No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    বাংলার চলচ্চিত্র পর্যটন  

    বাংলার চলচ্চিত্র পর্যটন  

    Story image

    প্রথম দৃশ্য: দু’জন ব্যক্তি একটি মাঠের মাঝখানে বসে রাজকীয় খাবার খাচ্ছেন। একজনের খাওয়া হয়ে যেতে কাছের জলাশয়ে হাত ধুতে গেলেন। তারপর আশেপাশের পাহাড়গুলোর তাকালেন। এগিয়ে গেলেন একটি ছোটো পাহাড়ের দিকে। তাঁর সঙ্গীও ততক্ষণে হাত ধুয়ে পিছন পিছন এসেছেন। তাঁরা লক্ষ করলেন পাহাড়ের ফাটলে কেউ একজন রয়েছে। কাছে যেতেই সেখান থেকে বেরিয়ে এলেন চুল-দাড়ি ভর্তি মুখ, ক্রুদ্ধ চোখের একজন। তিনি শিক্ষক। বিদ্রোহ করেছেন স্থানীয় রাজার বিরুদ্ধে। 

    দ্বিতীয় দৃশ্য: আবারও দু’জন মানুষ। প্রায় উলঙ্গ, খোলা মাঠে কুস্তি লড়ছেন। মাটির রং লাল। কুস্তির প্যাঁচে একজন ফেলে দিলেন অন্যকে। একজনের মনে পড়ল, ট্রেন আসার সময় হয়েছে। রেললাইন ধরে তাঁরা দৌড় লাগালেন। এদিকে ট্রেন আসছে। স্টেশনে গিয়ে তাঁরা জামাকাপড় পরে নিলেন। দু’জনে সিগন্যাল ম্যানের কাজ করেন। 

    এগুলো বিখ্যাত দুই সিনেমার দৃশ্য। শুটিং হয়েছে পুরুলিয়ায়। যাঁরা এখনও সিনেমার নাম মনে করতে পারেননি তাঁদের জন্য বলি, একটি সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ (১৯৮০) আরেকটি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের উত্তরা(২০০০)। দু’টি ছবিই সারা দুনিয়ায় বহুল প্রশংসিত। যেখানে যেখানে শুটিং হয়েছে, সেই জায়গাগুলি দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী হয়ে আছে। কলকাতার এক পর্যটন সংস্থার দৌলতে আপনি খুব সহজেই যেতে পারেন সেইসব গন্তব্যে। সিনেমা এবং ভ্রমণ একাত্ম হয়ে যায় এভাবেই, যাকে বলে ‘চলচ্চিত্র পর্যটন’। অর্থাৎ বিভিন্ন শুটিং লোকেশনে ঘুরতে যাওয়া। 

    খোরলো ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস সংস্থার অন্যতম কর্ণধার নীলাঞ্জন বসু জানালেন, এমন উদ্যোগের পিছনে বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনার থেকেও বেশি রয়েছে আবেগ। বছর তিনেক আগে তাঁরা পুরুলিয়া দিয়ে শুরু করেছিলেন এই কাজ। তারপর ঝাড়গ্রাম, দার্জিলিং এবং হুগলিকেও বেছে নিয়েছেন চলচ্চিত্র পর্যটনের জন্য। কোভিড সংকটের ফলে অবশ্য এই ভ্রমণ এখন বন্ধ আছে। তবে ধীরে ধীরে আবার যেহেতু পর্যটন পরিষেবা চালু হচ্ছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারি নাগাদ পুরুলিয়া ভ্রমণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে তাঁদের সংস্থা। 

    জয়চণ্ডী পাহাড় 

    ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়া – দু’জায়গাতেই ট্রিপ দু’রাত এবং তিন দিনের। নীলাঞ্জনবাবু জানালেন, সড়কপথেই যাওয়া বেশি সুবিধের, যে কারণে তাঁদের সংস্থা আরামদায়ক ‘মাইক্রো কোচ’ ভাড়া নেয়। কলকাতা থেকে পুরুলিয়া যেতে মাঝখানে বিরতি-সহ ৬ ঘণ্টার মতো লাগে। ঝাড়গ্রাম যেতে লাগে মোটামুটি সাড়ে ৩ ঘণ্টা। একদিনেই হুগলি ঘুরে আসা যায়। সেখানে দেখার জায়গা মূলত হাতুই গ্রাম, যেখানে মৃণাল সেনের ‘আকালের সন্ধানে’ (১৯৮০) ছবির শুটিং হয়েছিল। ছবির সঙ্গে যুক্ত সবাই ছিলেন একটি পুরোনো ভগ্নপ্রায় বিশাল জমিদারবাড়িতে। মৃণাল সেন ওই বাড়ি থেকেই নির্বাক যুগের নামকরা চলচ্চিত্র ‘জামাই বাবু’ (১৯৩১)-এর তিনটি রিল খুঁজে পান। কাছেই রয়েছে আনন্দময়ী মন্দির, যেটি সম্ভবত ১৭৮৫ সাল নাগাদ গড়ে উঠেছিল। 

    ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি 

    ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে অনেকগুলি ছবির শুটিং হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য উত্তমকুমারের ব্লকবাস্টার ছবি ‘সন্ন্যাসী রাজা’ (১৯৭৫)। ভাওয়াল সন্ন্যাসী রহস্যের ওপর ভিত্তি করে বানানো চলচ্চিত্র। এখন পর্যটকরা গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিচালিত ‘ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ট্যুরিজম প্রোজেক্ট’-এ থাকতে পারেন। উত্তমকুমার যখন শুটিংয়ের জন্য রাজবাড়িতে ছিলেন, তাঁকে চিংড়ির মালাইকারি রেঁধে খাইয়েছিলেন এক ভদ্রমহিলা। তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। এখানে শুটিং হওয়া আরও দুটি ছবির কথা বলা যায়। সন্দ্বীপ রায়ের ‘টিনটোরেটোর যিশু’ (২০০৮) এবং সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ (২০১৯)।

    পুরুলিয়ায় জয়চণ্ডী পাহাড় ‘হীরক রাজার দেশে’-র জন্য বিখ্যাত। বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের জন্ম হয়েছিল এই জেলায়। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সরকারি ডাক্তার। ‘উত্তরা’ ছাড়াও বুদ্ধদেব এখানে নানা জায়গায় ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ (২০০২), ‘টোপ’ (২০১৭)-র মতো ছবির শুটিং করেছেন। বলিউডেও পুরুলিয়া দেখেছি আমরা। বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানের ছবি ‘লুটেরা’ (২০১৩)-র কথা বলাই যায়। যেখানে সোনাক্ষী সিনহা, রণবীর সিং অভিনয় করেছিলেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও পুরুলিয়া স্থান করে নিয়েছে। ইটালির পরিচালক ইতালি স্পিনেলির ছবি ‘গাঙ্গোর’ (২০১০) তৈরি হয়েছে মহাশ্বেতা দেবীর গল্প অবলম্বনে, যার শুটিং এখানে করা হয়েছিল।

    ‘বরফি’ (২০১৩)

    পাহাড়ের রানি দার্জিলিং বহুদিন ধরেই লোকেশন হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পছন্দ। রাজেশ খান্না এবং শর্মিলা ঠাকুরের ‘আরাধনা’ (১৯৬৯) নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। রণবীর কাপুর এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ‘বরফি’ (২০১৩)-ও খুব জনপ্রিয়। আরেকটি বিশ্বখ্যাত ছবির কথা বলা যায় – সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ (১৯৬২)। নীলাঞ্জনবাবু জানালেন, এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে তাঁদের সংস্থার পক্ষে দার্জিলিং-এ ভ্রমণের ব্যবস্থা করা সমস্যার। তবে কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে ঘুরে আসতেই পারেন। 

    ঝাড়গ্রাম, দার্জিলিংয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের প্রপার্টি রয়েছে। পাবেন থাকা-খাওয়ার সু-বন্দোবস্ত। পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে কয়েকদিন থাকতে পারেন অনায়াসে। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন – 
    West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
    DG Block, Sector-II, Salt Lake
    Kolkata 700091
    Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
    Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, 
    mdwbtdc@gmail.com, 
    dgmrwbtdc@gmail.com

    For enquiries about Khorlo’s film tourism packages, visit www.filmtourism.net

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @