No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    ৪৫ বছর ধরে বর্ধমানবাসীকে মাতিয়ে রেখেছে দুলালের চপ

    ৪৫ বছর ধরে বর্ধমানবাসীকে মাতিয়ে রেখেছে দুলালের চপ

    Story image

    মাটির উনুন। তাতে হালকা আঁচ। তেতে উঠছে কালচে কড়াই। দোকান ঘিরে লম্বা লাইন। নির্নিমেষ চেয়ে আছে সেই তেতে ওঠা কড়াইয়ের দিকে। তাতে লালচে চপ, পেঁয়াজি, বেগুনির ভিড়। ছান্তা থেকে ছেঁকে ছেঁকে তোলার অপেক্ষা। তাহলেই সবাই চেঁচিয়ে বলে উঠবেন, “দাদা এদিকে”, “আমাকে দশটা আগে দিয়ে দিন”, “অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, আমাকে ছেড়ে দিন না” ইত্যাদি ইত্যাদি। আমাদের বানিয়ে দেওয়া এই শব্দ ‘চপ’ কীভাবে এসেছে জানেন তো? মাংস টুকরো করে কেটে কেটে ভাজা থেকে। অর্থাৎ চপ করে ভাজা। 

    দুলালের তালমিছরির নাম আমরা তো প্রত্যেকেই জানি, কিন্তু আরেকটু অতলে গিয়ে এই দুলাল যদি গরম তেলে হঠাৎ করে গা ডুবিয়ে ভেসে ওঠেন? ব্যাপারটা অ্যাবসার্ড হলেও কিন্তু সত্যি। বর্ধমান শহরের এক প্রান্তে ছোট্ট একটা দোকান। তেলেভাজার। মূলত চপ, বেগুনি এবং পেঁয়াজি। দোকানের বর্তমান মালিক দিলীপ নাগ। তাঁরা তিন ভাই। বহু বছর আগে এখানেই একটা মিষ্টির দোকান ছিল। দিলীপবাবুর বাবা দুলাল নাগের জ্যাঠা অংশ আলাদা করে নেয়। তখন জ্যাঠারা করে ওষুধের দোকান। পরবর্তীকালে দুলাল নাগ ওই মিষ্টির দোকান তুলে দিয়ে তেলেভাজা ও ডালপুরির দোকান করে। সেইসময় রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় দুলালের চপের দোকান। আজ এই দোকানের বয়স প্রায় ৪৫ বছর।

    সকালে চপ (৩ টাকা থেকে ৫ টাকা), বেগুনি (৩ টাকা থেকে ৫ টাকা), পেঁয়াজি (৫ টাকা), ডালপুরির সঙ্গে তরকারি প্রতি পিস ৪ টাকা। এখন বিকেলে ডালপুরি হয় না। এই ছোট্ট দোকানে কর্মচারী দুই/তিন জন। দুলালবাবু নিজে প্রথমদিকে চপ, পেঁয়াজি বানাতেন। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, আলুর চপের পুর কিন্তু দুলালবাবুরই আবিষ্কার। বয়সজনিত কারণে শরীর ভাঙলেও নিয়ম করে দোকানে আসেন সকালে-দুপুরে। খুব সকালে দোকান খোলা হয় এবং সেই রাত্রে বন্ধ হয়। এরকম তেলেভাজার দোকান খুব কমই আছে, যারা প্রায় পনেরো ঘণ্টা ‘সার্ভিস’ দিয়ে যাচ্ছেন। দুলালবাবুর বড়ো ছেলে দিলীপ নাগ-ই প্রধানত দোকান দেখাশোনা করেন। 

    বর্ধমানের বিসি রোডের পাশে বড়োবাজার, সেখানেই খুঁজে পাওয়া যাবে বর্ধমানের দুলালকে। বারোমাস দোকানের সামনে ভিড় দেখলে একবার তেলেভাজা চেখে দেখার ইচ্ছা আপনার হবেই। বঙ্গদর্শনের পাতায় এর আগে যেমন রামপ্রসাদী শরবৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল, সেই তালিকায় দুলাল নাগের চপকেও রেখে দিতে হয়। কারণ বর্ধমান শহর আমাদের হৃদয়ে যতদিন বাঁচবে, রামপ্রসাদ, দুলালরাও ততদিন স্বসম্মানে থেকে যাবেন।

    তথ্য এবং ছবি কৃতজ্ঞতা- স্নেহা সেন

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @