No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    “সবাই প্রথম ফোন করে বলে, দিদি একদম বাজেট নেই”

    “সবাই প্রথম ফোন করে বলে, দিদি একদম বাজেট নেই”

    Story image

    ২০০০ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ছবি ‘বাড়িওয়ালি’-র (১৯৯৯) জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব চরিত্রাভিনেত্রী হিসাবে জাতীয় পুরস্কার পান সুদীপ্তা চক্রবর্তী। বাংলা চলচ্চিত্র, থিয়েটার এবং টেলিভিশনের বহু বাঁকবদল দেখেছেন। কী কাজ পাচ্ছেন, আর কী পাচ্ছেন না, সেসব নিয়ে একটুও ভাবিত না হয়ে সবসময় নিজের চরিত্র নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। অভিনয় ছাড়াও সঞ্চালনা, প্রযোজনা এমনকি বিগ বস-এও সদস্য হিসাবে দেখা গেছে তাঁকে। বাড়িওয়ালির মালতী থেকে জ্যেষ্ঠপুত্রের ইলা- দীর্ঘ কুড়ি বছরের জার্নি এবং সিনেমা নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনার কথা উজাড় করে দিলেন বঙ্গদর্শনকে। সাক্ষাৎকার গ্রাহক সুমন সাধু

    •    এখন তো তাহলে পরপর কাজ। ঠিক তিন চার বছর আগেও তো আপনাকে এত চরিত্রে দেখা যায়নি...
    নতুন করে আর কী বলব! ওঠা নামা চলতেই থাকবে। সত্যিই আলাদা করে আর কিছু ভাবি না।

    •    ‘উড়নচণ্ডী’ বা ‘পিউপা’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। তারপরেই ‘বসু পরিবার’ এবং ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’-এ কাজ। এত ভালো ভালো চরিত্র পেতে এতবছর সময় লাগলো কেন?
    তার মধ্যে কিন্তু ‘ময়ূরাক্ষী’, ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’, ‘বুনোহাঁস’, ভিতু’ এই সব ছবিতেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলাম। তাছাড়া ‘ষড়ঋপু’-ও আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই ছবিটা বেশি মানুষ দেখেননি। কিন্তু যাঁরা দেখেছেন প্রত্যেকেই বহ্নি-কে (ষড়ঋপু ছবিতে অভিনীত চরিত্র) নিয়ে কথা বলেছেন। ইটস নট ওনলি ‘উড়নচণ্ডী’ অ্যান্ড ‘পিউপা’।

    •    জ্যেষ্ঠপুত্রের সঙ্গে যেহেতু ঋতুপর্ণ ঘোষের নাম জড়িয়ে আছে, তাই স্বাভাবিক ভাবেই ইলার পাশে মালতীর নামটাও চলে আসছে। অনেক দর্শক কিন্তু দু’টো চরিত্র পাশাপাশি রেখে আলোচনা করছেন...
    তাই? এটা খুব ভালো লাগলো শুনে। ‘বাড়িওয়ালি’ মানে সেটা ১৯৯৯ সালের ঘটনা। আর আজ ২০১৯। মাঝখানে কুড়িটা বছর চলে গেছে। দ্যাখো, আমি সমস্ত চরিত্রই মন দিয়ে করার চেষ্টা করি। তখন তো কুড়ি বছর বয়স আরও কম ছিল। তখন আমার দেখা, জানা সবটাই কম ছিল। তখনকার ম্যাচিওরিটি অনুযায়ী ওই চরিত্রটাকে হ্যান্ডেল করেছিলাম। এখন আমার বোঝার জ্ঞান দিয়ে জ্যেষ্ঠপুত্রের ইলা চরিত্রটাকে হ্যান্ডেল করেছি। আর তখন ঋতুদা যেমন সাহায্য করেছিলেন, এখন কৌশিকদাও তেমন সাহায্য করেছেন। 

    •    মালতী চরিত্রটার জন্য যদি আপনি জাতীয় পুরস্কার না পেতেন, তাহলে কি এত আলোচনার মুখ হয়ে উঠতেন? কী মনে হয়?
    একদমই তাই। তাই-ই তো হয়। এই ধরনের স্বীকৃতি তো মানুষকে সামনের দিকেই নিয়ে আসে। তুমিই বলো, ‘পিউপা’ যখন রিলিজ করেছিল ক’টা মানুষ তখন আলোচনা করেছিল! সারা পৃথিবী ঘুরে প্রচুর সুনাম অর্জন করে তারপর কিন্তু আলোচনার মুখ হয়ে উঠেছিল এখানে। নাহলে ওটাও হয়তো হারিয়ে যেত। আর আমার মনে হয় সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন যেটা সামনে আসার তখন সেটা আসবেই।

    •    বসু পরিবারে এত কাস্ট থাকলেও আলোচনার মুখ কিন্তু সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং অপর্ণা সেন। সেখানে বেশিরভাগ দর্শক আপনাকে নিয়েই আলোচনা করছেন। আপনি নজর কেড়েছেন। আলাদা ভাবে বসু পরিবার টিম থেকে কোনো শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছেন? 
    রিনাদি (অপর্ণা সেন) প্রিমিয়ারের দিন হল থেকে বেরিয়েই বললেন, তুই যে কী করিস! তোকে আর কী বলব! মানে উনি যেভাবে আদর মাখানো প্রশংসা করেন সেইভাবে বললেন। আমার পরিচালক সুমন ঘোষ, তিনি নিজেই খুব অবাক হয়ে গেছেন। আমাকে বললেন, আমি তো ভাবিইনি তোমার চরিত্রটা নিয়ে এত কথা হবে। সৌমিত্রজেঠু আমার সামনেই সুমনকে বললেন, যে জাত শিল্পী তাকে কখনও দাবিয়ে রাখা যায় না। সে তার কাজের মাধ্যমে উপরে উঠে আসবেই। এটা উনি আমার সামনেই বললেন। এগুলোই তো পাওয়া। এর বেশি কিছু না।

    •    আপনার কি মনে হয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে গেলে পিআর করা খুব গুরুত্বপূর্ণ? 
    আমি তো সবথেকে বাজে পারি এটা করতে। তারপরেও তো টিকে আছি (হেসে)। টুকটুক করে ব্যাটিং করেই চলেছি। 

    •    কিন্তু এটা নতুনদের জন্য কতটা প্রযোজ্য?
    (একটু থেমে) আমার মনে হয় কাজই শেষ কথা বলে। একটা সিনেমা যখন রিলিজ হয়, যতই প্রমোশন হোক আর যতই লাইক, কমেন্ট হোক না কেন, ফাইনালি দর্শকের পছন্দ হলে ঠিক একজন অভিনেতাকে তিনি খুঁজে বের করে নেন।

    •    হ্যাঁ সেটা ঠিক। কিন্তু আপনি যখন কাজ করতে আসছেন তখন তো পরিস্থিতি আলাদা ছিল। 
    অবশ্যই। তখন এত মিডিয়া ছিল না, এত ধরনের এক্সপোজার ছিল না। এখন প্রচুর টিভি চ্যানেল, ওয়েব পোর্টাল, নিউজপেপার চলে এসেছে। এমনকি হাতে একটা ফোন নিয়ে আমরা সারাক্ষণ এন্টারটেইন হচ্ছি। তাছাড়া এখানে ফাংশান, ওখানে জলসা কিছু না কিছু এখন হয়েই চলেছে। এত হাতছানির মধ্যেই কিন্তু মাথা চাড়িয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই তখন এত পিআর, এত প্রমোশন দরকার ছিল না। দর্শককে হলমুখী করার জন্য যে প্রোমোশন, সেটা পুরোপুরিই পাল্টে গেছে তার ফলে। আর সময়ের সঙ্গে সবই পাল্টাচ্ছে। সময়ের দাবি মেনে তাই স্ট্র্যাটেজিও পাল্টাতে হবে।

    •    চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন জিনিস আপনার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ? 
    প্রাথমিকভাবে স্ক্রিপ্ট। পছন্দের পরিচালক হলে তো যখন তখন ঝাঁপিয়ে পড়া যায়। আর যদি নতুন পরিচালক হন, যাঁর সম্পর্কে আমি অতটা জানি না, তাঁর সঙ্গে একটু বেশি কথা বলতে হয়। তিনি খাতায় পেনসিলে যেটা দেখাচ্ছেন, সেটা বাস্তবে নামাতে পারবেন কিনা বা তাঁর দেখার চোখটা পরিষ্কার আছে কিনা সেগুলোও দেখতে হয়। আর আমি কিন্তু নতুনদের সঙ্গেই বেশি কাজ করি।

    •    কম টাকায় ভালো চরিত্র পেলে করবেন?
    কলকাতা শহরে কম টাকাই পাওয়া যায় ভাই। খুব বেশি টাকায় তো আজ অবধি কোনো কাজ করেছি বলে মনে পড়ছে না। আজ অবধি কেউ ফোন করে বলেনি আমাদের অনেক বাজেট আছে, বলুন আপনি কত চান। সবাই প্রথম ফোন করে বলে, দিদি একদম বাজেট নেই। কলকাতায় আমাকে কম টাকাতে কাজ করতে হবে, এটা ধরেই নিয়েছি। তারপর তো আজ পাব, কাল পাব করে আটকে থাকে অনেককিছু। •    ‘অনেক দিনের পরে’ ছবিতে আপনার চরিত্রটা কীরকম?
    এখানে আমার চরিত্রের নাম দেবলীনা। দর্শকের একটা কমপ্লেন আছে আমায় কখনও আরবান চরিত্রে দেখা যায় না কেন। এখানে আমার চরিত্রটা খুবই আরবান, এলিট, কর্পোরেট একজন মহিলা। কথায় কথায় ইংরেজি বলে। অন্যরকম চরিত্র। মজা পেয়েছি।

    •    আমরা যারা সিনেমাপ্রেমী তারা বলে থাকি সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল-এর যুগ? বা তারপর বুদ্ধদেব-গৌতম-অপর্ণা-ঋতুপর্ণ যুগ। এখন কি কোনো পরিচালকের নাম টেনে একটা সময়কে নির্ধারণ করতে পারি? যদি পারি, তাহলে সেখানে কাদের নাম করবেন আপনি?
    হ্যাঁ অবশ্যই। কয়েকবছর পর বলবে কৌশিক-কমলেশ্বর-শিবপ্রসাদ-সৃজিতদের যুগ। এঁরা সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণালদের সমকক্ষ হয়ে উঠছেন কিনা সেটা তো বলতে পারব না। তবে এঁরা প্রত্যেকেই খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। এর পাশাপাশি কিছু নতুন পরিচালক যেমন- ইন্দ্রাশিস আচার্য, সৌকর্য ঘোষাল, অভিষেক সাহা, মানস মুকুল পাল এঁদের নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। আর আদিত্যবিক্রম সেনগুপ্ত যে মাপের কাজ করছেন, তাতে তিনি একাই একটা যুগকে ডিফাইন করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @