No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    স্নানযাত্রার পর জ্বর এসেছে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার, সারবে আজ

    স্নানযাত্রার পর জ্বর এসেছে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার, সারবে আজ

    Story image

    চারদিকে উষ্ণায়ন বাড়ছে। তার সঙ্গে জল সঙ্কট দেখা দিচ্ছে প্রবল। তাই এবার রথযাত্রাকে সামনে রেখে শিলিগুড়ি ইসকন মন্দিরে বিশেষ যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা এবারই প্রথম ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা জানাবেন বলে শিলিগুড়ি ইসকনের সভাপতি স্বামী অখিলাত্মাপ্রিয় দাস জানিয়েছেন। গত ১৭ জুন জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। তারপর থেকেই জ্বরে আক্রান্ত জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। ৪ জুলাই রথযাত্রার আগের দিন অর্থাৎ আজ জ্বর সারবে। জ্বর সেরে যাওয়ার পরদিনই জগন্নাথদেব রথে চেপে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন। এবার শিলিগুড়ি ইসকনের জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি তৈরি হচ্ছে শিবমন্দিরে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে। সেখানে এবার ১২ জন মাসি জগন্নাথদেবের সেবা করবেন।

     পুরীর রথ যাত্রার একটি আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মায়াপুর ইসকনের রথযাত্রার আকর্ষণও রয়েছে ভক্তদের মধ্যে। কিন্তু শিলিগুড়ি ইসকনের আকর্ষণ একটু অন্যরকম এই কারণে যে, দার্জিলিং, সিকিম বেড়াতে আসা দেশবিদেশের অনেক পর্যটক শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির বেড়াতে আসেন। রথ যাত্রার দিনে ভিড় বাড়ে আরও। শিলিগুড়ি ইসকনের সভাপতি স্বামী অখিলাত্মাপ্রিয় দাস বলেন, এবারে তাঁরা রথযাত্রার জন্য ব্রাজিলের বিদেশী ভক্তদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তাঁরা এবার দড়ি টেনে রথযাত্রার শুভ সূচনা করার আবেদন করেছেন। রথযাত্রা ঘিরে সাত দিন ধরে শিলিগুড়ি ইসকন মন্দির ছাড়া শিবমন্দির মাসির বাড়িতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন ৫৬ রকম খাদ্য সামগ্রীর উপাদান দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হবে জগন্নাথদেবকে। তার সঙ্গে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিলি হবে।

     রথযাত্রার দিন ৫৬ ভোগ নিয়েই জগন্নাথদেব মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন। শিলিগুড়ি ইসকনের ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এবার তিনটি রথ বের হবে। জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে থাকছে হাতির মূর্তি। বলরামের রথের সামনে ঘোড়া আর সুভদ্রার রথের সামনে ময়ূরের মূর্তি থাকছে। রথের শোভাযাত্রায় ব্যান্ডপার্টি আর আদিবাসীদের নৃত্য থাকছে। তাছাড়া আদিবাসীদের মাদল, ধামসা সবই থাকবে। এভাবে গৌড়ীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আদিবাসী সংস্কৃতি মিশিয়ে অন্যরকম বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা হচ্ছে শিলিগুড়ির ইসকন রথে।

    আমেরিকার সানফ্রান্সিসকোতে ১৯৬৮ সালে প্রথম রথযাত্রা শুরু হয়। সেই রথ বেশ সাড়া ফেলে জনমানসে। এরপর সেখানকার মেয়র রথযাত্রাকে জাতীয় উৎসব হিসাবে ঘোষণা করেন। সেই সানফ্রান্সিসকোর রথ আর পুরীর রথযাত্রাকে অনুসরণ করে তাঁরা এবার শিলিগুড়ি ইসকনের রথকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যাচ্ছেন বলে শিলিগুড়ি ইসকন সভাপতি জানিয়েছেন। এবার শিলিগুড়ি ইসকনের রথে বিশেষ ধরনের হাইড্রলিক ব্যবস্থা থাকছে, যার সাহায্যে রথের চূড়া রাস্তায় ওঠানো নামানো যাবে। রাস্তাতে বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য কেবল তারে যাতে রথ বাধাপ্রাপ্ত না হয়, তার জন্য ওই ব্যবস্থা। রথ শিলিগুড়ি হায়দর পাড়ার মন্দির থেকে দুপুর একটায় বের হওয়ার  কথা।

    এখন শিলিগুড়ি ইসকনে জগন্নাথ দেবের মন্দির রং করা হচ্ছে। তার সঙ্গে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার অঙ্গরাজ চলছে। চিত্রশিল্পী দিলীপ কর রং করে সাজিয়ে তুলছেন জগন্নাথদেবকে। ইসকন সাধু শান্তকৃষ্ণ দাস জানান, স্নানযাত্রার দিন থেকে জ্বরে আক্রান্ত জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। তাঁদের এখন জ্বরের কারণে বার্লি, সাবুর সঙ্গে তুলসীপাতা, বাসক, লবঙ্গ দিয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা চলছে। দিনে আট বার এসব দিয়েই ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে। সন্ধ্যায় হচ্ছে আরতি। জ্বরের এই পর্বে জগন্নাথদেব বাইরের ভক্তদের কাউকে দর্শন দিচ্ছেন না।

    এদিকে রথযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে শিলিগুড়ি ইসকনে পর্যটকদের বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বছরের অন্য সময়ে সোম থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এই মন্দিরে পর্যটক ভক্ত মিলিয়ে এক হাজার মানুষের ভিড় হয়। আর শনি-রবিবার সেই সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছে যায়। রথের আগে সে আকর্ষণ অন্য মাত্রা তৈরি করে। এসময় মন্দিরে রাজভোগ বা সাধারণ প্রসাদের চাহিদাও তৈরি হয় বলে ইসকন সভাপতি জানান। কেউ কেউ অনলাইনে বুকিং করে প্রসাদ পেতে চলে আসেন। সকাল এগারোটার মধ্যে অনলাইনে প্রসাদ বুকিং করতে হয়। রাজভোগ প্রসাদের জন্য অনুদান ১০০ টাকা আর সাধারণ প্রসাদের জন্য অনুদান ৫০ টাকা দিতে হয়। রাজভোগে ভাত, ডাল, পকোরা, চাপাটি, চার রকম সব্জি, চাটনি, মিষ্টি দেওয়া হয়। শিলিগুড়ির এই মন্দিরকে গুপ্ত নবদ্বীপধাম বলা হয়। উত্তরপূর্ব ভারতের এটি বৃহত্তম মন্দির। মন্দিরের মধ্যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা, কৃষ্ণলীলার বিভিন্ন দিক কারুকার্য করা আছে। সম্প্রতি পর্যটক ভক্তদের কথা মাথায় রেখে মন্দির চত্বরে কালীয়দমন, গিরিরাজ গোবর্ধন পর্বত লীলার দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মূল শ্রীরাধামাধব মন্দির ছাড়া আরও পাঁচটি মন্দির সেখানে আছে। তাছাড়া মন্দির চত্বরে পার্ক, ফোয়ারা, দীঘি, রেস্তোরাঁ সবমিলিয়ে আধ্যাত্মিক পর্যটনে অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @