No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    স্নায়বিক চিকিৎসার অন্যতম ঠিকানা ‘ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতা’

    স্নায়বিক চিকিৎসার অন্যতম ঠিকানা ‘ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস কলকাতা’

    Story image

    ভারতে নিউরোসার্জারির জন্য বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থাকলেও পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন যাবৎ একটিও কেন্দ্র ছিল না। তাই আমাদের দেশের এই অংশ থেকে রোগীরা স্নায়বিক রোগের চিকিত্সার জন্য বাধ্য হতো দূরে পাড়ি দিতে। ফলে, খরচও পড়ত বিস্তর, যা বহন করা অনেকের ক্ষেত্রেই ছিল অসাধ্য। আজ থেকে ১৩ বছর আগে যখন ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস, কলকাতা (আই.এন.কে) তৈরি হল, তখন এটি যেন নিমেষেই বিশাল শূন্যতা পূরণ করেছিল। এই বছরের ১৫ এপ্রিল ১৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে টিম আই.এন.কে, কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য উদযাপন করলো।

    উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানের জন্য, ‘আই.এন.কে’, সি.এন.বি.সি.টি.ভি ১৮ দ্বারা পরপর দুই বছর (২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫) ‘বেস্ট সিঙ্গেল স্পেশালিটি নিউরো হসপিটাল’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে

    আগে স্নায়ু রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষকে ভরসা করতে হতো ভেলোর, ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই এবং দক্ষিণের অন্যান্য কেন্দ্রগুলির ওপর। কিন্তু কলকাতায় ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই, বদলেছে সেই চিত্রটা। প্রতিষ্ঠানটি একক প্রয়াসে স্নায়বিক রোগীদের পাশে থকেছে। শুধু তাই নয়, এই প্রতিষ্ঠানের তরফে প্রতিনিয়ত রোগীদের মতামতের ভিত্তিতে সার্ভেও করা হয় যাতে দক্ষিণের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে পারে আই.এন.কে।

    ইনস্টিটিউটটিতে রয়েছে বিশ্বের সর্বোত্তম সুযোগ সুবিধা, যেমন - উন্নত সরঞ্জাম, দক্ষ ডাক্তার এবং রোগীদের সুষ্ঠুভাবে দেখভালের ব্যবস্থাপনা। এমনকি যেসব রোগীরা চিকিৎসার অতিরিক্ত খরচ বহন অক্ষম তাদেরও পাশে থেকেছে এই সংস্থা। একটি নির্দিষ্ট ডোমেইন যেখানে স্ট্রোক, মৃগীরোগ, পারকিনসন রোগ, টিউমার সার্জারি ইত্যাদি রোগের চিকিৎসার সুযোগও রয়েছে এখানে। ফলস্বরূপ, রোগীরা পাচ্ছেন এক ছাদের নীচে পৃথক পৃথক রোগের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসার সুযোগ। আই.এন.কে-এর সমস্ত ডাক্তার চিকিৎসার পুরোটা সময় ইনস্টিটিউটের সঙ্গেই থাকেন, সংস্থার চিকিৎসা ব্যতিরেকে কেউই ব্যক্তিগত চেম্বার করেন না।

    দিনের বেলার পাশাপাশি রাতের বেলাতেও সবসময় থাকে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন চিকিৎসকদের সমিল্লিত বৈঠকে চলে কঠিন কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত আলোচনা। আজ বলে নয়, যখন দেশে কোভিডের গ্রাফ তুঙ্গে, তখনও সাধারণ মানুষের জন্য খোলা ছিল এই সংস্থার দরজা। যেকোনো পরিস্থিতিতে রোগীদের পাশে থাকার এই ব্রতই ইনস্টিটিউটের বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম। উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদানের জন্য, ‘আই.এন.কে’, সি.এন.বি.সি.টি.ভি ১৮ দ্বারা পরপর দুই বছর (২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫) ‘বেস্ট সিঙ্গেল স্পেশালিটি নিউরো হসপিটাল’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে, পাশাপাশি দেশ-বিদেশের নানা মহলে প্রভূত প্রশংসাও পেয়েছে।

    প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে, ডঃ হৃষিকেশ কুমার (ভাইস-চেয়ারম্যান) সংস্থার একটি উন্নতি সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেন। এই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়, বছরের পর বছর ধরে কীভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রতিষ্ঠানটির দক্ষতা এবং শৈলী বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৬ এবং ১৭ এপ্রিল স্পাইনাল ইউনিটের তরফে একটি লাইভ সার্জারি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নিউরোসার্জন এবং স্পাইনাল সার্জনরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    অনুষ্ঠানে ও.বি.ই এবং আই.এন.কে-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আর.পি সেনগুপ্ত, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সমস্ত দাতা ও শুভানুধ্যায়ী এবং I-NK-এর দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান৷ পাশাপাশি তিনি উপস্থিত সকলকে আই.এন.কে (১০, পশ্চিম রেঞ্জ, এবং ৬বি, এ.জে.সি বোস রোড) এর অ্যানেক্সি বিল্ডিংগুলি সম্পর্কেও জানান।

    এদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সকলেই সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা প্রদান করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন, কলকাতার মাননীয় মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রধান সচিব শ্রী এস.এস.নিগম, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আশিস চট্টোপাধ্যায়, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, এবং অভিনেত্রী শ্রীমতি ইন্দ্রাণী হালদার।

    এছাড়াও একটি অনানুষ্ঠানিক কথোপকথনে প্রফেসর সেনগুপ্ত আই.এন.কে-এর আরও উন্নতির জন্য তাঁর স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে একটি ধারণা দেন। তিনি এমন একজন মানুষ যিনি সব সময় কাজের মধ্যেই ডুবে থাকতে চেয়েছেন। সামান্য বিশ্রামেও কাজের গতি হ্রাস পাক, এমনটা তিনি কখনোই চাননি। ইতিমধ্যেই তিনি একটি নিউরোসায়েন্স ক্যাম্পাস তৈরির কাজে অগ্রসর হয়েছেন, যাকে তিনি কাব্যিকভাবে ‘স্নায়ু তীর্থ’ নামে অভিহিত করেন। পাশাপাশি আরও ভালো কাজের জন্য এই সফরে তিনি প্রতিমুহূর্তে কর্তৃপক্ষ, দাতা এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে সমর্থন প্রার্থনা করেন।

     

    প্রতিবেদনটি ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @