No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    কাঁটাতারে বিঁধে আছে ‘গাঙচিল’ পাখি

    কাঁটাতারে বিঁধে আছে ‘গাঙচিল’ পাখি

    Story image


    “দুয়ারে খিল টান দিয়ে তাই খুলে দিলাম জানলা/ ওপারে যে বাংলাদেশ, এপারেও সেই বাংলা।”

    না, কোনো এক্সজিবিশন নয়। কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় গাঙচিল প্রকাশনী এবার নিজেকে দেশভাগের যন্ত্রণায় সাজিয়ে তুলেছে। প্রত্যেক বছর কলকাতার প্রকাশনীগুলোর মধ্যে সবসময় নজর কাড়ে গাঙচিল। শনি বা রবি ছাড়াও প্রতিদিন পাঠকের ভিড় হামলে পড়ে এই স্টলের উপর। এবছর গাঙচিলের বিষয় দেশভাগ। দেওয়ালে একটি অংশে পুরোটা জুড়েই রয়েছে কয়েকজন উদ্বাস্তু ফিগার। মা তাঁর বাচ্চার হাত ধরে আছেন, মুঠো শক্ত, কেউ বা পুঁটলি কাঁধে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। তাঁদের যাওয়ার কি সত্যিই কোনো জায়গা আছে? খাবেন কী? পরবেন কী? বাঁচবেনই বা কীভাবে? এসব প্রশ্ন তাঁদের কাছে প্রাসাদসম অট্টালিকার মতো। যে যন্ত্রণা বুকে করে রাস্তা পার হচ্ছেন, যে যাত্রায় লেখা রয়েছে একটিমাত্র শব্দ- নিরুদ্দেশ, সেখানে কোনো সান্ত্বনাই সঠিক মূল্যায়ন নয়। 

    দেশভাগ শুধুমাত্র র‍্যাডক্লিফের তৈরি সীমারেখা নয়, ছিন্নমূল মানুষের মনেরও দ্বিধাদীর্ণ বিভাজন। তবু, যে এখনও দেশভাগ নিয়ে বাংলা ভাষায় এত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে তা তো এই ভাবনা বা যন্ত্রণাস্বরূপ জীবনদর্শনেরই ফল। হাতের কাছে বহু তথ্যনির্ভর গবেষণাধর্মী বই পেয়ে গেলে ভালোই লাগে। দেশভাগ সংক্রান্ত বইয়ের নাম উঠলে অবশ্যই সবার আগে উঠে আসবে গাঙচিল প্রকাশনীর নাম। যেমন, রাহুল রায় সম্পাদিত ‘পশ্চিম থেকে পূর্ববঙ্গ : দেশবদলের স্মৃতি’ বইটির কথা এখানে উল্লেখ করা যায়। দেশভাগের পর শিশুবয়সে শান্তিপুরের পৈতৃক ভিটের পাট চুকিয়ে পরিবারের সঙ্গে রাজশাহী চলে যাওয়ার কথা বলেন রহমত আলি- ‘ভুলে গেছি, নাকি ভুলতে চেয়েছি? ওই দিনটাকে আমি মনে রাখতে চাইনি বলেই কি ভুলে গেছি?’ কিন্তু একাত্তরে পদ্মার চরের ওপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে আবার জন্মভিটেয় ফেরার সময় কষ্ট আর আনন্দের এক অবর্ণনীয় দোটানা খুব স্বাভাবিকভাবেই আচ্ছন্ন করে তাঁকে। এছাড়াও গাঙচিল থেকে পাওয়া যাবে, অধীর বিশ্বাস সম্পাদিত ‘বর্ডার- বাংলা ভাগের দেওয়াল’, অর্পিতা বসু সম্পাদিত ‘উদ্বাস্তু আন্দোলন ও পুনর্বসতি’, এছাড়াও ছিটমহল সংক্রান্ত নানারকম গবেষণাধর্মী বই। 

    গাঙচিল নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে দেশভাগের হাড়হিম করা যন্ত্রণার ছবি দিয়ে। চিত্রশিল্পী অর্জুন ভট্টাচার্য। পরিকল্পনা রূপায়নে শুভদীপ চক্রবর্তী। গাঙচিল প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা অধীর বিশ্বাস ফেসবুকে এই ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “আমরা রিফিউজি। এ-অঙ্গনেও দেশভাগের বেদনা থাক, এটা চেয়েছি। পুস্তকতালিকায় প্রায় ৪৯ রকমের ‘দেশভাগ’ সংক্রান্ত বই আছে। এত বই পৃথিবীর কোনও প্রকাশনায় এসেছে কি না, জানা নেই। বইমেলার ১১০ নম্বর স্টলটির দেওয়ালে অতএব শরণার্থীদের চিহ্ন-আদল। থাকবেই বা না কেন, এ-ক্ষত মুছতে চাই না যে!” ক্ষত মুছতে না চাওয়ারই অঙ্গীকার। দেশভাগের ক্ষত কি মুছে ফেলা সম্ভব! 

    করুণাময়ী বাসস্ট্যাণ্ডের ভিতর দিয়ে, ৯ নম্বর গেট। ডানদিকে। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ানের কাছাকাছি গাঙচিলের আবাস। ২০১৯-এর কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তকমেলায় আপনিও ছুঁয়ে আসুন দেশভাগের দেওয়াল।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @