No Image

   

00:00
00:00
Volume

 0 Songs

    চিরকালীন ঘুমের দেশে যাদবপুরের দাপুটে ‘ডন’ 

    চিরকালীন ঘুমের দেশে যাদবপুরের দাপুটে ‘ডন’ 

    Story image

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সর্বত্র যার অবাধ যাতায়াত ছিল, তার নাম ডন। অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী, গবেষক, ছাত্র প্রত্যেকের আদরের ডন ঘুরে বেড়াত সুরুচি ক্যান্টিন থেকে মিলনদা, তিন নম্বর থেকে চার নম্বর গেট, সায়েন্স-আর্টস মোড় থেকে ঝিলপাড়। একটা মায়ার সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে থাকা চিরকালীন বন্ধন। ডন একটি পোষা কুকুরের নাম। ব্যক্তিগত পোষ্য নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পোষা কুকুর ছিল সে। যে যা খেতেন, ডন পাশে থাকলে তাকেও খাওয়াতেন। ডন কোনোদিন কারোর ক্ষতি করেনি। বরং বলা ভালো শান্ত স্বভাবের এই পোষ্য নজর কেড়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেরই। ডনের অকস্মাৎ মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এই ডনের বয়স কারোর জানা নয়, সে কতদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে সেই তথ্যও অজানা। কিন্তু ডনের রাজত্ব প্রত্যেককে আকৃষ্ট করেছে বৈকি। তাকে ভিক্ষা করতে হয়নি। যে যা দিয়েছেন তা ভালোবেসেই।

    শোনা যায়, ডনের আরেকটি প্রচলিত নাম সাড়ে তিন পা। এক দুর্ঘটনায় পায়ের অর্ধেকটা চলে গিয়েছিল। সেই থেকেই প্রতিবন্ধী। পায়ের এই সাময়িক ব্যথা তাকে হার মানাতে পারেনি। সব অগ্রাহ্য করে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় দাপিয়ে বেরিয়েছে। ডনের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করছেন পড়ুয়ারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ছবি ভাইরাল হয়ে উঠেছে। কেউ কি জানে, মনখারাপের ব্যথা কতটা গভীর! আসলে কোনো ক্ষতই মুছে ফেলা সম্ভব না। ডন যে এতগুলো বছর দাপিয়ে বেড়ালো, আদরে কেটে গেল কত কত বসন্ত- তার এই শূন্যস্থান পূরণ হবে না কোনোদিন। 

    শেষপর্যায়ে বয়সজনিত কারণে বেশ ঝিমিয়ে থাকত ডন। রোববার সবটা ফুরলো। ডন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেল। স্বসম্মানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সাদা কাপড়, ফুল, ধূপ, চন্দনে পশু সমাধিতে এখন সে ঘুমোচ্ছে। চিরকালীন ঘুম।

    ছবিসূত্র- ফেসবুক 

    Tags:

    বঙ্গদর্শনের সপ্তাহের বাছাই করা ফিচার আপনার ইনবক্সে পেতে

    @