বন দপ্তরের উদ্যোগে বেলপাতা এবং গাঁদা ফুলের পাপড়ি দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেষজ আবির

বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণ। এই তেরো সংখ্যাটা ছাড়িয়ে চৌদ্দ, পনেরো বা ষোলও হতে পারে নিঃসন্দেহে। ঋতুরাজ বসন্তের প্রাক্কালে চিরাচরিত আদুরে বসন্ত উৎসব বা দোলযাত্রা বাংলার অন্যতম একটি উৎসবমুখর দিন। বাংলা ছাড়িয়ে এই উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। কিন্তু দোল উৎসবে আবির খেলার নামে নানারকম রাসায়নিক রং ব্যবহার হতে থাকায় অনেকের মধ্যে এই উৎসব ঘিরে আতঙ্কও বেড়েছে। এই আতঙ্ক বা চিন্তা কমাতেই রাজ্যের বন দপ্তর নিয়ে এসেছে ভেষজ বা হার্বাল আবির।
শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা তাইপু এলাকায় রাজ্য বন দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে তিনরকম রংয়ের ভেষজ আবির। হলুদ, সবুজ এবং লাল। বেল পাতা এবং গাঁদা ফুলের পাপড়ি গুঁড়ো করে তার মধ্যে মেশানো হচ্ছে ট্যালকম পাউডার। এরপর তাতে দেওয়া হচ্ছে এক ধরনের ভেষজ সুগন্ধী তেল। ২৫০ গ্রাম এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের প্যাকেটে সেই আবির ভরে বন দপ্তরের বিভিন্ন কাউন্টার থেকে তা বিক্রি করা হয়। ২৫০ গ্রাম প্যাকেটের দাম নেওয়া হয় ৪০ টাকা আর ৫০০ গ্রাম প্যাকেটের দাম ৭০ টাকা।
গাঁদা ফুলের পাপড়ি (বাঁদিকে) এবং সেখান থেকে তৈরি হচ্ছে ভেষজ আবির
এক হাজার কেজিরও বেশি পরিমাণ এই ভেষজ আবির তৈরি হয়ে আসছে বাগডোগরার তাইপু এলাকায়। ছয় সাত বছর ধরে বন দপ্তর এই কাজ করে আসছে। ইদানীং এই আবিরের চাহিদা বাড়ছে। দোলের বেশ কয়েকদিন আগে থেকে আবির তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রতিদিন চার-পাঁচজন কর্মী কাজে নামেন। তবে গ্রামের থেকে শহরেই বেশি চাহিদা এই আবিরের। গ্রামে এখনও সচেতনতার অভাবে রাসায়নিক আবিরই বেশি ব্যবহার হয়ে আসছে বলে মনে করেন বন দপ্তরের কিছু অফিসার। রাসায়নিক রং-এর আবিরে প্লাস্টিক এবং ক্ষতিকর এমন অনেক রং ব্যবহার করা হচ্ছে যাতে ত্বক-সহ শরীরের বিভিন্নরকম ক্ষতি হয়। বন দপ্তরের অফিসার কৌশিক ব্যানার্জী আমাদের জানিয়েছেন, এই ভেষজ আবির মানুষের শরীরের কোনও ক্ষতি করে না। প্যাকেটে বাংলায় ভেষজ এবং ইংরেজিতে হার্বাল লেখা থাকে।
আদর্শ বা রাজনীতির রং যাই হোক, দোলের সারাদিন সমস্ত রঙের ছোঁয়া লাগুক। জনগণ বলছে, দোলের রং নিয়ে রাজনীতি করবেন না। আর সেই রং যদি হয়ে ওঠে খাঁটি সুবাসযুক্ত, তাহলে তো কথাই নেই। ভালোবাসা বিতরণের এই দিন বেঁচে থাক। মনে লেগে থাক বসন্ত।