল কলকাতায় আজকে নয়। চাঁদনিচকে অঞ্চলের স্থানীয় হাসপাতালটির নাম গোমঘর হয়েছিল বিশেষ বিশেষ রুগীদের আলাদা করে রাখার জন্যই। ছিল বিচ্ছিন্ন একটি ঘর। উনিশ ও বিশ শতকের কলকাতার  এই হাসপাতালে ছিল কোয়ারেন্টাইন সুবিধা। ব্রিটিশ ভারতে তৈরি হাসপাতাল ভবনটিতে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখার জন্য অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধা যুক্ত যে ঘর ছিল সেটিই গুমঘর হিসেবে পরিচিত।

    বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এই হাসপাতালটিকে মধ্য কলকাতা অর্থাৎ পোস্তা এবং বড়বাজারের আশেপাশের কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় ব্যাবহারের জন্য রূপান্তরিত করেছে।

    কলকাতা রিভিউয়ের ১৮৫২ সংস্করণে উল্লেখ করা হয়েছে যে ১৭৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে চিৎপুর রোডে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আইসোলেশন হাসপাতাল। কিন্তু দুই বছর পরে, ১৭৯৬ সালে, ম্যানেজাররা ধর্মতলার কাছে খোলা আকাশের নিচে জমি কেনেন। তখন সেই রাস্তায় মাত্র তিন-চারটি বাড়ি ছিল, আশেপাশে হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র আবাসিক কোয়ার্টার ছিল। ফলে, কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল স্থাপনের জন্য এই জায়গাটি ছিল আদর্শ। ১৮৬৮ সালে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে উপস্থাপিত ‘দ্য ডোমেস্টিক ওয়াটার সাপ্লাই অফ গ্রেট ব্রিটেন’ শিরোনামে নদী দূষণ কমিশনের একটি রিপোর্ট ইঙ্গিত করে সে সময়ে কলকাতার স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিচিত রোগ কলেরা। যার জন্য রোগীদের পৃথক ঘরে রাখার প্রয়োজন হত। পাশাপাশি কলকাতা রিভিউ আরও বলে, তখন শহরে গুটিবসন্তের চিকিৎসাও করা হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানে।

    বিভিন্ন উপায়ে, সংক্রামক রোগের চিকিৎসা করার নিরিখে এই হাসপাতালটিই ছিল প্রথম। ১৮৩৫ সালে কলেজস্ট্রিটে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এশিয়ার প্রথম মেডিকেল কলেজ, কলকাতা মেডিকেল কলেজ। এই হাসপাতালটি ছিল তারও পূর্বসূরি। পরবর্তীকালে ১৯৯০ সালে, গুমঘর হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু তার প্রায় দুই দশক পরে ২০১০ সালে আবারও পথ চলা শুরু হয় সেকেলে গুমঘর হাসপাতালের। বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এই হাসপাতালটিকে মধ্য কলকাতা অর্থাৎ পোস্তা এবং বড়বাজারের আশেপাশের কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিত্সায় ব্যাবহারের জন্য রূপান্তরিত করেছে।

    এ গলিপথে হাঁটলে আজও চোখে পড়ে হাসপাতাল ভবনের উভয় পাশে কিছু পুরোনো স্থাপত্য শৈলীর বাড়ি এখনও বিদ্যমান। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে এই বৃহৎ কাঠামোগুলি কে ছোটো ছোটো ভাগে বিভক্ত হয়। এবং অই অঞ্চলের পাশাপাশি বসবাসকারী বেশ কয়েকটি পরিবার দখল করেছে ভবনটি। কিন্তু এত সব কিছুর মধ্যে আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে সেযুগের কোয়ারেন্টাইন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা যে দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে এমন ধারণা সেকালের কলকাতাবাসীর মোটেই ছিল না।

    প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @